জেনেনিন অনলাইন ক্লাসের সুবিধা এবং অসুবিধা গুলো কি কি ?

অনলাইন ক্লাস করার সুবিধা এবং অসুবিধা (Online Learning Advantages and disadvantages in Bangla) গুলো কি কি ? এই বিষয়ে আজকে আমরা এই আর্টিকেলে জানবো।

অনলাইন ক্লাসের অসুবিধা
অনলাইন ক্লাসের কুফল এবং সুফল

আমরা জীবনে ভালো মানুষ হয়ে উঠার ক্ষেত্রে পড়াশুনার মহত্ব অতুলনীয়।

মানুষ শিক্ষার মাধ্যমেই জীবনে চলার পথ খুজে পায় এবং অন্ধকার থেকে আলোর পথে অগ্রসর হয়।

প্রত্যেকটি শিশুর জীবনে পাঠদান করা আবশ্যক।

আর বর্তমান সময়ে ইন্টারনেটের সুবিধা চলে আসার পর থেকে শিক্ষা গ্রহণ করাটা আগের থেকে অধিক সুবিধাজনক হয়ে দাঁড়িয়েছে।  

ইন্টারনেট আসার ফলে আজ বাচ্চা ঘরে বসে একটি computer বা smartphone মাধ্যমে বিভিন্ন ধরণের class গুলো অনলাইনে করতে পারছে। 

শিক্ষক দের ক্ষেত্রেও জায়গায় জায়গায় গিয়ে পোড়ানোটা অনেক কষ্টের ব্যাপার ছিল এবং এতে প্রচুর সময় নষ্ট হতো।

তবে, এখন অনলাইন ক্লাস করার প্রচলন বৃদ্ধি পাওয়ার পর শিক্ষকরাও ঘরে বসে একসাথে প্রচুর বাচ্চাদের / ছাত্রদের ক্লাস করাতে পারছেন।

এছাড়াও, অনলাইনে ক্লাস করার সুবিধা আরো অনেক রয়েছে যদিও এর কিছু অসুবিধা গুলোও রয়েছে।

তাই, আজকের এই আর্টিকেলে মাধ্যমে অনলাইন ক্লাসের সুবিধা এবং অসুবিধা গুলো কি কি এই বিষয় নিয়ে আমরা বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করবো। 

অনলাইন ক্লাসের সুবিধা অসুবিধা গুলো বাংলাতে

এমনিতে আগের থেকেই YouTube এবং online website গুলোর মাধ্যমে আমরা বিভিন্ন ধরণের তথ্য, জ্ঞান এবং কোর্স গুলো করে থাকতাম।

তবে, lockdown এর পর থেকে যখন স্কুল কলেজ গুলো বন্ধ হয়ে গেলো মূলত তখন থেকেই online video conferencing এর দ্বারা ছাত্রদের পড়াশোনা করানোর এক নতুন উপায় এর জন্ম হলো।

এমনিতে ভিডিও চ্যাটিং এর মাধ্যমে আগেও ক্লাস করানো হতো যদিও এর তেমন বিশেষ চাহিদা বা প্রচলন কিন্তু ছিলোনা।

তবে, এখনের সময়ে প্রায় প্রত্যেকেই এই অনলাইনে শিক্ষা গ্রহণের উপায় বা প্রচলন টিকে গ্রহণ করে এর প্রচুর লাভ নিচ্ছেন।

অনলাইনে ক্লাস করার সুবিধা গুলো

আমরা আজকের এই আর্টিকেলের শুরুতেই অনলাইনে ক্লাস করার লাভ এবং সুবিধা গুলোর বিষয়ে জানবো এবং তারপর অনলাইন ক্লাস এর অসুবিধা গুলোর বিষয়ে জেনেনিব।

Technology প্রতি জাগরুক হওয়া

বর্তমান সময়ে সব কিছু ডিজিটাল হওয়ার সাথে সাথে পড়াশুনাও ডিজিটাল ভাবে করানো হচ্ছে।

সময়ের সাথে সাথে নিজেকে আপডেট করা এখন অনেক জরুরি হয়ে দাড়িয়েছে কারণ আজকাল সব ক্ষেত্রেই প্রতিযোগিতা বেড়ে গেছে।

এক্ষেত্রে পড়াশুনায় হোক বা চাকরির ক্ষেত্রেই হোক ডিজিটাল এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞান থাকাটা অনেক জরুরি। 

অনলাইন ক্লাস করার ফলে ছাত্ররা এবং শিক্ষকরা নতুন নতুন পদ্ধতিতে technology ব্যবহার করতে শিখতে পারছে। 

অনলাইন ক্লাস করার জন্য বিভিন্ন টেকনোলজি ব্যবহার হয়ে থাকে যেমন  বিভিন্ন apps, audio এবং video software, internet ইত্যাদির মাধ্যমে পড়াশুনা করানো হয়ে থাকে, এরফলে ছাত্র ছাত্রী এবং শিক্ষক উভয়পক্ষের টেকনোলজির প্রতি জ্ঞান বাড়ছে।

সময় বেচে যায়

অনলাইন ক্লাস করার ফলে অতিরিক্ত সময় নস্ট হওয়া থেকে বেচে যায়।

অনলাইন ক্লাসের ফলে ছাত্রছাত্রীরা ঘরে বসেই শিক্ষা লাভ করতে পারে এরজন্য দূরে গিয়ে কোচিং ক্লাস করতে হয়না।

আজকাল অনেক অনলাইন এডুকেশন সেন্টার / ওয়েবসাইট খোলা হয়েছে যেখানে ছাত্রদের অনলাইন ক্লাস দেওয়ার সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। 

এর ফলে আশা যাওয়ার সময় বেচে যাচ্ছে এবং সেই সময়টুকু নিজের ইচ্ছা হিসেবে অন্যান্য কাজে লাগানো সম্ভব। 

নতুন নতুন স্কিলস শিখার আগ্রহ বারে

অনলাইন ক্লাস করার ফলে শিখার আগ্রহ বেরে যায় কারণ অনলাইন ক্লাসে ভিডিও অডিওর মাদ্ধমে ক্লাস হয়ে থাকে ফলে স্টুডেন্টসরা অতি আগ্রহের সাথে ক্লাস করে থাকে এবং নতুন নতুন বিভিন্ন স্কিলস শিখে থাকে। 

বর্তমান সময়ে পড়াশুনার সাথে সাথে এমন অনেক স্কিলস থাকে যেগুলো অনলাইন ক্লাস এর মাধ্যমে করে বাচ্চারা নিজেদের এক্সপার্ট বানাতে পারছে।

যেমন abacus ক্লাস, grammar ক্লাস, drawing ক্লাস, activity ক্লাস ইত্যাদি অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে ঘরে বসেই শিখা সম্ভব হয়ে উঠেছে।

মনের ভয় দূর করা যায়

এমন অনেক বাচ্চা থাকে যারা স্কুলে পড়াকালীন পড়া বুঝতে অসুবিধা হলে নিজেদের মনের ভয়ের জন্য শিক্ষকের কাছে  প্রশ্ন করতে সংকোচ করে থাকে এবং ক্লাসে করানো বিভিন্ন curriculum থেকে নিজেদের দূরে রাখে। 

এর ফলে বাচ্চাদের জ্ঞান এর বিকাশে বাধা আসতে শুরু হয়।

এক্ষেত্রে অনলাইন ক্লাস করার মাধ্যমে বাচ্চারা কোনো রকম ভয় সংকোচ ছাড়াই শিক্ষকদের বিভিন্ন প্রশ্ন করে সহজে নিজের মনের সন্দেহ গুলো দূর করে অধিক ভালো করে জ্ঞান নিয়ে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারছেন। 

অনলাইন ক্লাস করার ফলে ছাত্র এবং শিক্ষকের মধ্যে সম্পর্ক সহজ হয়ে উঠে এবং বাচ্চারা শিক্ষকের সাথে খুলে মিশতে পারে।

অনলাইন ক্লাস করার অসুবিধা

চলুন এবার আমরা অনলাইনে পড়াশোনা করার সাথে জড়িত অসুবিধা গুলোর বিষয়ে জেনেনেই।

ইন্টারনেট থাকা জরুরি

অনলাইন ক্লাস করার জন্য ইন্টারনেট থাকা খুবই জরুরি।

কারণ ইন্টারনেট ছাড়া অনলাইন ক্লাস করা সম্ভব নয়।

এছাড়া, ক্লাস করার জন্য আপনার কাছে একটি laptop, computer বা ভালো smartphone থাকতে হবে।

যদি ক্লাস চলাকালীন ইন্টারনেট slow হয়ে যায় তখন ক্লাস করতে অসুবিধা হয়ে যায় আর তখন কোনো ভিডিও বা অডিও দেখা যায়না।

এক্ষেত্রে ক্লাস আধাতেই শেষ করতে হয় বা ভালো করে ক্লাস করা সম্ভব হয়ে দাড়ায়না। 

অনলাইন ক্লাস করার জন্য ফাস্ট ইন্টারনেট কানেকশন থাকার সাথে সাথে স্মার্ট ফোন বা কম্পিউটার এর আবশ্যক।

তাই এমন  অনেক মদ্ধবিত্ত পরিবার রয়েছে যাদের পক্ষে বাচ্চাদের smartphone বা laptop কিনে দেওয়াটা সম্ভব হয়ে উঠেনা।

পড়ার জন্য সঠিক পরিবেশ তৈরি না হওয়া

স্কুলের পড়া এবং অনলাইনে ক্লাস করার মধ্যে পরিবেশের অনেক পার্থক্য অবশই থাকবে। 

কারণ স্কুলের পরিবেশ সম্পূর্ণ আলাদা যেখানে বাচ্চারা অন্যান্য বাচ্চাদের সাথে কথাবার্তা বলে থাকে, খেলা ধুলা করা এবং ছাত্রদের মনে একরকম সকরাত্মক ভাব থেকে থাকে। 

পওড়াশুনা করার ক্ষেত্রে শিক্ষক এবং ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে একটি সম্পর্ক তৈরি হয়ে থাকে যা অনলাইন ক্লাসের দ্বারা সহজে হয়ে দাড়ায়না। 

এছাড়া, বাচ্চারা যখন ঘরে বসে অনলাইন ক্লাস করে থাকে তখন একা থাকার ফলে অনেক সময় পড়তে মন বসেনা এবং একা একা ভাব হয়ে থাকে।

এর বিপরীতে স্কুলে থাকলে সব ছাত্র ছাত্রীরা মিলে একসাথে ক্লাস করে থাকে যার ফলে বাচ্চারা একাভাব অনুভব করেনা এবং পড়াশোনাও মন দিয়ে হয়। 

তাই পড়ার ক্ষেত্রে সঠিক পরিবেশ থাকা খুবই জরুরি কিন্তু অনলাইন ক্লাসে এটি সম্ভব হয়ে উঠেনা।

স্বাস্থ্য এবং চোখের উপর খারাপ প্রভাব পড়ে

আমরা সকলেই জানি অধিক পরিমাণে ইলেকট্রনিক বস্তু ব্যবহার করা আমাদের স্বাস্থ্য এবং মস্তিষ্কের জন্য হানিকারক।

অনলাইন ক্লাস করার ক্ষেত্রে বাচ্চাদের ঘন্টার পর ঘন্টা এক জাগায় বসে মোবাইল ফোনের স্ক্রিন, ল্যাপটপের স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকতে হয়।

এর ফলে বাচ্চাদের অনেক রকম চোখের  সমস্যা দেখা দিতে পারে। 

মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপের স্ক্রিন থেকে আসা নীল রশ্মি চোখের জন্য ক্ষতিকর এবং এর থেকে না না রকম সমস্যা দেখা যায় যেমন ছোটো বয়স থেকেই চশমা নিতে হয়, চোখে জল পড়া, চোখ জ্বালা করা ইত্যাদি। 

এছাড়া অনেকটা সময় এক জাগায় বসে ক্লাস করার ফলে শরীরে অধিক অলসতা এসে যায়।

অনুশাসনের অভাব

ছাত্র ছাত্রীরা যখন স্কুল কলেজে পড়াশুনা করতে গিয়ে থাকে সেখানে কিছু নির্দিষ্ট নীতি নিয়ম বানানো থাকে যেগুলো মেনে পড়াশুনা করতে হয়।

উদাহরণস্বরূপ স্কুল কলেজে যাওয়ার নির্দিষ্ট সময় থাকে ঠিক সময়ে পৌছাতে না পারলে স্কুলের গেইট বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এর ফলে ছাত্ররা সময়ের মূল্য বুঝতে শিখে এবং সঠিক সময়ের ব্যবহার শিখে।

এক্ষেত্রে অনলাইন ক্লাসে কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম থাকেনা এবং ছাত্ররা যদি দেরি করে ক্লাস join করে তাহলেও সেই ক্লাসটি স্কিপ করে পরের ক্লাস করা যায়।

তাই অনলাইন ক্লাসে অনুশাসনের কমি থাকার ফলে ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে অনুশাসনের অভাব দেখা দিচ্ছে।

ইন্টারনেটের দুরূপয়োগ করা

বর্তমান সময়ে ঘরে ঘরে ইন্টারনেটের সাহায্যে স্টুডেন্টদের অনলাইন ক্লাস করানো হচ্ছে।

উদাহরণস্বরূপ করোনা ভাইরাস আসার পর থেকে অনলাইন ক্লাস করানোর চাহিদা বেশি পরিমাণে বেড়ে গেছে।

স্কুল কলেজ বন্ধ থাকার ফলে স্টুডেন্টসরা ঘরে বসে অনলাইন পড়াশুনা করছে।

এক্ষেত্রে মোবাইল, ল্যাপটপের এবং ফাস্ট ইন্টারনেটের দরকার পড়ছে। 

তাই  বাচ্চারা ক্লাস করার বাহানা দিয়ে অনেক সময় ইন্টারনেটের দুরূপয়োগ করে থাকে।

যেমন বিভিন্ন ধরণের game খেলে নানান রকমের ভিডিও দেখা ইত্যাদি।

এক্ষেত্রে অভিভাবকরা ধ্যান না দেওয়ার ফলে এভাবে বাচ্চারা ঘন্টার পর ঘন্টা সময় নষ্ট করে থাকে। 

এভাবেই, স্টুডেন্টসদের পড়ার ক্ষেত্রে ভালো করে মন বসে না এবং একাগ্রতার কমি আসতে দেখা যায়।

 

আজকে আমরা কি শিখলাম ?

তাহলে বন্ধুরা আজকের আর্টিকেলের মাধ্যমে আমরা অনলাইন ক্লাসের সুবিধা এবং অসুবিধা গুলোর বিষয়ে জানতে পারলাম।

আশা করছি আজকের আর্টিকেল আপনাদের পছন্দ হয়েছে।

যদি আমাদের আজকের আর্টিকেল, advantages and disadvantages of online education আপনাদের ভালো লেগে থাকে তাহলে আর্টিকেলটি সোশ্যাল মিডিয়াতে অবশই শেয়ার করবেন।

এছাড়া, আর্টিকেলের সাথে জড়িত কোনো ধরণের প্রশ্ন বা পরামর্শ থাকলে নিচে কমেন্ট করে জানিয়ে দিবেন।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error:
Scroll to Top
Copy link