ব্রেকআপ মোটিভেশন: ব্রেকআপ হলে কি করা উচিত ?

ব্রেকআপ মোটিভেশন: ব্রেকআপ হলে কি করা উচিত ? আজকের আমাদের আর্টিকেলের বিষয় হলো, এই ব্রেকআপ হওয়ার পর কি কি করে আপনি সেই কষ্টের সময়ে নিজেকে সামলে নিতে পারবেন সেই বিষয়ে। 

ব্রেকআপ মোটিভেশন
Breakup motivation in Bengali

আমাদের সকলের জীবনে একবার  না একবার ভালোবাসা এসেই  থাকে এবং অনেক সময় সেই ভালোবাসা বিভিন্ন কারণে অকারণে ভেঙ্গেও থাকে। 

কিন্তু আজকে আমরা এই আর্টিকেলটির মাধ্যমে  ব্রেকাপ হওয়ার পর নিজেকে কিভাবে সাম্ভলানো যায়  এবং নিজেকে কিভাবে সম্ভলে নিবেন এর কিছু উপায় গুলো জানতে পারবো। 

অনেক সময় কিছু কিছু সম্পর্ক এতোটাই গভীর হয়ে থাকে যা সহজে ভূলে যাওয়া সম্ভব হয়ে ওঠেনা, কারণ তার সাথে আমাদের আবেগ জড়িয়ে থাকে, বিশেষ করে যখন সেটা ভালোবাসার সম্পর্ক হয়ে থাকে।

ব্রেকাপ হওয়ার পর আমরা সেই সম্পর্ক ভূলে যাওয়ার অনেক চেষ্টা করে থাকি কিন্তু আমাদের আবেগ অনুভূতি আমাদের ভুলতে বাঁধা দিয়ে থাকে কারণ তখন আমরা সব কিছু আবেগ দিয়েই  ভেবে থাকি।

ফলে এসব ক্ষেত্রে কখনো কখনো আমরা ডিপ্রেশনের শিকার হয়ে থাকি। 

আমরা যতই তাকে ভুলার চেষ্টা করি, কিন্তু বার বার আমাদের সেই ব্যক্তির কথাই মনে পরে থাকে। 

আমরা যখন কোনো সম্পর্কের মধ্যে থাকি তখন আমাদের প্রতি মুহূর্ত তার সাথে  থাকার অভ্যেস হয়ে পরে তাই হঠাৎ করে যখন সেই সম্পর্ক ভেঙ্গে যায় তখন আমাদের সহ্য হয়না। 

এর ফলে অনেক সময় আমাদের মনে তাঁর প্রতি প্রতিশোধ নেওয়ারও ভাবনা জন্ম নিয়ে থাকে। 

কিন্তু এগুলো না ভেবে আপনাকে সত্যিটি স্বীকার করে নিতে হবে যে, এখন সে আপনার সাথে নেই এবং জোর করে আপনি তাকে আবার পেতে পারবেননা। 

তাই, যদি আপনারও ব্রেকআপ হয়েছে এবং আপনিও ব্রেকআপ থেকে বের হতে চাইছেন, তাহলে নিচে দেওয়া উপায় গুলো ভালোকরে অনুসরণ করুন।

ব্রেকআপ হওয়ার পর কি করা উচিত: ব্রেকআপ মোটিভেশন

যখন আপনার ব্রেকআপ হয়েছে, আপনাকে এই সত্যিটি মেনে নিয়ে জীবনে আগে বাড়তেই হবে।

কারণ যতদিন আপনি আবেগ থেকে বের হতে না পারবেন আপনি ততদিন কষ্ট পেয়েই যাবেন। 

তাহলে চলুন  বন্ধুরা দেরি না করে নিচে দেওয়া প্রত্যেকটি উপায় বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা যাক। 

ব্রেকাপ হওয়ার পর কি কি উপায় ব্যবহার করে নিজেকে সাম্ভলানো যাবে সেগুলো এবার বলে দিচ্ছি।  

১. বন্ধুদের সাথে সময় কাটান

ব্রেকাপের পর বন্ধুদের সাথে সময় কাটানো ভালো। এটা সত্যি ওষুধের মতোই কাজ করে থাকে। 

যে বন্ধু আপনাকে বোঝে এবং আপনাকে এই পরিস্থিতি থেকে বের করতে সাহায্য করবে তাঁর কাছে আপনার মনের ভাবনাগুলো অব্যশই ব্যক্ত করুন।

ব্রেকআপ হওয়ার পর, সেই সময় আমরা সব কথা আবেগ দিয়ে ভেবে থাকি তাই অনেক সময় আমরা ভূল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি, তাই কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বন্ধুদের মত শুনাও দরকার। 

এছাড়াও, বন্ধুদের সাথে সময় কাটালে দেখবেন আপনি কিছু সময়ের জন্য হলেও আপনার দুঃখ ভুলে থাকতে পারবেন এবং মানসিক জোর পাবেন। 

এতে, আপনি সেই কষ্টের সময়ে অল্প হলেও ভালো অনুভব করতে পারবেন। 

যদি আপনার বন্ধুরা আপনাকে কোনো কিছুতে ব্যস্ত রাখে তাহলে তাঁদের সেটা করতে দিন দেখবেন সেই কাজটি করে আপনারও ভালো লাগবে। 

২. নিজেকে দোষ দেওয়া বন্ধ করা

আপনার সম্পর্ক ভেঙে গেলে তার মানে কখনই এটা নয় যে সব ভুল আপনার বা কেবল আপনার জন্যই সম্পর্কটি ভেঙেছে। 

সব মানুষেরই আলাদা আলাদা চিন্তাধারা থেকে থাকে, তাই কখনই এটা ভেবে নিজেকে দোষারুপ করা উচিত নয় যে আপনার কারণেই ব্রেকাপ হয়েছে। 

এমন তো হতে পারে আপনাদের দুজনের মতের কোনো মিল নেই, আপনি যা ভাবেন আপনার প্রেমি বা প্রেমিকা ঠিক তার উল্টোটাই ভাবে যার কারণে আপনাদের সম্পর্কে ভাঙ্গন ধরেছে। 

তাই আমাদের  নিজের ভূল গুলোর থেকে শেখা উচিত এবং নিজেকে দোষ দেওয়া বন্ধ করে ভূল গুলো শুধরানো দরকার। 

৩. সাইকোলজিষ্টের সাহায্য নেওয়া

আমাদের যখন ব্রেকাপ হয়ে থাকে তখন মনে হয় এটাই আমাদের শেষ ভালোবাসা আমরা হয়তো জীবনে আর কখনও ভালোবাসতেই পারবনা এবং যারা মনের দিক থেকে বেশি দুর্বল থাকে তাদের অনেক সময় ডিপ্রেশনে চলে যেতে দেখা যায়। 

তাই, এসব ক্ষেত্রে আমাদের সাইকোলজিষ্টের সাহায্য নেওয়া খুব দরকার,কারণ তারা মানুষের মন নিয়েই পড়াশুনা করে থাকে আর অনেক ক্ষেত্রে আপনার সাহায্য অবশই করতে পারবেন।  

তারা, এই পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার অনেকরকম উপায় বের করে দিতে পারে  এবং আমরা সে উপায় ব্যবহার করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারি। 

অনেক সময় আমাদের মধ্যে অনেকেই সাইকোলজিষ্টের কাছে যেতে চায়না।

কিন্তু বিশ্বাস করুন সাইকোলজিষ্টের সাহায্য নিতে পারলে  অনেক তাড়াতাড়ি এই পরিস্থিতি থেকে বের হওয়া সম্ভব এবং নতুন করে জীবন শুরু করার প্রেরণা পাওয়া যায়। 

৪. একা একা না থাকা

ব্রেকআপের পর বেশিরভাগ মানুষকে একা একা থাকতে দেখা যায়, তারা একা থাকতেই অধিক পছন্দ করে কিন্তু আপনি এই ভূল কখনই করবেননা। 

কারণ, আপনি যতো  বেশি একা একা থাকবেন আপনার পুরানো স্মৃতিগুলো ততবেশি মনে পড়বে এবং আপনি আরো দুর্বল হয়ে পড়বেন। 

তাই এতদিন পর্যন্ত যে সময়গুলো আপনি নিজের পরিবার এবং বন্ধুদের দিতে পারেননি, সে সময় গুলো এখন তাঁদের সাথে কাটান তাঁদের সাথে বসে গল্প করুন হাঁসি মজাক করুন। 

এতে দেখবেন, এরফলে আপনি মনে অনেক শান্তি অনুভব করছেন এবং আপনি আনন্দও পাচ্ছেন। 

৫. নিজের প্রেমীর সাথে কথা বলার চেষ্টা না করা

আপনার যদি ব্রেকাপ হয়ে থাকে তাহলে এর পেছনে শুধু একটাই  কারণ হয়ে থাকবে,

“সামনের মানুষটি এখন আর আপনার সাথে  কোনো সম্পর্ক রাখতে চান না”।

তাই ব্রেকাপ হওয়ার পর আপনি তাঁর সাথে কথা বলার বা ফোন করার চেষ্টা না করাই ভালো। 

আপনার কখনই তাকে আবার আগেরমতো আপনাকে ভালোবাসার জন্য মজবুর করা উচিত নয়। 

আপনি যদি এমন করেন তাহলে আপনার সাথী আপনার থেকে আরো দূরে ভাগাড় চেষ্টা করবে যেটা আপনার কখনই ভালো লাগবেনা এবং এতে ভবিষ্যতে আপনি আরো কষ্ট পাবেন। 

তাই ব্রেকাপ হওয়ার পর জোর করে আপনার প্রেমিকে পাওয়ার চেষ্টা না করাই আপনার জন্য ভালো। 

৬. নিজেকে ভালোবাসুন

যখনি আপনি এমন ব্রেকআপ এর পরিস্থিতিতে পড়বেন, তখন সেই পরিস্থিতিতে আপনাকে নিজেকে খুব ভালোবাসতে শিখতে হবে। 

কেনাকাটা করতে যান, নিজেকে নিজে যত্ন করুন, নতুন নতুন কাপড় পরে সেজেগুজে নিজেকে  আরো বেশি সুন্দর করে তুলুন। 

কারণ আমরা সকলেই জানি নতুন জামাকাপড় পড়লে আমাদের মন খুশি হয়ে যায় এবং সেলফ কনফিডেন্স বাড়ে। 

এসব করার ফলে আপনার মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়বে এবং এই আত্মবিশ্বাসী আপনাকে এই পরিস্থিতি থেকে বের হতে সাহায্য করবে। 

এছাড়ও নতুন নতুন বন্ধু বানান,তাঁদের সাথে ঘুরতে যান, সিনেমা দেখতে যান।

এভাবে যখন আপনি নিজেকে ব্যস্ত রাখবেন তখন আপনার তাঁর কথা আর মনেও পড়বেনা এবং ধীরে ধীরে আপনি তাকে ভুলেও যাবেন। 

৭. সোশ্যাল মিডিয়ায় কানেক্ট না থাকা

আপনি যদি নিজের এক্স পার্টনারের সাথে ফেসবুক বা ইন্টারনেটের যেকোনো মাধ্যমে যুক্ত আছেন তাহলে সেখান থেকে তৎক্ষণাৎ সরে যান। 

কারণ এমন না করলে আপনি যখনি ফেসবুক ইন্সট্রাগ্রাম খুলবেন আপনার ধ্যান তাঁর ফোটো এবং স্ট্যাটাসে যাবে।

ফলে, আপনি তাঁর দিকে আরো বেশি আকর্ষিত হবেন এবং আপনার পুরানো সৃতি গুলো তাজা হয়ে উঠবে।

তাই এই সময় আপনার নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখা খুব জরুরি। 

যদি এই পরিস্থিতে আপনার এক্স পার্টনারকে ব্লক করতে হয় তাহলে কিছু না ভেবে তাঁকে ব্লক করে দিন। 

আপনার জীবনে চলে আসা এই একাকিত্ব কে ধরে না রেখে আপনার কোনো কাছের মানুষের সাথে সবটা শেয়ার করুন। 

ভালো ভালো অনুপ্রেরণামূলক ভিডিও দেখুন এবং নিজেকে কোননা কোনো কাজে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করুন।

এভাবেই নিজের জীবনে ছোটো ছোটো অভ্যাসের দ্বারা পরিবর্তন নিয়ে আসুন। 

৮. দুঃখ কে নিজের ভেতরে চেঁপে না রাখা

ব্রেকাপ হওয়ার পর অনেকেই দুঃখ কে নিজের ভেতরে চেঁপে রেখে দিতে দেখা যায় এবং তাঁরা ভেতরে ভেতরে সেই দুঃখ নিয়ে চিন্তিত হতে থাকে এবং মনমরা হয়ে থাকে।  

কিন্তু সেটা ভূল, আপনার নিজের মনের দুঃখ কে কোনো না কোনো মাধ্যমে বাইরে বের করা দরকার। 

আপনি কেঁদে বা বালিশে লাথি ঘুঁষা মেরে নিজের রাগ কে বাইরে বের করুন।

এর ফলে, দেখবেন  আপনি নিজের ভেতরে ভালো অনুভব করবেন এবং আপনার কষ্ট আসতে আসতে কমতে শুরু হবে। 

আমাদের শেষ কথা,,

তাহলে বন্ধুরা, আমাদের আজকের এই ব্রেকআপ মোটিভেশন টিপস গুলো আপনাদের অবশই ভালো লেগেছে হয়তো।

ব্রেকআপ হলে কি করা উচিত নিয়ে লিখা আমাদের আজকের আর্টিকেলটি যদি সত্যি আপনাদের ভালো লেগে থাকে, তাহলে অবশই আর্টিকেলটি সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করবেন। 

এছাড়া, আর্টিকেলের সাথে জড়িত কোনো ধরণের প্রশ্ন বা পরামর্শ থাকে, তাহলে অবশই নিচে কমেন্ট করতে পারেন।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top