অনলাইনে ছবি এডিট করার সেরা ওয়েবসাইট এবং টুলস – ১০টি

আপনার ফটোগুলোকে অ্যাস্থেটিক বানাতে চাইছেন? আবার, ইনস্টাগ্রামের একই ফিল্টার ব্যবহার করতে-করতে বোরিং লাগছে? তাহলে, আপনাকে আমরা এমন সব সেরা ছবি এডিট করার ওয়েবসাইট গুলির ব্যাপারে জানাবো যেগুলো ছবিগুলোকে মিনিটের মধ্যেই করে তুলবে ঝকঝকে ও আকর্ষণীয়।

অনলাইনে ছবি এডিট করার এই সেরা ওয়েবসাইট গুলিতে, ক্রপিং ও রিসাইজিং-এর মতো বেসিক এডিটিং থেকে শুরু করে প্রফেশনাল ফিল্টার ও এফেক্ট পর্যন্ত, যেকোনো ইমেজকে ভিজ্যুয়ালি অ্যাট্র্যাক্টিভ করে তুলতে পারবেন আপনারা।

এমনকি, পেশাদার ফটোগ্রাফার থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার সকলেই এই ধরণের ফ্রি অনলাইন ফটো এডিটর সাইটগুলো ব্যবহার করে অনলাইনে ফটো এডিট করে নিতে পারবেন।

আবার, ক্রিয়েটিভিটির মাধ্যমে ছবিগুলোকে অনেক বেশি সুন্দরও করে তুলতে পারবেন।

অবশই পড়ুন: অনলাইনে ফ্রিতে মুভি দেখার সেরা ওয়েবসাইট

তাহলে চলুন, বেশি দেরি না করে নিচে আমরা সরাসরি অনলাইনে ফটো এডিট করার সেরা ১০টি ওয়েবসাইটের বিষয়ে জেনেনেই যেগুলি সম্পূর্ণ ফ্রীতে ব্যবহার করা যাবে এবং যেগুলিতে ফটো এডিট করার নানান tools, filters, effects ইত্যাদি পাওয়া যাবে।

রিলেটেড: মোবাইলের সেরা ছবি মেকআপ করার সফটওয়্যার/অ্যাপস

অনলাইনে ছবি এডিট করার ওয়েবসাইট গুলোর তালিকা: সেরা ১০টি

অনলাইনে ছবি এডিট করার ওয়েবসাইট
Best free websites to edit photos online.

মনে রাখা দরকার যে, অনলাইনে ছবি এডিট করার জন্য এই ওয়েবসাইট গুলিকে আপনারা সম্পূর্ণ ফ্রীতে ব্যবহার করতে পারবেন।

তবে অবশই, এই অনলাইন ফটো এডিটর গুলির একটি প্রিমিয়াম বা পেইড ভার্সন অবশই থাকতে পারে। পেইড ভার্সন ব্যবহার করলে ছবি গুলি এডিট এবং ডিজাইন করার ক্ষেত্রে আপনারা কিছু অ্যাডভান্স টুলস এবং অপসন গুলি পাবেন।

তবে আমার হিসেবে, এই ছবি এডিট করার ওয়েবসাইট গুলিতে শুধুমাত্র ফ্রি ভার্সন ব্যবহার করে সম্পূর্ণ ফ্রীতেই একেবারে প্রফেশনাল ভাবে যেকোনো ছবি এডিট এবং ডিজাইন করা যায়।

  • Fotor.com – প্রচুর এডিটিং টুলস গুলি রয়েছে যেগুলি ফ্রীতে ব্যবহার করা যাবে।
  • Picozu.com – অঙ্কন ক্ষমতা, একাধিক সরঞ্জাম/টুলস এবং ব্রাশ এর সুবিধা।
  • Photopea.com – ফ্রি এবং অ্যাডভান্সড অনলাইন ফটো এডিটর সাইট।
  • Canva – অনলাইনে ফটো এডিট করার সেরা ওয়েবসাইট।
  • Fotoflexer – সিম্পল তবে এখানে ছবি এডিট করার জরুরি টুলস গুলি পাবেন।
  • Lunapic.com – অনলাইনে প্রফেশনাল ভাবে ছবি এডিট করার একটি শক্তিশালী ওয়েবসাইট।
  • Befunky.com – ফটো এডিটিং, গ্রাফিক্স ডিজাইনিং এবং কলেজ তৈরি, সবটাই করা যাবে।
  • PicsArt – ফটো এডিট করা, ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড রিমুভ, নতুন ব্যাকগ্রাউন্ড তৈরি সবটাই করা যায়।
  • Pixlr.com – এখানে একটি AI Photo Editor-এর অপসন ও পাবেন।
  • PicMonkey – ৭ দিনের ফ্রি ট্রায়াল এর সাথে প্রিমিয়াম ফটো এডিটিং টুলস গুলি ব্যবহার করুন।

অনলাইনে ফটো এডিট করার ১০টি ওয়েবসাইট:

চলুন, নিচে আমরা সরাসরি প্রতিটি ফটো এডিটর ওয়েবসাইট গুলির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে কিছুটা জেনেনেই।

১. Fotor.com:

খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সোশ্যাল-মিডিয়া-ওয়ার্দী প্রোফাইল পিকচার এডিট করার সেরা একটা ওয়েবসাইট হল এই Fotor.com। বিনামূল্যের এই প্ল্যাটফর্মে বেসিক থেকে শুরু করে প্রফেশনাল-লেভেলের ফটো-এডিটিং সহজেই করে নেওয়া যায়।

এখানে থাকা কিছু পপুলার ফিচার গুলি হল, কোলাজ মেকার, ফটো এনহ্যান্সিং, ব্যাকগ্রাউন্ড রিমুভিং ও অন্যান্য।

সুবিধা:

  • ফটো টু আর্ট ফিচার,
  • AI ফটো এডিটর টুলস,
  • ছবিতে টেক্সট অ্যাড করা যায়,
  • ইমেজ কালারাইজেশনের সুবিধা,
  • অনেক রকমের ইনবিল্ট ফটো ফিল্টারস।

২. Picozu.com:

প্রফেশনাল ফটো এডিটিং শিখতে চান, অথচ Photoshop-এর মতো সফ্টওয়্যার ব্যবহার করতে চাইছেন না?

তাহলে, একবার Picozu.com ওয়েবসাইটটি ব্যবহার করে দেখুন। আপনি চাইলে এখানে ইমেজ এডিটিং এর কাজও শিখতেও পারবেন। এমনকি, এখানে PSD বা ফটোশপ ফাইলও অনলাইনে এডিট করা যায়।

এর কিছু ভালো ফিচার হল, ইমেজ রিটাচিং ফাঙ্কশন, একসাথে একাধিক ইমেজে কাজ করা যায় এবং ছবিও আঁকা যায়।

সুবিধা:

  • বিভিন্ন ড্রয়িং ব্রাশ ও ফিল্টার,
  • একাধিক লেয়ারে এডিট করার সুবিধা,
  • বিভিন্ন ফর্ম্যাটে ইমেজ সেভ করা যায়,
  • সোশ্যাল মিডিয়াতে সহজে শেয়ার করা যায়,
  • কালার ফিল, ক্রপিং, ম্যাজিক ইরেসার ও অন্যান্য এডিটিং টুলস।

৩. Photopea.com:

Photopea হল ছবি এডিট করার এমন একটি ওয়েবসাইট, যেখানে অতি সহজেই ইমেজ ইম্পোর্ট করে নিয়ে এডিটিংয়ের কাজ শুরু করা যায়।

এর প্রধান সুবিধা হল এখানে Google Drive, প্রাইভেট ফোল্ডার এমনকি shared drives থেকেও ছবি নিয়ে কাজ করা সম্ভব। শুধুমাত্র ফটো এডিটিংই নয়, এখানে আপনি এই ওয়েবসাইটের নিজস্ব PeaGames-গুলোও খেলতে পারবেন।

অনলাইনে সম্পূর্ণ প্রফেশনাল ভাবে ফটো এডিটিংয়ের জন্যে এই ওয়েবসাইটটি খুবই ভালো।

সুবিধা:

  • সহজ ইউসার ইন্টারফেস,
  • নানান ফর্ম্যাটে ফটো সেভ হয়,
  • ফটোশপের মতো এডিটিং ফিচার রয়েছে,
  • হ্যাং না করে স্মুথভাবে এডিট করে,
  • ম্যানুয়াল এডিটিংয়ের জন্যে যথেষ্ট ভালো।

8. Canva:

AI-এর সাহায্যে অনলাইনে ফটো এডিটিং করতে চাইছেন? তাহলে, Canva আপনাকে অনেক রকমের AI পাওয়ার টুলস দিতে পারে। এই ওয়েবসাইটের ফ্রি ও পেইড দুই ধরণের ভার্সনই রয়েছে। এখানে আপনি প্রয়োজনমতো ফটো ও ভিডিও এডিটর টুলসও পেয়ে যাবেন।

এডুকেশন, বিজনেস, মার্কেটিং, গ্রাফিক ডিসাইনিং, কনটেন্ট ক্রিয়েশন, লোগো ডিজাইনিংয়ের মতো যেকোনো এডিটিং কাজের জন্যে এই ওয়েবসাইট হল বর্তমান সময়ে অন্যতম জনপ্রিয় একটা প্ল্যাটফর্ম।

Canva-এর একটি মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করে নিয়ে মোবাইলেও সরাসরি ছবি এডিট করা যাবে।

সুবিধা:

  • AI ফটো এডিটর,
  • অনেক ফ্রি এডিটিং টুলস আছে,
  • একসাথে ছবি এডিট, ডিসাইন ও প্রিন্ট করা যায়,
  • ফটো এফেক্টস, ফিল্টার ও কালার অ্যাডজাস্টমেন্ট,
  • স্মল বিজনেসের জন্যে কপিরাইট-ফ্রি লোগো ডিসাইন করা যায়।

৫. Fotoflexer:

ফ্রি অনলাইন ফটো এডিটর ওয়েবসাইটগুলোর মধ্যে Fotoflexer ব্যবহার করা সবথেকে সোজা। এর অনেক সিম্পল ইন্টারফেসে সমস্ত বেসিক ফটো এডিটিং টুলসগুলো রয়েছে।

আপনি যদি এডিটিংয়ের কাজে নতুন হন, তাহলে এই ওয়েবসাইটটি আপনার জন্যে ভালো হবে। এখানে আপনি ফিল্টার, রিসাইজ, ক্রপ, ড্র, স্টিকারস, টেক্সট, কর্নারস ও ব্যাকগ্রাউন্ডের মতো টুলগুলো পেয়ে যাবেন।

সুবিধা:

  • বেসিক এডিটিংয়ের সুবিধা,
  • ফটো রিনেম করে সেভ করা যায়,
  • ফিল্টারগুলো ব্যবহার করা বেশ সহজ,
  • ভালো কোয়ালিটিতে ছবি সেভ করা যায়,
  • একের বেশি ফাইল ফর্ম্যাটের অপশন রয়েছে।

৬. Lunapic.com:

একদম ১০০% ফ্রি ও সিম্পল এডিটিং ওয়েবসাইটের সাহায্যে ছবি এডিট করলে চাইলে, অবশ্যই Lunapic.com ব্যবহার করুন।

এখানে ক্রপ, ড্রয়িং টুলস, ট্রান্সপারেন্ট, পেস্ট/ব্লেন্ড ও অ্যাড টেক্সটের মতো সহজ এডিটিং টুলস রয়েছে।

এই ওয়েবসাইটে স্টক ফটোস, ক্রোম এক্সটেনশন, ও কুইক আপলোডের মাধ্যমে সহজভাবে ছবি ইম্পোর্ট করে এডিট করা সম্ভব।

সুবিধা:

  • স্মার্ট AI টুল রয়েছে,
  • অ্যানিমিশেন এফেক্ট রয়েছে,
  • লগইন/সাইন-আপ/ইনস্টল করার দরকার নেই,
  • আলাদা-আলাদা এডিটিং ও আর্ট এফেক্ট আছে,
  • Gif/Png/Jpeg-এর মতো ফর্ম্যাটে ছবি সেভ করা যায়।

৭. Befunky.com:

ব্যাকগ্রাউন্ড সরানো থেকে শুরু করে পোর্ট্রেটে রিটাচের মতো ছোটোখাটো এডিটিং আরামসে করে ফেলুন এই Befunky.com ওয়েবসাইটে।

এখানে আপনি লাখেরও বেশি স্টক ইমেজ একদম ফ্রিতে পাবেন। এছাড়াও, আপনি এক ক্লিকে কোলাজও বানিয়ে ফেলতে পারেন।

এর ব্যাচ এডিট ফটোস ফিচারের সাহায্যে সহজেই একসাথে অনেকগুলো ছবি ক্রপ, রিসাইজ ও এনহ্যান্স করা যায়।

সুবিধা:

  • ব্যাচ এডিট ফটো,
  • ব্যাকগ্রাউন্ড রিমুভিং ফিচার আছে,
  • গ্রাফিক ডিজাইনার ফিচার রয়েছে,
  • কাস্টোমাইজেবল ডিসাইন টেম্পলেট,
  • আর্টসি ফিচারের মাধ্যমে ছবি আর্টে কনভার্ট করা যায়।

৮. PicsArt:

PicsArt হল অনলাইনে ফটো এডিট করার এমন একটি ওয়েবসাইট যেখানে রিয়েল এস্টেট, এডুকেশন, ফুড অ্যান্ড ড্রিঙ্ক, হেল্থ অ্যান্ড ওয়ালনেসের মতো যেকোনো বিষয়ের উপর নির্ভর করে এডিটিংয়ের অপশন রয়েছে।

এমনকি, AI পাওয়ার টুল এডিটিং টুলের মাধ্যমে সেকেন্ডের মধ্যেই এডিট করা সম্ভব। এখানেও ব্যাকগ্রাউন্ড রিমুভ ও বেসিক ফটো এডিটিংয়ের মতো ফিচারগুলো রয়েছে।

সুবিধা:

  • AI ইমেজ জেনারেট করা যায়,
  • নতুন ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাড করা যায়,
  • ওয়েব ও মোবাইলেও ছবি এডিট করা যায়,
  • রেডি-টু-ইউস ডিসাইন টেম্প্লেটস আছে,
  • ব্যাচ এডিটর ও AI এনহ্যান্স ফিচার আছে।

৯. Pixlr: Free Online Photo Editor:

অনলাইনে ছবি এডিট করার ওয়েবসাইট গুলির মধ্যে Pixlr আমার প্রিয় ওয়েবসাইট গুলির মধ্যে একটি। কেননা, এখানে আর্টিস্টিকভাবে ছবি এডিট করার বেস্ট অপশনস এবং টুলস গুলি দিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এর AI-পাওয়ার্ড ফটো এডিটিং ও ডিসাইন টুলস সেকেন্ডের মধ্যে ছবি এডিট করে দেয়। আপনি কম্পিউটার ও মোবাইল দুটো ডিভাইসেই এই ওয়েবসাইটটি ফ্রিতে ব্যবহার করতে পারবেন। এখানে ফ্রিতে AI ইমেজ জেনারেটার ফিচারটি ব্যবহার করা যায়।

এছাড়াও, ইমেজ ক্রপিং, অবজেক্ট ও ব্যাকগ্রাউন্ড রিমুভাল এবং টেম্পলেট লাইব্রেরির সুবিধাও পাওয়া যাবে।

সুবিধা:

  • কোলাজ মেকার রয়েছে,
  • যেকোনো ডিসাইন অ্যানিমেট করা যায়,
  • বিভিন্ন রকমের ফিল্টার ও এফেক্ট আছে,
  • AI-পাওয়ার্ড ব্যাকগ্রাউন্ড রিমুভাল ফিচার,
  • বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ার জন্যে ডিসাইন টেম্পলেট আছে।

১০. PicMonkey Photo Editor:

সম্পূর্ণভাবে ফ্রি ওয়েবসাইট না হলেও, PicMonkey Photo Editor-এ আপনি ৭ দিনের ফ্রি ট্রায়াল পাবেন। এখানের ‘touchup a photo’ অপশনের সাহায্যে সহজেই ছবি এডিটিংয়ের কাজগুলো করে নেওয়া যায়।

তবে, এখানে ছবি এডিট হওয়ার পর ডাউনলোড করতে গেলে পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে হয়। এখানে আপনি কোলাজ, ইনস্টাগ্রাম, ফেইসবুক পোস্ট, ইউটিউব থাম্বনেইল এবং আরও নানান ধরণের লেআউট পাবেন।

সুবিধা:

  • অ্যানিমেট করার অপশন আছে,
  • ফ্লায়ার, অ্যাড ও পোস্টার বানানো যায়,
  • প্রি-মেড ইনভিটেশন টেম্প্লেটস আছে,
  • কুইক ফটো ফিল্টার ও এফেক্ট রয়েছে,
  • সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট এডিট করা যায়।

শেষ কথা,,

অনলাইনে ছবি এডিট করার এমনিতে আরো নানান ফ্রি ওয়েবসাইট গুলি রয়েছে যেগুলিকে জেকেও ব্যবহার করতে পারবেন। তবে উপরে বলে দেওয়া এই ওয়েবসাইট গুলিতে গিয়ে আপনারা সম্পূর্ণ প্রফেশনাল ভাবে এবং আধুনিক এডিটিং টুলস ও ফীচার সহ ছবি গুলিকে এডিট ও ডিজাইন করার সুযোগ পাবেন। তাই, আশা করছি আমাদের আজকের আর্টিকেলটি আপনাদের অবশই কাজে লেগেছে। কোনো ধরণের প্রশ্ন বা পরামর্শ থাকলে আমাদের জানাতে ভুলবেননা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top