মানসিক টেনশন দূর করার উপায় – (দুশ্চিন্তা দূর করুন)

মানসিক টেনশন দূর করার উপায় গুলো কি কি এবং কিভাবে মন থেকে দুশ্চিন্তা দূর করতে পারবেন, এই বিষয় নিয়ে আমাদের আজকের আর্টিকেল রয়েছে। 

আজকের দিনে প্রতিটি মানুষ কম বেশি মানসিক অবসাদের শিকার।

সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষ, ক্রিকেটার থেকে গায়ক প্রত্যেকেই মানসিক দুশ্চিন্তা বহন করেন।

যদিও মানসিক দুশ্চিন্তা বা মানসিক অবসাদ বা মানসিক টেনশন এই শব্দগুলির থেকে আজকের সমাজ ডিপ্রেশন শব্দটির সঙ্গে বেশি পরিচিত।

খুব সামান্য সামান্য বিষয়েই মানুষ আজ কাল ডিপ্রেশনের শিকার হচ্ছে।

কথায় কথায় ব্যবহৃত এই শব্দটির অর্থ বা আসলে ডিপ্রেশন জিনিসটা কি? সে সম্পর্কে সঠিক ধারনা অনেকেরই নেই।

লেখার প্রথমেই তাই ডিপ্রেশন বা মানসিক টেনশন জিনিসটা কি তা আলোচনা করে নেওয়া দরকার। 

Post Contents

মানসিক টেনশন বা ডিপ্রেশন কি ?

টেনশন দূর করার উপায়
মানসিক টেনশন বা দুশ্চিন্তা দূর করার উপায় !

ওয়ার্ল্ড হেল্থ অর্গানাইজেশন (WHO) এর সংজ্ঞা অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তির মধ্যে অবসন্ন ভাব (লো মুড), শক্তিহীনতা (লো এনার্জী) এবং উৎসাহহীনতা (লো ইন্টারেস্ট) ইত্যাদি এই ধরণের লক্ষন গুলি দেখা যায় তাহলে লোকটি ডিপ্রেশনের শিকার।

আরো সহজ ভাবে বলতে হলে, সবসময় মন খারাপের সাথে সাথে যদি ভাল না লাগা জুড়ে যায়, তাহলেই আমরা মানসিক টেনশন বা অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ি।

মন খারাপ, ভালো না লাগার পরিমানের সাথে সাথেই  মানসিক টেনশনের পরিমান বাড়ে -কমে।

গবেষক মহল তাই মানসিক অবসাদ বা মানসিক টেনশন কে তিনটি ভাগে ভাগ করেছেন।

যথা —

১) মাইল্ড বা অল্প। 

২) মডারেট বা মাঝারি। 

৩) সিভিয়ার বা গভীর।

মানসিক টেনশন আসলে কি, তা উপরের পঙক্তি তে বলা হয়েছে।

এখন, পাঠক বা পাঠিকা ভাবতে পারেন, মানসিক টেনশন কি কোনো অসুখ ? এই অসুখের লক্ষন গুলোই বা কি কি? 

ডাক্তার এবং গবেষক মহল মনে করেন, মানসিক টেনশন বা ডিপ্রেশন কোনো অসুখ নয়।

এটি আসলে অন্যান্য অনেক অসুখের কারন।

মানসিক টেনশনের লক্ষণ এবং প্রভাব

তবে মানসিক টেনশনের বেশ কিছু লক্ষন আছে। 

১. মাথা ব্যথা :-

আজকালকার দিনে মাথা ব্যথা খুব স্বাভাবিক একটা সমস্যা, যেভাবে মানুষ তার মস্তিষ্কের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে তাতে এটি খুব স্বাভাবিক।

তার সাথেই মোবাইল বা ল্যাপটপের স্ক্রিনের সামনে দীর্ঘক্ষন বসে থাকাও মাথা ব্যথার কারণ হতে পারে।

কিন্তু যদি কোনো ব্যক্তি লক্ষ্য করে দেখেন যে তিনি প্রতিদিন নিয়ম করে মাথা ব্যথার সমস্যা অনুভব করছেন তখন বুঝতে হবে এটি অস্বাভাবিক।

মানসিক চাপের প্রভাবে এটি হতে পারে।

এছাড়াও যদি কোনো মানুষ দীর্ঘ দিন মানসিক অবসাদ বা মানসিক চিন্তার মধ্যে থাকলে অনেক সময় তার মাইগ্রেনের সমস্যা আসতে পারে।

২. ঘুমের ব্যাঘাত :-

কর্মব্যস্ত এই জীবনে সঠিক ঘুমের প্রয়োজন। ডাক্তারদের মতে সুস্থ এবং স্বাভাবিক মানুষের দৈনিক গড়ে ৮-৯ ঘন্টা ঘুমের প্রয়োজন।

কিন্তু কোনো মানুষ যদি মানসিক টেনশনের শিকার হন তাহলে তার স্বাভাবিক ঘুম হয় না।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কম ঘুম হয় বা অনেক ক্ষেত্রে ছাড়া ছাড়া ঘুম হয়।

মনে রাখতে হবে  দীর্ঘদিন যদি কোনো ব্যক্তি স্বাভাবিকের চেয়ে কম ঘুমান তাহলে তিনি ইনসমনিয়ার শিকার হতে পারেন। 

৩. শারীরিক ক্লান্তি :-

মানসিক টেনশনের আর একটি লক্ষন হল শারীরিক ক্লান্তি।

শরীরে পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, মাথা ব্যথা, মানসিক অবসাদ শারীরিক ক্লান্তি ডেকে নিয়ে আসে।

এর ফলে মানুষ শারীরিক এবং মানসিক ভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে।

শারীরিক ক্লান্তি দূর করতে না পারলে কাজ করার ক্ষমতা, সৃজনশীল চিন্তাভাবনার ক্ষতি হয়।

শুধু তাই নয় শারীরিক ক্লান্তি দিন দিন বৃদ্ধি পেলে তা দেহের পক্ষে ক্ষতিকর রোগ সৃষ্টি করে। 

৪. শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা :-

মানসিক টেনশনের ফলে শরীরে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায় ফলে হঠাৎ হঠাৎ করে শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে বলে অনুভব হতে পারে। 

মানসিক টেনশনের রোগীরা অনেক ক্ষেত্রেই উচ্চরক্তচাপ ঘটিত অসুখে ভোগেন তাই তারা কোনো কারণ ছাড়াই মাঝে মাঝে আতঙ্ক গ্রস্থ হয়ে পড়েন।

অনেক ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত মানসিক টেনশনের ফলে স্ট্রোকের সম্ভাবনা বেড়ে যাওয়া দেখা যায়। 

৫. বুকে ব্যথা :-

মানসিক টেনশনের রোগীরা যেহেতু রক্তচাপ ঘটিত অসুখে ভোগেন তাই অনেকক্ষেত্রেই তাদের  বুকে ব্যথা বা ইস্চেমিয়া শুরু হয়, হৃৎস্পন্দন হার বেড়ে যায় এবং মানসিক টেনশন থেকে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা থাকে।

৬. খাওয়ায় অরুচি ভাব :-

অনেকক্ষেত্রেই দেখা যায় দুশ্চিন্তার  কারনে খাওয়া বন্ধ হয়ে যায় অথবা খাবার খাওয়ার ইচ্ছা চলে যায়।

কারও কারও ক্ষেত্রে আবার খাবারে অরুচি ভাব জন্মায়।

পরিচিত কোনো খাবারেই তার তৃপ্তি বোধ আসে না, খাবার খাওয়ার ইচ্ছে হয়না, ক্ষিদে পায় না।

আর এজাতীয় পরিস্থিতিতে মানুষ খাবার হিসাবে বেছে নেয় সুস্বাদু, অস্বাস্থ্যকর খাবার। 

৭. বদ হজম ও চামড়ার সমস্যা :-

অপর্যাপ্ত ঘুম, শরীরে জলের অভাব, অস্বাস্থ্যকর খাবার ইত্যাদির ফলে মানসিক টেনশন গ্রস্থ ব্যক্তিদের হজমের সমস্যা দেখা যায়।

বদ হজমের জন্যই অনেকক্ষেত্রে তাদের ব্রণ, পিম্পল,  ইত্যাদির সমস্যা দেখা যায়।

৮. কাজে অমনোযোগী লক্ষন :-

যেহেতু মানসিক টেনশন গ্রস্থ একজন মানুষ সাধারন মানুষের থেকে বেশি সময় অপ্রয়োজনীয় এবং অসংলগ্ন চিন্তাভাবনায় ব্যস্ত থাকেন, তাই তার মস্তিষ্কের অনেকাংশ কাজ করতে অক্ষম হয়ে যায়।

এইসময় সৃষ্টিশীল বা সৃজনশীল চিন্তাগুলো ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে থাকে। 

শুধু তাই নয় কাজ করার ইচ্ছাও কমে আসে।

অহেতুক চিন্তার হলে শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে ফলে অল্প পরিশ্রম করেই আর কর্মক্ষমতা থাকে না। 

মানসিক টেনশন দূর করার উপায় গুলো কি কি ?

শুধু সমস্যা নিয়ে আলোচনা করে কিছু হবে না।

এই জটিল অসুখ থেকে বেরিয়ে আসার উপায় খুঁজতে হবে।

দ্রুত অবসাদগ্রস্থ যে মানুষগুলো মাথায় একরাশ চিন্তার বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছে, তাদের চিন্তার জাল থেকে মুক্ত করতে হবে। 

আর এক্ষেত্রে আমাদের এমন কিছু উপায় খুঁজে বের করতে হবে যেগুলোর সাহায্যে এই মানসিক চিন্তার থেকে আমরা মুক্তি পেতে পারি।

১. দুশ্চিন্তা অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নিন :-

চাইলেই অন্যের সঙ্গে নিজের দুশ্চিন্তা ভাগ করে নেওয়া যেতে পারে।

এতে অনেকক্ষেত্রে টেনশন কমে।

যে চিন্তাটি কোনো মানুষের কাছে আটকে থাকে তাকে আরও বিপর্যস্ত করে থাকে যা অনেকক্ষেত্রেই ভাগ করে নিলে মানব মনে কম প্রভাব ফেলে। 

তবে মনে রাখতে হবে, এক্ষেত্রে এমন লোকেদের কাছেই নিজের দুশ্চিন্তা প্রকাশ করতে হবে, যারা এই দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত হবার উপায় বলতে পারবেন বা সব কথা মন দিয়ে শুনবেন।

কখনই এই বিষয়টা নিয়ে হাসি ঠাট্টা করবে না।

২. নিজের বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো :-

অনেক সময় দেখা যায় বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটালে মানসিক টেনশন অনেক কম হয়।

বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো মানসিক টেনশন দূর করার একটি দারুন উপায়।

সবসময় একা থাকা মানসিকতা, মানুষের মনের পাশাপাশি শরীরের এবং হৃদযন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে।

এমনকি যদি হৃদরোগ ধরা না পড়ে তাহলেও ক্ষতির সম্ভাবনা থেকে যায়। 

তাই একা ঘরে বসে কখনই নিজেকে বন্দী করে লাভ নেই, এতে টেনশনের পাশাপাশি মানসিক উদ্বেগ বাড়ে।

তাই ছুটি পেলেই বন্ধুদের সাথে সময় কাটানো উচিত।

কিন্তু যদি বন্ধুরা স্বার্থ্যপর হয় তাহলে হিতে বিপরীত হতে পারে।

তবে যদি সাপোর্টিভ কোনো বন্ধু থাকে তাহলে অবশ্যই সে সাহায্য করবে।

৩. শরীরকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং পর্যাপ্ত ঘুম প্রদান :-

একটি পূর্ণবয়স্ক মানুষের দিনে গড়ে ৮ ঘন্টা ঘুমানো উচিত।

কিন্তু মানসিক টেনশনের রোগীরা এর থেকে কম সময় ঘুমিয়ে থাকে এবং সেই ঘুম একটানা হয় না। 

পর্যাপ্ত ঘুমের ক্ষেত্রে সময়ের থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল কতটা নিশ্চিন্ত মনে ঘুমোনো। 

বিজ্ঞানের ভাষায় ‘Sleep apnea’ বলে একটি বিষয় আছে, যেখানে এমন একটি অবস্থা সৃষ্টি হয় যখন ব্যক্তি নিঃশ্বাসের অসুবিধার জন্য ঘুম থেকে হঠাৎ হঠাৎ করেই জেগে ওঠেন। 

এই সমস্যা ভুক্ত রোগীদের  হৃদরোগ হওয়ার আশঙ্কা থেকে থাকে।

রাতে পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ঘুমচক্র স্বাভাবিকভাবে পূর্ণ হয় না, এদিকে রাতের বেলা স্বাভাবিকভাবেই দেহের রক্তচাপ কম থাকায়  শরীরে হরমোন উৎপাদন কমে যায়।

ফলে উচ্চরক্তচাপ বা হাইপারটেনশন এবং হৃদরোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

৪. প্রাণ খুলে হাসতে হবে :-

প্রাণ খুলে হাসতে পারলে মানসিক টেনশন অনেক কম থাকে।

শুধু তাই নয় প্রাণ খুলে হাসার প্রবণতা অতিরিক্ত আবেগ এবং ক্রোধকে নিয়ন্ত্রণ করে, সাথে দেখা গিয়েছে যে সকল মানুষ প্রাণ খুলে হাসতে পারেন তারা গম্ভীর মানুষের থেকে তুলনামূলকভাবে বেশি সুস্থ থাকেন।

কারন, তাদের স্নায়ুতন্ত্র এবং সংবহনতন্ত্র অনেক বেশি কার্যকরী হয়।

৫. নিয়মিত ধ্যান, প্রাণায়ম, যোগ ব্যায়াম করা :-

মানসিক টেনশন বা মানসিক ক্লান্তি বা মানসিক অবসাদ যাই হোক না কেন, প্রাণায়ম, ধ্যান ইত্যাদি এক্ষেত্রে দারুন ভাবে কার্যকর হয়।

মানসিক টেনশনগ্রস্থ মানুষের মন কখনো স্থির থাকতে পারে না।

তারা প্রতিটা মুহুর্তে কিছু না কিছু চিন্তাভাবনা করতে থাকেন।

রোজ সকালে উঠে কয়েকমিনিট ধ্যান করলে মন স্থির হয়।

মন স্থির হলে অহেতুক চিন্তাভাবনা মাথায় আসে না।

তার সঙ্গে প্রাণায়ম এবং অন্যান্য যোগ ব্যায়াম মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়।

ধ্যান বা প্রাণায়ম আসলে কিছু সময়ের জন্য প্রকৃত ভাবে মনকে স্থির করে ফলে দেহ এবং মস্তিষ্কের বিশ্রাম লাভ হয়। 

৬. নেশা জাতীয় দ্রব্য গ্রহন না করা :-

মদ্যপান করলে দেহে ট্রাইগ্লিসারিনের সঞ্চয় হয় এবং এটি  রক্তচাপ বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য হৃদপিণ্ড অকার্যকর হয়ে যেতে পারে। 

সাথে সাথেই, ক্যাফেইন আছে এমন নেশার দ্রব্য থেকে সব সময় দূরে দূরে থাকা উচিত।

ক্যাফেইন দ্রুত ইন্দ্রিয় কে উত্তেজিত করে, ফেলে মানসিক টেনশন দ্রত বৃদ্ধি পায়।

৭. সময় পেলে ঘুরতে যাওয়া যেতে পারে :-

মানসিক টেনশন কমানোর আর একটি সহজ উপায় হল, ঘুরতে যাওয়া।

পাহাড় কিংবা সমুদ্র যেকোনো জায়গায় ঘুরতে গেলে মন অনেকটা চিন্তা মুক্ত হয়, সাথে সাথেই মানসিক চাপ অনেকটা কমে যায়।

যদি বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে যাওয়া যেতে পারে তাহলে আরোই ভালো হয়।

কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় ও শিল্পী রামকিঙ্কর বেইজ পূর্ণিমার রাতে কোপাই নদীর ধারে ঘুরতে যেতেন।

এতে মন সতেজ হত, সৃজনশীলতা বৃদ্ধি পেত এবং মানসিক চিন্তা দূর হত।

অনেকেই ছুটি পেলে মানসিক চাপ কমানোর জন্য ঘুরতে চলে যান, কাছাকাছির মধ্যে।

তাই যদি এমন কেউ থাকেন, যিনি দীর্ঘদিন কোথাও ঘুরতে যাননি, ঘরে বসে বসে মানসিক অবসাদে ভুগছেন, পাহাড়ি এলাকায় বা সমুদ্র সৈকতে ঘুরে আসতে পারেন।

ফিরে এসে নিজের মনের তফাৎ নিজেই অনুভব করবেন। 

৮. পছন্দের বই পড়া যেতে পারে :-

জানলে অবাক হবেন, মানসিক টেনশন কমানোর একটা দারুন উপায় হচ্ছে বই পড়া।

যারা বই পড়েন তারা সহজে অবসাদগ্রস্ত হন না।

বই পড়লে মস্তিষ্কের সচলতা বজায় থাকে। মস্তিষ্ক সচল থাকলে টেনশনের পরিমান কমে যায়।

একটি কৌতুক সোস্যাল মিডিয়াতে বেশ প্রচারিত হয়েছিল, সেখানে একজন ডাক্তার রোগীর মন খারাপের অসুখ শুনে, তাকে সকালে শিবরাম এবং রাতে লীলা মজুমদারের বই পড়ার পরামর্শ দেন।

ঘটনাটি আপাত দৃষ্টিতে মজার হলেও আসলে এটি সত্যি।

মানসিক অবসাদ বা মানসিক টেনশন দূর করার উপায় হিসাবে অনেকেই কৌতুক বা মজার গল্পের বই পড়তে ভালোবাসেন। 

৯. মন ভালো করা গান শোনা :-

একটা সময় কেউ ভাবতে পারেনি, গান মানুষের মন ভালো করতে পারে।

আজকের দিনে চিকিৎসকরা অনেক রোগীকে ওষুধের সাথে মিউজিক থেরাপির পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

কিছু কিছু গান আছে যেগুলি অবসন্নতা দূর করে রোগীকে মানসিক শান্তি প্রদান করে।

অনেকেই দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে কাজ থেকে ফিরে এসে ক্লান্তি দূর করার জন্য গান শুনে থাকেন।

গান মানসিক ক্লান্তি দূর করতে পারে। মানসিক ক্লান্তি অনেক সময় মানসিক টেনশনের কারন হতে পারে।

তাই নিজের পছন্দের গান আপনাকেও মানসিক চিন্তা থেকে দূরে রাখতে পারে। 

১০. গাছ লাগানো এবং বাগান করা যেতে পারে :-

“চোখ তো সবুজ চায়, দেহ চায় সবুজ বাগান”, 

কংক্রিটের এই জঙ্গলে মানুষের দুদন্ড থামার উপায় নেই। কর্মব্যস্ততা পিছু ছাড়তে চায় না। ফলে মানসিক চাপ দিন দিন বেড়েই চলেছে।

অনেক অসুধ, অনেক ডাক্তার দেখিয়েও মানসিক চাপ মুক্তি না মিললে, গাছেরাই ভরসা।

অনেকেই মানসিক টেনশন কমানোর জন্য গাছ লাগানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

গাছ লাগানোর প্রবণতা বা বাগান করার প্রবণতা অনেকাংশে মানসিক টেনশন দূর করে থাকে।

গাছেদের সবুজ রং চোখের আরামের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।

সাথে সাথেই মনকে শান্ত করতে, আবেগ নিয়ন্ত্রন করতে গাছেদের জুড়ি মেলা ভার।

তাই কেবল সৌন্দর্য বা পরিবেশের জন্য নয় নিজের মানসিক শান্তির জন্য গাছ লাগানো যেতেই পারে।

১১. সৃজনশীল কাজে মনোনিবেশ করা :-

মানসিক টেনশন দূর করার জন্য বিভিন্ন সৃজনশীল কাজ বেশ উপকারী।

যেমন শৌখিন ভাবে ঘর গুছানো, ছবি আঁকা, ডায়েরি লেখা, উলের কাজ, ইত্যাদি। 

১২. নিজেকে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত রাখা :-

মানুষের সঙ্গে সময় কাটালে মানসিক টেনশন অনেকটা দূর হয়।

আর এর জন্য বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকা যেতে পারে।

বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকলে মন ভালো থাকে।

মানুষের সাথে মেলা যায়, মন খুলে কথা বলা যায়, মানুষের উপকার করে আনন্দিত হওয়া যায়। 

১৩. বিভিন্ন পোষ্য পোষা যেতে পারে :-

অনেকেই মানসিক টেনশন দূর করার জন্য পোষ্য পোষার কথা বলে থাকেন।

পোষ্য হল সব সময়ের এক সঙ্গী। অনেকেই পোষ্য কে তার সন্তানের মতো করে আদর ভালোবাসা দিয়ে থাকেন।

এবং বর্তমানে পোষ্য এবং মালিকের অনেক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিডিও সোস্যাল মিডিয়াতে আছে।

অনেকের জীবনের পরিবর্তন ঘটেছে পোষ্য পালনের পর।

তাদের অকৃত্রিম ভালোবাসা মানসিক অবসাদ কমাতে ও হাসিখুশি থাকতে সাহায্য করে। 

 

আমাদের শেষ কথা,,

আশা করছি পাঠক বা পাঠিক, মানসিক টেনশন নিয়ে লিখা আমাদের আজকের আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ পড়বেন। 

যদি আপনি নিজে মানসিক টেনশনের শিকার হয়ে থাকেন এবং লেখাটি পড়ে যদি কোনোভাবেই উপকার পেয়ে থাকেন, তাহলে লেখাটি স্বার্থক।

যদি আপনাদের পরিচিত কেউ মানসিক টেনশনের শিকার হয়ে থাকে, তাদের সাথেও এই উপদেশ গুলি শেয়ার করতে পারেন।

শেষে, কিভাবে মানসিক টেনশন দূর করা যায় বা মনের দুশ্চিন্তা দূর করার উপায় গুলো কি কি নিয়ে যদি আপনাদের মনে কোনো ধরণের প্রশ্ন বা মতামত থেকে থাকে, তাহলে অবশই নিচে কমেন্ট করে জানাবেন। 

 

1 thought on “মানসিক টেনশন দূর করার উপায় – (দুশ্চিন্তা দূর করুন)”

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Scroll to Top
Copy link