ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসা কিভাবে শুরু করবেন ?

ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসা কিভাবে শুরু করবেন ? ব্যবসার নিয়ম, উপায় এবং ধাপ গুলো কি কি ? আজকের আর্টিকেলের মাধ্যমে আমরা এই সম্পূর্ণ বিষয় গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে চলেছি। 

ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসা
How to start travel agency business ?

ঘুরে বেড়ানোটা যদি আপনার নেশা হয়, আপনি যদি স্বভাবে পরিপাটি হন আর মানুষের সাথেসাথে সরাসরি কাজ করাটাকে আপনি যদি এনজয় করেন,

তাহলে একজন ট্রাভেল এজেন্ট হিসেবে আপনার কেরিয়ার যথেষ্ট উজ্জ্বল হতে পারে।

আর, করোনা মহামারী সময়কালটা বাদ দিলে ট্রাভেল ইন্ডাস্ট্রি সারা বিশ্বেই যথেষ্ট লাভজনক ব্যবসা হিসেবে বিবেচিত হয়।

কারণ, মানুষের ঘুরে-বেড়ানো, অজানা-অচেনাকে-অদেখাকে জানার কৌতূহল তাকে ভ্রমণের প্রতি আকৃষ্ট করে।

তাই, পৃথিবীর অসংখ্য মানুষ এই travel agency business-কেই নিজেদের রোজগারের উপায় করে নিয়েছেন।

এই অসংখ্য মানুষের মতো, আপনিও কি নিজের ট্রাভেল এজেন্সির স্বপ্ন দেখেন ?

আপনিও কি জানতে চান যে, কিভাবে একটা ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসা শুরু করা যায় ?

তাহলে, আমাদের আজকের এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণভাবেই আপনার জন্যে!

আমরা এখানে এমন সব জরুরি উপায় নিয়ে আলোচনা করবো, যা আপনাকে একটা সফল ট্রাভেল এজেন্সি গড়তে সাহায্য করবে।    

Post Contents

ট্রাভেল এজেন্সী কি ?

ট্রাভেল এজেন্সি হল এমন একটা কোম্পানি, যেটা ভ্রমণকারীদের ট্রাভেল ও ট্যুরিজম-সম্পর্কিত বুকিং সার্ভিস এবং প্ল্যানিং তৈরী করে দেয়।

সংক্ষেপে, এই ধরণের ব্যবসাতে আপনাকে ট্যুরিস্টদের হয়ে এয়ার ট্র্যাভেল, হোটেল/লজ, গাড়ি বুকিং, এবং ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থা করে দিতে হয়।

এই সমস্ত ব্যবস্থাটাই করা হয় ট্যুরিস্টদের কাছ থেকে একটা টুর প্যাকেজ থেকে আসা টাকার বিনিময়ে।

এই ব্যবসাতে খরচ কেমন ?

যদিও, একজন ট্রাভেল এজেন্ট হতে গেলে, আপনার কাছে সেরকমভাবে কোনো ডিগ্রী/সার্টিফিকেট না থাকলেও চলবে।

তবে, ট্রাভেল এজেন্ট হিসেবে কেরিয়ার শুরু করতে গেলে,

আপনার ট্রাভেল ও ট্যুরিজম সংক্রান্ত ডিপ্লোমা বা সার্টিফিকেট আপনাকে প্রাথমিকভাবে এই পেশা সম্পর্কে বুঝতে সাহায্য করবে।

অনেক ট্রাভেল এজেন্টই এই এজেন্সিগুলোতে কাজ করার আগে অন্তত ট্রাভেল ও ট্যুরিজম বিষয়ে ডিপ্লোমা করেই থাকেন।

তবে, আপনি ডিপ্লোমা না করতে চাইলে, সরাসরি নিজের ট্র্যাভেল এজেন্সিকে রেজিস্টার করে ব্যবসা শুরু করতেই পারেন।

আপনি অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের জন্যে সাময়িকভাবে কোনো ট্রাভেল এজেন্সিতে পার্টটাইম হিসেবে কাজ করতেও পারেন।

নিজের ট্রাভেল এজেন্সি খুলতে চাইলে,

আপনার খরচ নির্ভর করবে আপনার ব্যবসা হোম-বেসড হবে নাকি অফিসসমেত ট্রাভেল এজেন্সি হবে, তার উপর।

এখানে হোমবেসড এজেন্সিতে খরচ তুলনামূলকভাবে কম।

কিন্তু, ঘর হোক বা অফিস সেটআপ, আপনাকে অবশ্যই কম্পিউটার, দরকারি সফটওয়্যার, প্রিন্টার এবং হাই-স্পিড ইন্টারেন্টের ব্যবস্থা রাখতেই হবে।

আপনাকে একটা স্ট্যান্ডার্ড ট্রাভেল এজেন্সির ব্যবসা শুরু করতে নূন্যতম ২ থেকে ৫ লক্ষ টাকা খরচ করতে লাগতে পারে। 

এমনিতে একেবারে কম খরচে যদি এই ট্রাভেল ব্যবসা শুরু করতে চাইছেন, তাহলে হাতে কমেও ৫০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা রাখতেই হবে।

ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসা কিভাবে শুরু করবেন ?

(ট্রাভেল এজেন্সি খোলার প্রয়োজনীয় ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ)

নিচে আমরা বেশ কিছু জরুরি ধাপ নিয়ে কথা বলেছি, যা আপনাকে একটা ভালো ট্রাভেল এজেন্সি শুরু করতে সহায়তা করতে পারে।

তবে, আপনাকে সবার আগে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে,

আপনি কোনো ট্রাভেল এজেন্সি শুরু করতে চান নাকি কোনো ট্রাভেল কোম্পানিতে কাজ করতে চান ?

১. প্রাসঙ্গিক ট্রেনিং নেওয়া:

এমন অনেক কলেজ ও বিজনেস স্কুল রয়েছে যারা ট্যুরিজমের উপর ৪-বছরের ডিগ্রী কোর্স অফার করে।

এমনকি, অনেক স্বাধীন ইনস্টিটিউটও রয়েছে যেখানে আপনি এই বিষয়ে সার্টিফিকেট কোর্সগুলোও পেয়ে যাবেন।

আর, প্রায় সব কোর্সগুলোতেই আপনি মার্কেটিং, বিসনেস ম্যানেজমেন্ট, অ্যাকাউন্টিং ও কাস্টমার সার্ভিস সম্পর্কিত বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতে পারবেন।

এছাড়াও, আপনাকে ওয়েদার ইভেন্ট ও ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার সম্পর্কেও যথেষ্ট খোঁজ রাখতে হবে।    

২. প্রতিযোগীদের প্রতি নজর দেওয়া:

ট্রাভেল ইন্ডাস্ট্রির প্রতিটা এজেন্সিই কিছু না কিছু নিশের উপর স্পেশালাইজড সার্ভিস দিয়ে থাকে।

যেমন, কিছু এজেন্সি শুধুমাত্র লাক্সারি ট্রাভেলিং প্যাকেজ দেয় কিংবা অনেক এজেন্সি আছে যারা ব্যাকপ্যাকিং ক্যাম্পের ব্যবস্থা করে থাকে ও অন্যান্য।

তবে, এই মার্কেটে প্রবেশ করার আগে আপনাকে অবশ্যই আপনার প্রতিযোগী এজেন্সিগুলোর ব্যাপারে বিস্তারিতভাবে জেনে নিতে হবে।  

৩. হোস্ট এজেন্সি, ফ্রাঞ্চাইজি বা স্বাধীন ট্রাভেল এজেন্ট বাছা:

হোস্ট ট্রাভেল এজেন্সিগুলোতে আপনি ঘন্টার ভিত্তিতে কিংবা মাস-মাইনের বিনিময়ে ট্রাভেল এজেন্ট হিসেবে কাজ করাকে বেছে নিতে পারেন।

নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের বাইরেও আপনি সহজে এই হোস্ট এজেন্সি থেকে কমিশন হিসেবে এক্সট্রা আয় করতেই পারেন।

Uniglobe Travel Avoya Travel হল এই ধরণের জনপ্রিয় হোস্ট এজেন্সি।    

এছাড়াও, আপনি স্বাধীনভাবে নিজের ট্রাভেল এজেন্সি খুলতে চাইলে,

এখানে আপনি ক্লায়েন্টদের থেকে সরাসরি ট্রাভেল ফী পাওয়ার পাশাপাশি ট্রাভেল সাপ্লায়ারদের (হোটেল, এয়ারলাইন, রেন্টাল কোম্পানি ও অন্যান্য) দেওয়া কমিশন থেকেও আয় করতে পারবেন।

আবার, কিছু বিসনেস সরাসরি অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি হিসেবেও কাজ করে (যথা- কর্পোরেট ট্রাভেল)।

এমনকি, আপনি আপনার এলাকার পরিচিত ট্রাভেল এজেন্সির থেকে ফ্রাঞ্চাইজি নিয়েও এই ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

এখানে আপনি প্রয়োজনীয় ট্রেনিং প্রোগ্রামও পাবেন।

এছাড়াও, ফ্রাঞ্চাইজি এবং হোস্ট এজেন্সি- দুটো থেকেই আপনি ভেন্ডার পার্টনারশীপ পেতে পারেন।  

৪. নির্দিষ্ট নিশ ও টার্গেট মার্কেট দেখা:

আপনার পছন্দমতো আপনার এজেন্সি যেমন অ্যাডভেঞ্চার ট্রিপের আয়োজন করাতে পারে,

ঠিক তেমনই আপনি চাইলে আপনার কোম্পানি ইন্টারন্যাশনাল ট্যুরেরও ব্যবস্থা করতে পারে।

এখন আপনাকে একটা নির্দিষ্ট ট্রাভেল নিশ বেছে নিতে হবে।

আপনি আপনার সুবিধা-অসুবিধা, পরিচিতি, সাপ্লাইয়ারের সাথে যোগাযোগের ভিত্তিতে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

এছাড়াও, আপনাকে আপনার সম্ভাব্য কাস্টমার বা ক্লায়েন্টের ভিত্তিতেও এই ব্যাপারে ভাবতে হবে।

নিশ ঠিক করার আগে অবশ্যই নিজের কাছাকাছি এলাকার জনবসতি এবং তাদের গড় আয়ের বিষয়েও খোঁজ নিন।  

৫. বিসনেস স্ট্রাকচার ঠিক করা:

এই ধরণের ব্যবসাতেও আপনাকে একটা নির্দিষ্ট বিসনেস স্ট্রাকচার মেনে কোম্পানি তৈরী করতে হবে।

বেশিরভাগ এজেন্সিগুলোই এই ক্ষেত্রে লিমিটেড লায়াবিলিটি কোম্পানি বা LLC স্ট্রাকচারকে বেছে নেয়।

কারণ, এই ধরণের স্ট্রাকচার আপনার ব্যক্তিগত সম্পত্তিকে সুরক্ষা দিতে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।

এছাড়াও, আপনি সোল প্রোপ্রাইটারশিপ বা স্বাধীন মালিকানা নিয়েও এই ব্যবসার সূচনা করতে পারেন।

অন্যদিকে, এই ব্যবসার ক্ষেত্রে কর্পোরেশন বা পার্টনারশীপ বিজনেস স্ট্রাকচারও যথেষ্ট জনপ্রিয়।   

৬. ট্রাভেল এজেন্সির নাম বেছে রেজিস্টার করা:

বিজনেস স্ট্রাকচার ঠিক করে নেওয়ার পর, আপনাকে প্রথমেই নিজের এজেন্সির একটা ভালো নাম বাছতে হবে।

আর, সবার প্রথমে দেখে নেবেন, আপনার ঠিক করা নামটার অধীনে যেন অন্য কোনো ট্রাভেল এজেন্সি রেজিস্টার্ড না থাকে।

এতে, আপনার ব্যবসা রেজিস্টার করতে অসুবিধা হবে।

তাই, আপনার ওয়েবসাইট বা বিসনেস কার্ডের পিছনে খরচ করার আগে অবশ্যই ব্যবসার রেজিস্টার করতে ভুলবেন না।

আপনি আপনার নিকটবর্তী স্টেট সেক্টরেটরি অফিস থেকেই এই ব্যবসার রেজিস্ট্রেশন পেতে পারেন।   

৭. ট্রাভেল এজেন্সির বিজনেস প্ল্যান করা:

এই ধরণের ব্যবসাতে অনেকেই বিজনেস প্ল্যান বানানোর ব্যাপারটা এড়িয়ে যান।

কিন্তু, আসলেই একটা সঠিকভাবে তৈরী বিজনেস প্ল্যান আপনার ব্যবসার জন্যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ, একটা ভালো পরিকল্পনা করা থাকলে, সেটা আপনার ব্যবসার লক্ষ্যগুলো অর্জন করতে সাহায্য করে।

একটা ভালো ব্যবসায়িক পরিকল্পনাতে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ,

✔ নতুন বিসনেসের নাম ও ওয়েবসাইট,

✔ বিসনেসের লোকেশনের ও ঠিকানা,

✔ ব্যবসার স্ট্রাকচার,

✔ ট্রাভেল ইন্ডাস্ট্রির নিশ,

এছাড়াও, একজন পেশাদার ট্রাভেল এজেন্ট হিসেবে আপনাকে বিভিন্ন ধরণের পার্টনারশীপ গুলো তৈরি করতে হবে;

যেমন- হোটেল, ক্রুজ লাইন, রেন্টাল কোম্পানি গুলোর সাথে ভালো সম্পর্ক রাখতে হবে।

আপনাকে এজেন্সির বৃদ্ধির উদ্দেশ্যেও বিভিন্ন প্ল্যান তৈরি করতে হবে।

৮. বিসনেস ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা:

যেকোনো ব্যবসার মতোই এই ব্যবসার ক্ষেত্রেও আপনাকে একটা বিজনেস ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে।

এবং একটা বিজনেস ক্রেডিট কার্ডের জন্যেও আবেদন করতে হবে।

৯. রাজ্য সরকারের স্বীকৃত বিসনেস লাইসেন্স/পার্মিট নেওয়া:

আপনার দেশ অনুযায়ী আপনাকে নিম্নলিখিত লাইসেন্স ও পার্মিট পেপারের ব্যবস্থা করতে হবে,

  • জেনারেল বিজনেস লাইসেন্স (ব্যবসার লোকেশনের উপর নির্ভর করে),
  • ট্রাভেল এজেন্ট লাইসেন্স (রাজ্য সরকারের নিয়মের উপর নির্ভর করে),
  • এম্প্লয়ার আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (বিজনেস ট্যাক্স, পেরোল ট্যাক্স এবং আপনার অধীনস্থ কর্মচারী থাকলে ট্যাক্স ফাইল করার সময় এই EIN নম্বর লাগবে।)
  • জোনিং (হোমবেসড ট্রাভেল এজেন্ট হিসেবে আপনার বাড়ির অফিসকে জোনিং রিকোয়ারমেন্ট পূর্ণ করতে হবে।)

১০. ওয়েবসাইট ও সোশ্যাল মিডিয়া প্রেসেন্স তৈরী:

অন্যান্য ট্রাভেল এজেন্সি কোম্পানিগুলোর মতো আপনার কোম্পানির জন্যেও একটা ঝাঁ-চকচকে, ইউসার-ফ্রেন্ডলি ওয়েবসাইট তৈরী করাটা খুবই জরুরি। এই ধরণের ব্যবসার ক্ষেত্রে ওয়েবসাইটের উপস্থিতি মানুষের মনে সহজেই বিশ্বাস তৈরী করতে পারে।

নিজের ওয়েবসাইটকে আকর্ষণীয় করে তুলতে গেলে অবশ্যই সুন্দর-সুন্দর ভ্রমণের ছবি দেওয়ার পাশাপাশি পোস্ট বা আর্টিকেল গুলোকে ইনফোরমেটিভ করে তুলুন।

বিশেষ করে, আপনার ওয়েবসাইটকে জনপ্রিয় করে তুলতে সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশনে দক্ষ পেশাদারের সাহায্য নিন, যাতে সার্চ ইঞ্জিনে আপনার ওয়েবসাইট সহজেই rank করতে পারে।

আপনার ক্লায়েন্টরা যাতে দ্রুত আপনার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলো এক্সপ্লোর করতে পারে, তার জন্যে যথেষ্ট ভালো সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট টিমকে নিয়োগ করুন।  

১১. অ্যাকাউন্টিং সফটওয়্যার বাছা:

একটা ট্রাভেল এজেন্সি বিজনেস শুরু করার অর্থ হলো, প্রফেশনালভাবে সমস্ত ট্যুর ও ম্যানেজমেন্টের কাজগুলোকে সামলানো।

এই কারণেই, আপনার ট্রাভেল কন্ট্রাক্ট, বুকিং, ইনভয়েস, রিসিপ্ট কপি, ভেন্ডার ডিটেলস এবং নানান অফিসিয়াল ডকুমেন্টেশনের জন্যে কার্যকরী সফ্টওয়্যারের প্রয়োজন।

এক্ষেত্রে, আপনি Fresh Books, itouroperator Zoho-এর মতো সফটওয়্যারগুলো ব্যবহার করে দেখতে পারেন।

১২. ট্যাক্সের ব্যবস্থা করা:

সরকারের কাছে ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়ার অর্থ হল আপনার ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরী।

যে কারণে, EIN নম্বরের ব্যবস্থা করে কোনো ভালো অ্যাকাউন্টিং সফটওয়্যারের সাহায্যে খরচ ও পেমেন্টের হিসেব রেখে সময়মতো ট্যাক্স দেওয়ার ব্যবস্থা রাখুন।  

১৩. বিসনেস ইন্স্যুরেন্স করা:

আপনার ব্যবসার সুরক্ষার দায়িত্ব একান্তই আপনার হাতে।

তাই, কোনো অবাঞ্চিত দুর্ঘটনা থেকে নিজের ব্যবসাকে আর্থিক ঝুঁকির হাত থেকে বাঁচাতে অবশ্যই ব্যবসাকে সুরক্ষিত করুন ইন্স্যুরেন্সের মাধ্যমে।

ট্রাভেল ইন্ডাস্ট্রির ক্ষেত্রে ট্রাভেল ইন্সুরেন্স, বিজনেস অপারেটারের ইন্স্যুরেন্স, সাধারণ, পেশাদারি ও বাণিজ্যিক দায়ের ইন্স্যুরেন্স এবং অন্যান্য ধরণের বীমা একান্তভাবে প্রয়োজনীয়।  

১৪. ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশনের সাথে যুক্ত হওয়া:

আপনার ট্রাভেলিংয়ের ব্যবসার জন্যে কাস্টমার খুঁজে পেতে আপনি দেশীয় বা বিদেশী বিভিন্ন ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশনের সাথে যুক্ত হতে পারেন।

১৫. অফিস ও ইক্যুইপমেন্টে বিনিয়োগ করা:

অন্যান্য অফিসের মতো আপনার ট্রাভেল এজেন্সিতেও কম্পিউটার, মোবাইল সিস্টেম, প্রিন্টার, ইন্টারনেট ব্যবস্থা ও বিভিন্ন সফটওয়্যার কেনার প্রয়োজন হবে।

আর, যদি আপনার অফিস কাস্টমারদের ফেস-টু-ফেস পরিষেবা দেওয়ার জন্যে তৈরী হয়,

তাহলে আপনাকে আলাদা করে চেয়ার, টেবিলের মতো আসবাবপত্রেরও ব্যবস্থা করতে হবে।

সেক্ষেত্রে, আপনাকে যথাযথ পার্কিং লটের আয়োজনও করতে হবে।

১৬. মার্কেটিং:

আপনার ব্যবসার প্রচারের জন্যে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের সাহায্য নিন।

নিয়মিত ব্লগ, ভ্লগ, আর্টিকেল, ছবি বা ভিডিও কনটেন্ট শেয়ার করুন নিজের কোম্পানির ওয়েবসাইট/পেজ/ইউটিউব চ্যানেলে।

আপনার টার্গেট অডিয়েন্সদের সাথে ডাইরেক্ট কনভার্সেশন করুন।

এছাড়াও, ইমেইল মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে ট্রাভেল এজেন্সি অনেকটাই সহজে ক্লায়েন্ট পেতে সক্ষম।

এমনকি, লোকেদের মুখে-মুখে আপনার এজেন্সির নাম ছড়িয়ে দিন।

আপনি নিজের কোম্পানির পোস্টার, ব্যানার ও প্যামফ্লেটও বিলি করাতে পারেন।

বিজ্ঞাপন দেওয়ার পাশাপাশি আপনি আপনার কাস্টমারদের জন্যে ডিসকাউন্ট প্রাইসে ট্যুরের পরিকল্পনার প্রচারও করতে পারেন।

এক্ষেত্রে, অ্যাফিলিয়েট বা ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিংও কিন্ত যথেষ্ট কার্যকরী।    

১৭. পার্টনার খোঁজা:

বিভিন্ন বিসনেস-টু-বিজনেস মডেল, হোটেল, স্পা, রেস্টুরেন্ট বা অন্যান্য ভেন্ডারদের সাথে পার্টনারশীপ করুন।

এমনকি, কোনো মিডিয়া হাউসের সাথে পার্টনারশীপ করে তাদের বিজ্ঞাপনের স্পেসের বদলে ওই মিডিয়ার ম্যানেজার লেভেলের ক্লায়েন্টদের ডিসকাউন্টে ট্যুরের ব্যবস্থাও করতে পারেন।   

১৮. কাস্টমারদের বিশ্বাস অর্জন করা:

ট্রাভেলিং ব্যবসার ক্ষেত্রে ক্লায়েন্টরা লোক-মুখে শোনা কথার উপর ভিত্তি করেই অনেক সময় সিদ্ধান্ত নেয়।

সুতরাং, আপনার কাস্টমারদের হাতে রাখতে হলে কিংবা নতুন ক্লায়েন্ট পেতে হলে, আপনার ট্যুরিস্টদের সাথে যথেষ্ট ভালো সম্পর্ক রাখাটা প্রয়োজনীয়।

এমনকি, সমস্ত ট্যুরে যাতে আপনার পরিষেবায় কোনোরকমের ঘাটতি না হয়, সে বিষয়েও আপনার টিমের কর্মীদের বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে।

এখনকার অনলাইন জমানায় যাতে কাস্টমাররা আপনাদের এজেন্সির ভালো রিভিউ দেয়, সেই বিষয়েও নজর রাখতে হবে।

মনে রাখবেন, যে একটা বাজে রিভিউও কিন্তু আপনার ব্যবসার উপর কুপ্রভাব ফেলতে পারে।  

 

আমাদের শেষ কথা,,

আমাদের আজকের ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসা কিভাবে শুরু করবেন? নিয়ে লেখা আর্টিকেলটি এখানেই শেষ হল।

লেখাটি পছন্দ হলে নিচে কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। 

এছাড়া, আজকের আর্টিকেলটি যদি আপনাদের কোনো ভাবেই কাজে এসে থাকে,

তাহলে আর্টিকেলটি সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করার অনুরোধ আপনাদের কাছে থাকছে।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top