যেকোনো কাজে মনোযোগী হওয়ার উপায় । মন দিয়ে করুন কাজ

আজকের আমাদের আর্টিকেলের বিষয় হলো, কাজে মনোযোগী হওয়ার ৭ টি উপায় এবং টিপস গুলো বাংলাতে। 

কর্মব্যস্ত এই পৃথিবী। সবাই এখন নিজের কাজে ব্যস্ত। কেউ থেমে নেই। আজকের দিনে কাজের পরিধি যেমন বেড়েছে তেমনি সেখানে প্রতিযোগীতাও বেড়েছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে কাজে মনোযোগের অভাব ঘটছে। কমছে কাজের মান।

কিন্তু খুব সহজেই এই সমস্যা সমাধান সম্ভব।

কিছু জিনিস মেনে চললেই আসবে মনোযোগ। আসুন দেখা যাক কীভাবে কাজে মনোযোগ বাড়ানো সম্ভব –

কাজে মনোযোগী হওয়ার উপায় এবং টিপস

মন দিয়ে কাজ করার উপায়।

দেখুন, কাজে মনোযোগী হওয়ার উপায় বা কাজে মনোযোগ বাড়ানোর উপায় দুটোই একি বিষয়।

বর্তমান সময়ে আমাদের জীবনধারার প্রক্রিয়া এতটাই উল্টোপাল্টা হয়ে রয়েছে যে লোকেরা রাতে না ঘুমিয়ে মোবাইল বা ল্যাপটপ ব্যবহার করেন এবং দিনে ঘুম ভাবের সাথে কাজ করেন।

তাই বলুন, এভাবে চোখে ঘুম নিয়ে কাজ করাটা কি সম্ভব ?

এছাড়াও প্রচুর সাধারণ শারীরিক বা মানসিক কারণ গুলো থাকতেই পারে যেগুলোর কারণে আপনার কাজে মন বসছেনা।

তবে চিন্তা করবেননা, নিচে আমরা এমন কয়টি উপায় বলবো যেগুলোকে ভালো করে অনুসরণ করলে কাজে মন বিশ্বেই।

চলুন, দেখেনেই কাজে মন বসানোর উপায় গুলো কি কি।

১. কাজের প্রতি ভালোবাসা

আপনি সব সময় যে কাজটি করতে চাইছেন, সেই কাজটি পাবেন তা আশা করবেন না।

আপনার অপছন্দের কাজটিও হয়তো কখনো করতে হতে পারে।

তবে যখন যে কাজটি করবেন চেষ্টা করবেন কাজটিকে যথাসম্ভব ভালোবেসে করার।

নিজের কাজে মনোযোগী হবার প্রথম ধাপ হল নিজের কাজটিকে ভালোবাসা তার সঙ্গে একাত্ম হয়ে যাওয়া।

প্রথম প্রথম হয়ত কোনও কাজ করতে আমাদের নাও ভালো লাগতে পারে কিন্তু কাজটিকে ভালোবেসে ফেললে তখন কাজটির প্রতি মনোযোগ বৃদ্ধি পাবে।

২. কাজটিতে নিজের ১০০%  দেওয়া

 সব সময় চেষ্টা করবেন কোনো কাজ যথাসম্ভব নিখুঁত করতে। নিজের ১০০% দিয়ে কাজটি করার চেষ্টা করবেন। বিশেষ করে যারা সৃজনশীল কাজের সঙ্গে যুক্ত তারা এই বিষয়টি খেয়াল রাখতে পারেন।

সৃজনশীল কাজের ক্ষেত্রে বিভিন্ন উপায়ে সুন্দর করে তোলা যায় নিজের কাজ।

প্রখ্যাত পরিচালক ঋত্বিক ঘটকের জীবনের একটি ঘটনা এ প্রসঙ্গে বলে নেওয়া যাক।

তখন সুবর্ণরেখা সিনেমার শ্যুটিং চলছে সুবর্ণরেখা নদীর ধারে, ঋত্বিক ঘটকের মেয়ে একটু দূরে খেলা করছে, হঠাৎ মেয়েটি ভয়ে ঋত্বিক ঘটকের কাছে ছুটে এল।

ঋত্বিক ঘটক যখন জিজ্ঞাসা করলেন “কী হয়েছে ?” মেয়েটি বলল বহুরূপী! তখনই ওনার মাথায় এল গল্পেও তো একটা বাচ্ছা মেয়ে আছে সেও তাহলে বহুরূপী দেখে ভয় পেয়ে বাবার কাছে ছুটে আসবে।

উনি কিন্তু আলাদা করে নিজের কাজে মনোযোগী হয়ে আছেন তা নয় কাজের সাথে উনি একাত্ম হয়ে আছেন।

কাজ নিয়েই ভেবে চলেছিলেন। 

আপনিও যদি  নিজের ১০০% দিয়ে কাজটি যথাসম্ভব সুন্দর করার চেষ্টা করেন তখন  আলাদা করে কাজে মনোযোগী হতে হবে না, আপনার মনোযোগ অনায়াসেই  বৃদ্ধি পাবে।

৩. কাজটিকে কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন করা

মনে রাখবেন যদি কোনো বড়ো কাজ হয় তাহলে কাজটিকে কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন করার চেষ্টা করবেন।

অনেক বড়ো কাজ বা দীর্ঘক্ষণ সময়ের কাজ আপনাকে অমনোযোগী করে তুলতে পারে।

এখন আপনি যদি কাজটি নিজের সুবিধামত কয়েকটি ধাপে ভেঙে নিয়ে এক একটি ধাপ মনোযোগ সহকারে করতে পারেন তাহলে সম্পূর্ণ কাজটি সুষ্ঠু ভাবে হবে।

যদি আপনি সম্পূর্ণ কাজটি একসাথে করতে চান তাহলে দেখবেন মাঝেমাঝেই কাজে অমনোযোগী হয়ে যাচ্ছেন। কাজে ভুল হচ্ছে।

তাই কাজ করার আগে সঠিক পরিকল্পনা জরুরি। প্রতিটি ধাপ সময় নিয়ে করার চেষ্টা করলে অমনোযোগী মনোভাব কেটে যাবে।

৪. কাজের ক্ষেত্রে সময়ের সঠিক ব্যবহার

সময়ের সঙ্গে কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আছে। যেকোনও কাজে সুন্দর ভাবে করে তুলতে গেলে সময় লাগে।

তবে সে ক্ষেত্রেও চাই সঠিক পরিকল্পনা।

মনোযোগ বৃদ্ধি পেলে অপেক্ষাকৃত কম সময়ে কাজটি সম্ভব হতে পারে তবে প্রথম দিকে তাড়াতাড়ি করতে গেলে মনোযোগ বিঘ্নিত হতে পারে এবং কাজে ভুল হতে পারে।

তাই কাজের প্রথম দিকে সময় নিয়ে ঠান্ডা মাথায় কাজটি করার চেষ্টা করতে হবে।

বর্তমানে আমাদের অনেকটা সময় বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় অপচয় হয়। কাজের সময় আমাদের সময়ের অপচয় করলে চলবে না।

এক্ষেত্রে মনোযোগ অনেকাংশে নষ্ট হয়। কাজের জন্য যে নির্দিষ্ট সময়টি আছে সেটি কেবল মাত্র কাজের জন্য সে সময় অন্য কিছু চিন্তা করা যাবে না।

৫. কাজে মনোযোগের জন্য সঠিক স্থান নির্বাচন

সব স্থান কাজ করার জন্য সঠিক নয়। স্থানের উপর নির্ভর করে মনোযোগ। নির্জন স্থানে যত দ্রুত মনোযোগী হওয়া যায়, কোলাহল বা ভিড়ের মধ্যে তত দ্রুত মনোযোগী হওয়া যায় না। তাই প্রতিটি কাজের একটি নির্দিষ্ট স্থান থাকা আবশ্যক।

ধরা যাক আপনি ড্রয়িং রুমে বসে কাজ করছেন, একটু দূরেই টিভি চলছে, টিভির শব্দ কিন্তু আপনার  মনোযোগ নষ্ট করতে পারে বা আপনার কাজের কাছে কেউ এসে আপনার সঙ্গে  কথা বলার চেষ্টা করছে সেক্ষেত্রেও কিন্তু আপনি অমনোযোগী হয়ে পড়বেন।

তাই কাজ করার আগে একটি সঠিক স্থান নির্বাচন করুন যেখানে কেউ আপনাকে বিরক্ত করবে না এবং অন্যান্য কোনো যান্ত্রিক শব্দ আপনাকে কাজে অমনোযোগী করে তুলবে না।

এর জন্য নিজের একটি অফিস রুম করা যেতে পারে বা দরজা বন্ধ করে কাজ করা যেতে পারে।

যদি দেখা যায় সেই ব্যবস্থা নেই তাহলে অফিসে বসে কাজটি সম্পূর্ণ করতে পারেন অথবা কোনো ক্যাফেতে গিয়ে কাজটি করতে পারেন।

বিশেষ করে যারা সৃজনশীল কাজের সঙ্গে যুক্ত তাদের জন্য স্থান নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি নির্দিষ্ট ঘর ছিল যেখানে তিনি নিজের লেখালেখি করতেন এবং তিনি লেখালেখির জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ রেখেছিলেন।

সেই সময়ের ভিতর কেউ তার ঘরে এসে তাঁকে বিরক্ত করতেন না।

নির্জনে মন দ্রুত স্থির হয় তাই কাজে মনোযোগী হওয়ার জন্য স্থান নির্বাচন অত্যন্ত জরুরি।

৬. কাজের ফাঁকে নিজের মানসিক বিশ্রাম

অনেকক্ষন ধরে কাজ করে গেলে কাজে বিরক্তি আসে। তাই আগেই বলেছি কাজটি পারলে একসঙ্গে না করে কয়েকটি ধাপে করতে।

এতে কাজ করতে যেমন সুবিধা হবে তেমনি কাজে বিরক্তি ভাবটা কম আসবে।

কাজের ফাঁকে ফাঁকে বিরতি নেওয়া যেতে পারে। খুব বেশিক্ষণ সময়ের জন্য নয়, অল্প সময়ের জন্য বিরতি নিতে পারেন।

পোমোডোবো পদ্ধতি অনুসারে আপনি প্রতি ৪৫ মিনিট কাজের শেষে ১৫ মিনিটের একটি বিরতি নিতে পারেন।

বিরতির সময় দু একটা গান শোনা বা টিভি চ্যানেলে খবর দেখা বা সোশ্যাল মিডিয়াতে কিছু সময় কাটানো যেতে পারে।

এতে করে আপনার মস্তিষ্কে যে প্রেসার ছিল তা অনেকটা কমে যাবে, মন স্থির হবে, কাজটিতে বিরক্ত আসবে না। 

আবার কাজে ফিরে এলে দ্রুত মনোযোগ বৃদ্ধি পাবে।

তাই একসঙ্গে অনেকক্ষন কাজ না করে বিরতি নিতে পারেন।

বিরতি গুলো উপভোগ করে  বিরতির পর আবার নিজের কাজে মনোযোগী হয়ে উঠতে পারেন।

৭. নিজের কাজে একাগ্র হওয়া

অনেকেই কাজের সময় দেখা যায় গান শোনেন অথবা কথা বলতে বলতে কাজ করেন।

এক্ষেত্রে কিন্তু কাজে অমনোযোগী হয়ে ওঠার সম্ভাবনা প্রবল ফলে কাজে ভুল সহজেই হয়।

আমাদের মস্তিষ্ক যেকোনো একটি সময়ে একটি কাজে ফোকাস করতে পারে, ধরুন কেউ কাজ করার সময় গান শুনছে, এখন তার মস্তিষ্ক একই সময়ে গান শোনা এবং কাজ করা, এই দুটি কাজ করতে পারবে না।

ফলে কাজটিতে ভুল হয়ে যাবার সম্ভাবনা থেকেই যায়।

তাই কাজ করার সময় শুধু মাত্র কাজের কথাই চিন্তা করা উচিত। এটি হল একাগ্রতা।

একাগ্রতা থাকলে তবে কাজটি সম্পন্ন হয়, সেটি সুন্দর হয়।

তাই কাজের সময়ে যে জিনিস গুলি আমাদের একাগ্রতা নষ্ট করে সেগুলি বর্জন করার উচিত। 

কাজের মাঝে মাঝে অনেকেই সোস্যাল মিডিয়াতে সময় অপব্যয় করে থাকেন। এক্ষেত্রে কাজে ভুল হয়ে থাকে।

বিরতির সময় এগুলি করতে পারেন। ফোনের নোটিফিকেশন বক্স মিউট করে রাখা যেতে পারে যাতে অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন আমাদের একাগ্রতা কে নষ্ট না করে, ফোনের রিংটোনের ভলিউম কম করে রাখা যেতে পারে, ঘরে কাজ করার সময় দরজা বন্ধ রেখে কাজ করা যেতে পারে।

মানসিক একাগ্রতা বৃদ্ধি না পেলে কখনোই কাজে মনোযোগী হয়ে ওঠা যায় না এবং আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে পর্যাপ্ত ঘুম।

ঘুমের আগে কাজের পরবর্তী বিষয় গুলি ভেবে রাখতে পারেন বা হ্যান্ড ডায়েরিতে নোট রাখতে পারেন। দেখবেন এগুলি সত্যি আপনার উপকার করবে।

৮. রাতে পর্যাপ্ত পরিমানের ঘুম

এই বিষয়ে আমরা অনেকেই বিশেষ ধ্যান দিয়ে থাকিনা, তবে কাজে মন না লাগার মূল কারণ এটাই যে আমরা রাতে পর্যাপ্ত পরিমানের ঘুম ঘুমাইনা।

রাতে না ঘুমিয়ে দেরি পর্যন্ত মোবাইলের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে আমাদের মস্তিস্ক দুর্বল হয়ে পরে যার জন্য সকালে উঠে আমাদের ঘুম ঘুম ভাব, অলসতা, শরীরে শক্তির অভাব মনে হয়, কাজে মন না লাগা ইত্যাদি বিভিন্ন ধরণের সমস্যা দেখা যায়।

তাই, যদি আপার কাজে মন বসছেনা এবং আপনি কাজে মনোযোগী হওয়ার উপায় খুঁজছেন, তাহলে সর্ব প্রথমে এটা দেখুন যে আপনার রাতের ঘুমের পরিমান কতটুকু।

কমেও ৮ ঘন্টার ঘুম আমাদের মস্তিষ্কের ভালো সাস্থের জন্য অনেকটা জরুরি।

 

আমাদের শেষ কথা,,

তাহলে বন্ধুরা, যদি নিয়মিত আপনার কাজে মন বসছেনা বা কাজে মন বসানোর উপায় আপনি খুঁজছেন, তাহলে ওপরে বলা বিষয় গুলোতে অবশই নজর দিতে হবে। উপায় গুলো ভালো করে অনুসরণ করুন অবশই কাজে মন বসতে শুরু হবে। আমি নিজেই এই উপায় গুলো ফলো করছি এবং মন দিয়ে কাজ করছি।

শেষে, যদি আমাদের আজকের আর্টিকেল আপনাদের ভালো লেগে থাকে, তাহলে অবশই আর্টিকেলটি সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করবেন।

এছাড়া, আর্টিকেলের সাথে জড়িত কোনো ধরণের প্রশ্ন বা পরামর্শ থাকলে নিচে কমেন্ট করে অবশই জানাবেন।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top