নিজের বউয়ের রাগ ভাঙ্গানোর ১১টি উপায় অবশই জেনে রাখুন

আপনার বউ যদি আপনার ওপর রেগে রয়েছে তাহলে অবশই আপনিও হয়তো নিজের বউয়ের রাগ ভাঙ্গানোর উপায় কিছু খুঁজছেন। 

এমনিতে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে কম বেশি ঝগড়া হয়েই থাকে কিন্তু কখনো কখনো পরিস্থিতি এমন হয়ে যায় যখন স্ত্রীদের রাগ ভাঙ্গানো স্বামীদের পক্ষে খুব মুশকিল হয়ে পরে।

মাঝে মাঝে ছোটো ছোটো ঝগড়া গুলো  এতো বড়ো হয়ে যায় যে সম্পর্ক ভাঙ্গার পরিস্থিত পর্যন্ত এসে যেতে পারে।  

কারণ বিয়ের আগে দুজনেরই একা থাকার অভ্যাস থাকে কিন্তু বিয়ের পর একজন একজনের সাথে থাকার অভ্যাস করতে হয়, এটাই মুখ্য কারণ যার জন্য স্বামী স্ত্রীর মধ্যে কোনো না কোনো কারণে ঝগড়া হয়েই থাকে। 

তাই আপনিও যদি চান আপনার সম্পর্ক যাতে শেষ হওয়ার পরিস্থিতে না আসে তাই তাঁর আগেই নিচে দেওয়া উপায় গুলো ব্যবহার করে ফেলুন। 

আজকের এই আর্টিকেলটি একমাত্র সেই স্বামীদের জন্য লিখা হয়েছে যারা নিজেদের স্ত্রীদের রাগ ভাঙ্গার উপায় খুঁজছেন। 

বউয়ের রাগ ভাঙ্গানোর উপায় গুলো কি কি ?

বউয়ের রাগ ভাঙ্গানোর উপায়
কিভাবে বউয়ের রাগ কমানো যাবে ?

তাহলে বন্ধুরা আর দেরি না করে, কিভাবে বউয়ের রাগ কমানো যাবে সেই বিষয়ে নিচে সরাসরি দেখে নেই চলুন। 

১. রাগের কারণ বোঝা

কোনো সমস্যার সমাধান বের করার আগে  সেই সমস্যার কারণ জেনে নেওয়া অনেক জরুরি।

কারণ আপনি যদি জানতেই না পারেন আপনার স্ত্রী কি কারণে আপনার উপর রেগে আছে তাহলে আপনি কি করে তাঁর রাগ ভাঙ্গাবেন। 

তাই সব থেকে জরুরি কাজ  হলো আপনার স্ত্রীর কি কারণে রাগ উঠেছে সেই কারণ জানার চেষ্টা করা। 

এবং, কারণ জানার পর তাঁকে এটা বিশ্বাস দেন যে আর কখনো এই ভূল আপনি করবেননা।

তাহলেই দেখবেন আপনার স্ত্রীর রাগ অল্প হলেও কম হবে। 

২. বউ রেগে গেলে আপনি শান্ত থাকুন

আপনার স্ত্রী যখন রেগে যায় তখন আপনি শান্ত থাকার চেষ্টা করুন এবং সে আপনার উপর যতই চিৎকার করুক না কেন আপনি তখন  নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করে যেতেই হবে।  

কারণ আপনার স্ত্রীর সাথে সাথে আপনিও যদি চিৎকার করেন তাহলে রাগ কমানোর জায়গায় সেটা ঝগড়ায় পরিণত হবে। 

তখন পরিস্থিতি সামলানো আপনার কাছে আরো বেশি মুশকিল হয়ে পড়বে।

তাই আপনার স্ত্রী যখনি রেগে থাকবে আপনি তখন আদর করে কথা বলুন এবং তাঁকে এটা বুঝান যে সে যতই রেগে আপনার উপর চিৎকার করুক না কেনো আপনি তাঁর উপর রাগবেননা।

তখন দেখবেন কিছু সময়ের পর সে নিজে নিজেই শান্ত হয়ে যাবে। 

৩. তাঁর সাথে সময় কাটান

বেশিরভাগ ঝগড়া এই কারণে হয়ে থাকে যে স্বামীরা তাঁদের স্ত্রীদের সময় দিতে পারেনা।

তাই নিজের স্ত্রীর মেজাজ ঠিক করার জন্য তাঁর সাথে সময় কাটান।

তাঁর সাথে কথা বলুন, হতে পারে তাঁর রাগ করার পেছনের কারণ এটাই রয়েছে যে আপনি তাকে সময় দিচ্ছেননা।   

তাই আপনি আপনার স্ত্রীকে বেশি সময় না দিতে পারলেও যতটুকু সময় দিবেন সেটা কুয়ালিটি সময় দেওয়ার চেষ্টা করুন। 

অর্থাৎ সে সময়ে আপনার বন্ধুদের কথা, অফিসের কাজ এর কথা না বলে শুধু আপনাদের দুজনের কথা বলুন। 

হে, অবশই মাঝে মাঝে নিজের অফিসের, বন্ধুদের বা অন্যান্য কথা বা ঘটনা গুলো তার সাথে অবশই শেয়ার করতে পারেন।

৪. বাচ্চাদের সাহায্য নিন

যদি আপনাদের বাচ্চা থেকে থাকে তাহলে আপনি নিজের রেগে যাওয়া স্ত্রীকে সামলানোর জন্য বাচ্চাদের সাহায্য নিতে পারেন। 

যখন দেখবেন আপনার স্ত্রী রেগে আছে তখন আপনার বেশিরভাগ ধ্যান বাচ্চার উপর দিবেন কারণ বাচ্চারা আশেপাশে থাকলে আপনার স্ত্রী রেগে থাকলেও আপনার সাথে চিৎকার করে কথা বলবেনা। 

এছাড়াও আপনার স্ত্রীর মেজাজ ঠিক করার জন্য বাচ্চাদের সাহায্য নিয়ে কোথাও বাইরে যাওয়ার প্ল্যান বানান।

কারণ বাইরে ঘুরতে গেলে আমাদের মন মেজাজ এমনিতে তাজা এবং ভালো হয়ে যায়।  

তবে, এই পরিস্থিতে আপনি কোথাও যাওয়ার কথা বললে সে পরিষ্কার না করে দিবে তাই বাচ্চাদর দিয়ে বলুন তাহলে আপনার স্ত্রী না করতে পারবেনা। 

এভাবে বাইরে ঘুরতে যাওয়ার দারুন একটি প্ল্যান বানিয়ে আপনি আপনার বৌয়ের রাগ কমাতে পারবেন।

৫. আপনার স্ত্রীর অনুভূতি গুলো বোঝা

আপনার স্ত্রীর সারাদিন ঘরের কাজ করতে করতেই সময় চলে যায়, যেমন রান্না করা, বাচ্চাদের ধ্যান রাখা, ঘরের সব কাজকর্ম একা হাথে সামলানো। 

তাই  স্বাভাবিক ভাবেই আপনার স্ত্রীর মেজাজ অল্প হলেও গরম থাকবেই।

আপনার এটা বোঝা জরুরি যে আপনি যেমন সারাদিন অফিসের কাজ করে ক্লান্ত হয়ে পড়েন ঠিক সেভাবেই আপনার স্ত্রীও সারাদিন ঘরের কাজ করে ক্লান্ত হয়ে পরে। 

তাই আপনি অফিস থেকে আসার পর নিজের স্ত্রীর সাথে রেগে কথা না বলে শান্তভাবে কথা বলুন, দেখবেন আপনারস্ত্রী সেটা বুঝতে পেরে আপনার উপর রাগ দেখাবেনা। 

৬. অবহেলা না করা

অবহেলা এটাও একটি বড়ো কারণ যার জন্য মহিলাদের অনেকবেশি রাগ হয়ে থাকে। 

হতে পারে বিভিন্ন ব্যস্ততার মাঝখানে আপনি বুঝতে পারছেননা কিন্তু আপনার স্ত্রীকে অনেকবেশি অবহেলা করছেন এবং সেটাই আপনার স্ত্রীর রাগের কারণ হতে পারে।

কোনো স্ত্রী এটা পছন্দ করেনা যে তাঁর স্বামী তাঁকে অবহেলা করুক। সকল স্ত্রী চায় তাঁর স্বামী যাতে তাঁকে সব থেকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে।  

কিন্তু যখন গুরুত্ব দেওয়ার পরিবর্তে আপনার স্ত্রী আপনার থেকে অবহেলা পেয়ে থাকে তখন তাঁর অনেকবেশি রাগ হওয়াটা স্বাভাবিক। 

তাই আপনাকে সব সময় এটা ধ্যান রাখতে হবে যাতে আপনি আপনার স্ত্রীকে অবহেলা না করেন এবং সব সময় তার কথায় গুরুত্ব দিয়ে ভালো করে কথা বলেন। 

৭. ঝগড়া না করা

অনেকক্ষেত্রে দেখা যায় স্বামীরা তাদের স্ত্রীদের সাথে ছোটো ছোটো কথা নিয়ে ঝগড়া করছে, তর্ক করছে। 

যেই কথাগুলো ভালো করে বললেও হয়ে যায় সে কথাগুলো নিয়ে যদি স্বামীরা তর্ক, ঝগড়া করে তাহলে স্বাভাবিকভাবেই  স্ত্রীদের রাগ উঠবেই।

তাই আপনার স্ত্রীর রাগ কমানোর জন্য কোনো কারণ ছাড়া তাঁর সাথে কোনো কথা নিয়ে তর্ক করবেননা এবং পারলে ছোটো ছোটো বিষয় গুলো নিয়ে ঠান্ডা মাথায় তাকে বুঝানোর চেষ্টা করুন। 

৮. বউয়ের ধ্যান রাখুন

 নিজের স্ত্রীর যত্ন করা, তার কথা চিন্তা করাটা অবশই দরকার এবং তাঁর ছোটো বড়ো সব প্রয়োজনের ধ্যান রাখাটাও আপনার উচিত।

হতে পারে আপনি আপনার  স্ত্রীর ভালো করে খোঁজ খবর রাখেননা, ধ্যান রাখেননা তাই সে আপনার উপর রাগ হয়ে থাকে। 

আপনার স্ত্রী সারাদিন আপনার যত্ন করে থাকে আপনি কি খেতে ভালোবাসেন, আপনি অফিস যাওয়ার সময় আপনার জামাকাপড় টিফিন সব হাথের কাছে রাখা যাতে আপনার খুঁজতে না হয়।

ঠিক সেভাবেই আপনারও কর্তব্য আপনি যাতে নিজের স্ত্রীর যত্ন রাখেন, তাহলেই দেখবেন আপনার স্ত্রী আর আপনার উপর রেগে থাকতে পারবেনা। 

৯. মাঝে মাঝে উপহার দিন

উপহার পেতে কে না পছন্দ করে, ঠিক সেভাবেই নিজের স্ত্রীকে যখন আপনি উপহার দিবেন, তখন সে সেই উপহার দেখে অনেক আনন্দিত হয়ে পরবেন এবং আপনার ওপরে থাকা তার রাগ অবশই কমে আসবে।

দেখুন, উপহার হলো এমন একটি মাধ্যম যেটার দ্বারা আমরা আমাদের প্রিয়জন দের খুশি করতে পারি।

তবে, উপহারের মূল্য অধিক থাকুক বা কম, সেটা কিন্তু তেমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় না।

আপনি আদর করে নিজের স্ত্রীকে যেটাই দিবেন সে অবশই সেটাতেই আনন্দিত অনুভব করবে।

১০. সিনেমা দেখতে চলে যান

আপনার স্ত্রী সারাক্ষন ঘরের কাজেই নিজেকে ব্যস্ত রাখে, বাইরে ঘুরতে যাওয়ার মন হলেও সে ঘর ছেড়ে একটু ঘুরে আসতে সময় পায়না।

এর মধ্যে যদি সে নিজের স্বামীর ওপরে রেগে রয়েছে, তাহলে তো হয়েই গিয়েছে।

এক্ষেত্রে, বউয়ের রাগ কমানোর দারুন একটি উপায় হলো, তাকে সিনেমা দেখতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা।

আপনার বৌ কিরকম ধরণের সিনেমা দেখতে পছন্দ করে থাকে, সেটা আগে জানুন এবং তাকে সেই হিসেবেই ভালো সিনেমা হল (cinema hall) এর মধ্যে সিনেমা দেখতে নিয়ে যান।

এতে দেখবেন, বাড়ি ফিরতে ফিরতে আপনার বৌ এর রাগ এমনিতে কমে গিয়েছে।

১১. মাঝে মাঝে রোমান্টিক হওয়া

ঘর, সংসার, বাচ্চা, কাজ, অফিস সবটাই রয়েছে এবং এগুলো আমাদের জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তবে, মনে রাখবেন স্বামী স্ত্রীর মধ্যে যদি রোমান্স (romance) কমে যায় তখন তাদের মধ্যে ঘন ঘন ঝগড়া হবেই।

তাই, কাজ-কর্ম ইত্যাদিকে পাশে রেখে মাঝে মাঝে নিজের বৌয়ের সাথে রোমান্টিক কথা বলুন এবং রোম্যান্স করুন।

এতে, দেখবেন আপনার বৌ সব রাগ ভুলে যাবে এবং তার মেজাজ ভালো থাকবে।

মনে রাখবেন, আপনার স্ত্রীর কাছে স্বামী হিসেবে আপনি সব, তাই নিজের স্ত্রীর প্রত্যেক চাহিদা এবং ইচ্ছে গুলোর ওপরে আপনার নজর দেওয়াটা অবশই জরুরি।

 

আমাদের শেষ কথা,,

তাহলে বন্ধুরা, আজকের আর্টিকেলের মাধ্যমে আমরা জানলাম “নিজের বউয়ের রাগ ভাঙ্গানোর উপায় গুলোর বিষয়ে“.

আশা করছি, আর্টিকেলটি পড়ার পর আপনি কিছুটা হলেও সাহায্য পাবেন।

আর্টিকেলের সাথে জড়িত কোনো ধরণের প্রশ্ন বা পরামর্শ থাকলে অবশই নিচে কমেন্ট করে জানিয়ে দিবেন।

এছাড়া, যদি আর্টিকেলটি সত্যি আপনাদের ভালো লেগে থাকে, তাহলে অবশই সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম গুলোতে আর্টিকেলটি অবশই শেয়ার করবেন।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Scroll to Top
Copy link