অ্যাসাইনমেন্ট কি ? অ্যাসাইনমেন্ট লেখার সঠিক নিয়ম জেনে রাখুন

অ্যাসাইনমেন্ট কি ? অ্যাসাইনমেন্ট লেখার নিয়ম কি ? আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আমরা সম্পূর্ণটা বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করতে চলেছি। 

অ্যাসাইনমেন্ট লেখার নিয়ম
কিভাবে অ্যাসাইনমেন্ট লিখতে হয় ?

আমাদের ক্লাস যত উঁচু হতে থাকে লেখাপড়াও তত জটিল ও বিষয়ভিত্তিক হয়ে পড়ে, আর এই বিষয়ভিত্তিক পড়াশোনারই মস্ত বড় একটা অংশ হল এই অ্যাসাইনমেন্ট। 

উচ্চতর শিক্ষার ক্ষেত্রে, অর্থাৎ, কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যার্থীরা অ্যাসাইনমেন্টের গঠনের দিকে মন দেওয়ার চেয়ে, লেখার দিকেই বেশি মনোযোগ দেয়। 

যার ফলে, প্রায়শই বিশদ বিবরণে সমৃদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও, অ্যাসাইনমেন্টটি সঠিক আকারে সাজানো না থাকায় প্রফেসররা কৌতহল হারিয়ে ফেলেন। 

আর, ঠিক এই কারণেই অনেক সময় বিদ্যার্থীরা তাদের খাটনির প্রকৃত ফলাফল পায় না। 

যাইহোক, তবে একটি সুগঠিত প্রবন্ধ বা অ্যাসাইনমেন্ট একজন শিক্ষার্থীকে তার প্রজেক্টের মুখ্য বিষয়গুলো তুলে ধরতে ও যুক্তিগুলোকে আরও ভালোভাবে উপস্থাপন করতে সাহায্য করে। 

আজকে আমাদের এই আর্টিকেলে আমরা আলোচনা করবো, অ্যাসাইনমেন্ট কি ও এটি কিভাবে লিখতে হয় তার নিয়ম সম্পর্কে। 

এই নিয়মগুলো আপনাকে আপনার অ্যাসাইনমেন্ট থেকে ভালো নম্বর পাওয়াতে যথেষ্ট সাহায্য করতে পারে। 

চলুন, প্রথমে জানি যে, অ্যাসাইনমেন্ট কাকে বলে ? 

অ্যাসাইনমেন্ট কি ?

উচ্চতর শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি অ্যাসাইনমেন্ট হল সেই শিক্ষা-সংক্রান্ত কোর্সের একটা অংশ। 

শিক্ষক ও টিউটরা বিদ্যার্থীদের পড়াশোনার অঙ্গ হিসেবে, একটা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট অনুসন্ধানভিত্তিক যে পড়শোনা-সংক্রান্ত কাজ বা টাস্ক দিয়ে থাকেন, তাই-ই হল অ্যাসাইনমেন্ট। 

অ্যাসাইনমেন্টের গোড়ার কাজ:

একটি কার্যকরী অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি করার জন্য একটা নির্দিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্ট ঠিক করে নেওয়া ও একটি নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা করে নেওয়াটা খুবই জরুরি। 

পাঠ্যক্রমের সাথে স্পষ্টভাবে বর্ণিত এবং প্রাসঙ্গিক অ্যাসাইনমেন্টগুলো শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মানকে যথেষ্ট উন্নত করে তোলে ও লেখার প্রক্রিয়াকেও যথেষ্ট সুন্দর করে তোলে। 

অ্যাসাইনমেন্ট লেখার মৌলিক কাঠামোগত উপাদান:

যেকোনো অ্যাসাইনমেন্ট একটা নির্দিষ্ট গঠন পদ্ধতি মেনে চলে। 

আর, প্রতিটি অ্যাসাইনমেন্টেরই বেশ কিছু মৌলিক উপাদান রয়েছে,

যেগুলো হল –

১. কভার পেজ বা প্রচ্ছদ:

একটি কভার পেজ হল যেকোনো বই বা অ্যাসাইনমেন্টের প্রচ্ছদ বা কভারের পাতাটি। 

একটি আকর্ষণীয় কভার পেজ অ্যাসাইনমেন্টটিকে প্রেসেন্টেবেল করে তুলতে সাহায্য করে। 

শিক্ষার্থীরা তাদের প্রজেক্টের কভার পেজ নিজেরাই ডিজাইন করতে পারে। 

তারা নিজেদের পছন্দমতো ফন্ট, বা গ্রাফিক্স যোগ করতেই পারে। 

একটি কভার পেজে যেসব বিষয় উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক, সেগুলো হল –

– অ্যাসাইনমেন্টের নাম 

– বিদ্যার্থীর নাম 

– রেজিস্ট্রেশন বা ক্রমিক সংখ্যা

– শ্রেণী 

– সাবমিশনের তারিখ 

– ডিক্লারেশন বা ঘোষণা

– স্বাক্ষর 

২. কনটেন্ট পেজ বা সূচীপত্র:

এখানে আপনার প্রজেক্টের বিষয়বস্তু অনুযায়ী পৃষ্ঠা সংখ্যার ভিত্তিতে একটা সূচীপত্র তৈরী করতে হয়। 

৩. ইন্ট্রোডাকশন বা সূচনা:

এটি হল আপনার অ্যাসাইনমেন্টের প্রথম অংশ। 

এখানে, আপনার প্রজেক্ট সম্পর্কে একটা সূক্ষ ধারণা মানুষকে দিতে হবে। 

অর্থাৎ, আপনার প্রজেক্টটির যথার্থতা, অনুসন্ধান চলাকালীন এই প্রজেক্টের থেকে আপনি কি কি বুঝতে পেরেছেন, এই প্রজেক্টটার প্রাসঙ্গিকতা কি, এর উদ্দেশ্য কি এবং ইত্যাদি বিষয়ে লিখতে হয়। 

এইভাগে, আপনি আপনার প্রজেক্টের সারাংশটিকেও অল্প করে যুক্ত করতে পারেন। 

অনেক ক্ষেত্রে, এই ইন্ট্রোডাকশনের আগে অ্যাসাইনমেন্টে অ্যাবস্ট্রাক্ট (Abstract) ও সিনোপ্সিস (Synopsis) ভাগেও আপনি প্রজেক্টের ব্যাপারে লিখতে পারেন। 

৪. মেইন বডি বা মুখ্য বিশ্লেষণ:

একটি প্রজেক্টের মেইন বডিতে সমস্ত প্রজেক্টটার ব্যাপারে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়ে থাকে। 

এখানে আপনাকে আপনার গবেষণার  বিষয় সম্পর্কে পাঠকদের সম্পূর্ণভাবে বোঝাতে হবে। 

অ্যাসাইনমেন্টের এই অংশে আপনাকে যুক্তি সহকারে আপনার টাস্কের বিষয়ে বিশ্লেষণ করতে হবে। 

আপনার পূর্ব পরিকল্পনা অনুসারে একটা পরিকল্পনা ও কাঠামো লিখতে শুরু করুন। 

ধীরে ধীরে আপনার বিষয়টিকে একটা গোছানো গবেষণামূলক প্রবন্ধের আকার দিন। 

গবেষণা থেকে পাওয়া সমস্যার উপর ফোকাস রেখে এই মেইন বডি তৈরী করুন। 

এখানে কোনো রকমের নিজস্ব জটিল সমালোচনা করার চেষ্টাও করবেন না। 

আসলে, এই মুখ্য বিশ্লেষণের অংশে আপনার প্রজেক্টের মুখ্য সমস্যার বিষয়গুলোকেই তুলে ধরতে হবে। 

তবে, আপনার লেখার পদ্ধতিটি সমালোচনামূলক ও বিশ্লেষণাত্মক হওয়াই বাঞ্চনীয়।

মেইন বডিতে মূলত থাকে – 

-অধ্যায় 

-বিভাগ 

-উপ বিভাগ 

-টেবিল ও  চার্ট বা গ্রাফ

৫. কনক্লুশন বা উপসংহার:

সবসময় মনে রাখবেন যে, অ্যাসাইনমেন্টের মূল অংশে আপনি যে যুক্তি দিয়েছেন, তা যেন আপনার উপসংহারকে সমর্থন করে। 

এই উপসংহার কখনোই মানুষের মনে যেন কোনো রকমের জিজ্ঞাসা না তৈরী করে। 

কারণ, উপসংহার হল আপনার অ্যাসাইনমেন্ট থেকে পাওয়া গবেষণার ফলাফলের ভিত্তিতে আপনার মতামতের চরম প্রকাশের জায়গা; যেখানে নতুন কোনো বিতর্কের স্থান নেই।

আর, এখানে একটি বিতর্কমূলক বাক্য আপনার সমস্ত প্রজেক্টের গবেষণাকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিতে পারে। 

আর, একটি যথাযথ উপসংহার পাঠককে মনে করিয়ে দেয় আপনার প্রজেক্টটির বিষয়টি আসলে কি ছিল। 

একটি কনক্লুশন সবসময় সুনির্দিষ্ট ও সোজা হওয়াটা আবশ্যিক।

৬. রেফারেন্স বা তথ্যসূত্র:

এখানে আপনাকে আপনার গবেষণার জন্যে যেসব জায়গা থেকে পড়শোনা চালিয়েছেন, কিংবা যেসব উৎস থেকে তথ্য নিয়েছেন; সেগুলোকে যথাযথভাবে উল্লেখ করতে হয়। 

অ্যাসাইনমেন্ট লেখার নিয়ম: 

সফলতার সাথে একটি অ্যাসাইনমেন্ট লেখার জন্যে যে বিষয়গুলো বিবেচনা করতে হবে, সেগুলো হল-

১. ইন্ট্রোডাকশন আগে লিখুন:

আপনার প্রজেক্টের একটা সূচনা লেখার মাধ্যমে অ্যাসাইনমেন্টটি শুরু করুন। 

দুই থেকে তিনটি প্যারাগ্রাফের মধ্যে এটি লেখার চেষ্টা করুন। 

আপনার বিষয়ের একটা সামগ্রিক ধারণা দেবে, এমন বিষয়গুলো আপনার ইন্ট্রোডাকশনে তুলে ধরুন। 

এখানে আপনার এই টাস্ক নির্বাচনের কারণ, উদ্দেশ্য এবং লক্ষ্য সম্পর্কে আলোচনা করুন।

২. প্রজেক্ট-সংক্রান্ত প্রশ্নগুলো মূল্যায়ন করুন:

আপনার অ্যাসাইনমেন্টগুলো শুরু করার আগে কিভাবে শেষ করতে চাইছেন সেটা আগে ভেবে নিন। 

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার আগে, এই প্রজেক্টের সমস্যা কী, ও আপনাকে কী করতে হবে, সে সম্পর্কে ভাবুন। 

এই প্রজেক্ট-সম্পর্কিত প্রশ্নগুলোর উত্তর পেয়ে গেলে আরামসে আপনি আপনার অ্যাসাইনমেন্ট লিখতে পারবেন। 

৩. যথাযথভাবে অনুসন্ধান করুন:

কোনো অ্যাসাইনমেন্ট শুরুর আগে বিষয়টি সম্পর্কে গভীরভাবে পড়াশোনা করা একান্ত জরুরি। 

বিষয়টি সম্পর্কে আপনি যে গবেষণা করেছেন, তা পাঠকদের বোঝান, আপনার গবেষণায় সঠিক তথ্য ও পরিসংখ্যান যোগ করে। 

বিষয়টি সম্পর্কে যদি আপনার ধারণা স্পষ্ট না থাকে, তবে অবশ্যই যথাযথ বই, নথি, এনসাইক্লোপিডিয়া, অভিধান, কিংবা ইন্টারনেট মাধ্যম ব্যবহার করে অনুসন্ধান করুন। 

আপনার প্রজেক্টের বিষয়-সংক্রান্ত প্রাসঙ্গিক তথ্যচিত্রগুলোও দেখুন, কারণ এইগুলো আপনার জ্ঞান বৃদ্ধিতে ও লিখতে যথেষ্ট সাহায্য করবে।

এছাড়াও, আপনার মতামতকে সমর্থন করে এমন প্রমাণ খুঁজে বের করুন। 

এরপরেও, সমস্যা হলে আপনার শিক্ষকের কাছেও সাহায্য চাইতে পারেন।

৪. সমালোচনামূলকভাবে পড়ুন:

আপনার প্রজেক্টের বিষয়ের তথ্য সম্পর্কিত বিষয়বস্তুগুলো যোগ করুন। 

বিষয় নির্বাচনের সময়ে আপনি যে সমস্যাগুলোর মুখোমুখি হয়েছিলেন, সেগুলো সম্পর্কে সমালোচনামূলক আলোচনা করুন। 

আপনার এই প্রজেক্ট করার সময়ে সমস্যাগুলো কীভাবে এসেছে, সেটাও বর্ণনা করুন আর সেগুলো কাটিয়ে উঠতে একটি সমাধানও প্রদান করুন। 

বিভিন্ন লেখকদের লেখার মধ্যে সমন্বয় সাধন করে তাদের ধারণাগুলোকে সমালোচনার ভঙ্গিতে বর্ণনা করুন। 

এই গঠনমূলক মতামত পোষণ আপনার অ্যাসাইনমেন্টটিকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে পারে।

৫. শব্দভান্ডার নির্বাচন:

আপনার শব্দভান্ডারে নানা ধরণের শব্দের ব্যবহার বাড়ান। 

এতে আপনার অ্যাসাইনমেন্টটি অনেক বেশি আকর্ষণীয় ও পাঠযোগ্য বলে মনে হবে। 

একই ধরণের শব্দ বারবার ব্যবহার না করে নতুন নতুন শব্দ ব্যবহার করার চেষ্টা করুন, যাতে আপনার লেখার মধ্যে জ্ঞান, আত্মবিশ্বাস ও সুচিন্তিত মতামত ফুটে ওঠে। 

আর, সঠিক শব্দ নির্বাচন আপনার অ্যাসাইনমেন্টের মান বাড়াতে সাহায্য করে।

৬. লেখার পরিকল্পনা:

আপনার অ্যাসাইনমেন্টটিকে এমনভাবে পরিকল্পনা করুন, যাতে আপনার অনুসন্ধানের বিষয়টির সমস্ত দিকগুলোই কভার করা সম্ভব হয়। কিভাবে প্ল্যান করলে আপনি সমস্ত পয়েন্টগুলো লিখতে পারবেন, সেটা ঠিক করে নিন। 

আপনার ধারণা ও অনুচ্ছেদ বিভাগগুলোর মধ্যে একটা সংযোগ তৈরি করুন। 

লেখার অধ্যায়গুলো পর পর সাজিয়ে নিয়ে লিখলে আপনার বিষয়বস্তুর প্রতি পাঠকের আগ্রহ বৃদ্ধি করবে। 

৭. একটি খসড়া লিখুন:

আপনার বিষয়বস্তুগুলোকে যুক্তি সহকারে সাজিয়ে একটা কাঠামো তৈরি করুন। 

প্রজেক্টটি লিখতে লিখতে অনেক নতুন নতুন ধারণা আসবে, সেগুলোকে একটা খসড়ার আকারে লিখে রাখলে, আপনি সময় বুঝে সেগুলো আপনার অ্যাসাইনমেন্টে কাজে লাগাতে পারবেন। 

খসড়া তৈরি করার পরে সেটিকে সংশোধন করে নিশ্চিত করুন যে, এটি অর্থপূর্ণ হচ্ছে কিনা ও সম্পূর্ণ বিষয়বস্তুর মধ্যে যোগসূত্র তৈরী হচ্ছে কিনা।

৮. অ্যাসাইনমেন্টের স্ট্রাকচার তৈরী করুন:

আপনার অ্যাসাইনমেন্টের কাঠামো এমনভাবে তৈরি করুন যাতে পাঠকদের মনে আপনার প্রজেক্ট সম্পর্কে একটা স্পষ্ট ধারণা তৈরী হয়। 

আর, একটা পরিকল্পিত কাঠামো আপনাকে লেখার সময়েও যথেষ্ট সাহায্য করে। 

এখানে, আপনি আপনার বিষয়ের সাথে প্রাসঙ্গিক উদ্ধৃতিও যোগ করতে পারেন। 

আপনার প্রাথমিক লক্ষ্য থাকবে, কিভাবে বর্ণনা করলে আপনার পয়েন্টগুলো যথাযথ স্ট্রাকচার মেনে চলবে তা বোঝা।

৯. উপসংহারের অংশ:

যেহেতু উপসংহার হল অ্যাসাইনমেন্টের শেষ অংশ; এই কারণেই এখানে আপনার অ্যাসাইনমেন্টে যা লিখেছেন, তার সারাংশ অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করুন।

আপনার অ্যাসাইনমেন্টটি লেখার সময় উপরের নিয়মগুলো মেনে চললেই আপনি আপনার কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসে একটা উপস্থাপনযোগ্য অ্যাসাইনমেন্ট দিতে ও ভালো নম্বর পেতে পারবেন।

 

পরিশেষে: 

আসলে, যেকোনো অ্যাসাইনমেন্টই হল একটা প্রক্রিয়ার মতো। 

একটা নির্দিষ্ট পদ্ধতি মেনে চললে ও ধাপে ধাপে এগোলে, যে কেউই সহজেই একটি অ্যাসাইনমেন্ট সময়মতো শুরু ও শেষ করতে পারবেন। 

আমাদের অ্যাসাইনমেন্ট লেখার নিয়ম নিয়ে লেখা আর্টিকেলটি এখানেই শেষ হল। 

আশা করছি, অ্যাসাইনমেন্ট কি বা কাকে বলে এই বিষয়ে আপনারা সম্পূর্ণটা স্পষ্ট ভাবে বুঝেই গিয়েছেন। 

লেখাটি পছন্দ হলে অবশ্যই তা কমেন্ট করে জানাবেন।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Scroll to Top
Copy link