ব্রেকআপ মানে কি । ব্রেকআপ হওয়ার পর কি করা উচিত

ব্রেকআপ মানে কি ? ব্রেকআপ হওয়ার পর কি করা উচিত ? আজকের আর্টিকেলের মাধ্যমে এই দুটো প্রশ্নের উত্তর বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করতে চলেছি। এছাড়া, ব্রেকআপ এর পর নিজের মন মেজাজ কিভাবে ভালো রাখবেন এবং কিভাবে ব্রেকআপ থেকে রিকভার করবেন, সবটাই এই আর্টিকেলের মাধ্যমে জেনেনিতে পারবেন। 

ব্রেকআপ হওয়ার পর কি করা উচিত
ব্রেকআপ থেকে বের হওয়ার উপায়।

মানুষের জীবনে কত রকমের সম্পর্ক ভাঙে আর গড়ে। ঠিক সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো, এক পাড় ভাঙে তো এক পাড় গড়ে।

ভালোবাসলে প্রেমে পড়লে, তখন মানুষ একে অপরের প্রতি প্রেম ও শ্রদ্ধার প্রকাশ ঘটায়।

কিন্তু যখন কোনোভাবে সম্পর্কে প্রেম ও শান্তি দুইই খোয়া যায়, তখনই সে সম্পর্কে ভাঙ্গন দেখা দেয়।

আর, ইংরেজি ভাষায় ব্রেক আপ শব্দের অর্থ হলই ভাঙ্গন।

হেডিং পড়ে নিশ্চয়ই বুঝে গেছেন যে আজকে আমাদের এই আর্টিকেলের আলোচনার বিষয় হল ব্রেক আপ কি আর তার থেকে বেরিয়ে আসার উপায়ই বা কি হতে পারে ?

আসুন প্রথমে আমরা বিশদে বুঝি, আসলে কি এই ব্রেক আপ আর এর মানেই বা কি? 

ব্রেকআপ মানে কি ? (Breakup Meaning in Bengali)

এই পৃথিবীতে প্রেম করেননি বা প্রেম করতে চান না, এমন মানুষ মনে হয় খুঁজে পাওয়া দুস্কর।

পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে আমরা নিজেদের পরিবার-পরিজন ছাড়াও এমন একজন মানুষকে খুঁজি, যার উপর আমরা ইমোশনালি ডিপেন্ডেন্ট হতে পারি।

কিংবা, নিজেদের সুখ-দুঃখ ভালোবাসা তার সাথে সেয়ার করতে পারি। 

ততক্ষণ পর্যন্ত সবই ঠিক থাকে, যতক্ষণ আমরা সেই মানুষের সাথে সুখ-দুঃখ ভাগ করে নিয়ে মনের শান্তি খুঁজে পাই।

তবে, অনেকসময়ই দেখা যায়, এই প্রেমের সম্পর্কের মধ্যে প্রচুর বাধা-বিপত্তি বিপত্তি আসছে। 

একে অপরের উপর ট্রাস্ট করতে পারছি না, কেউ একজন সম্পর্কে থেকে চিট করছে নাহলে পরিবারের লোক আমাদের সম্পর্ক মেনে নিচ্ছে না।

তাই, নানা কারণেই এই প্রেম-ভালোবাসার সম্পর্ককে না চাইতেও শেষ করে দিতে হয়। আর একেই আমরা ব্রেক আপ বলি। 

যখন আপনি একটা টক্সিক রিলেশনশিপ থেকে বেরিয়ে আসেন, ঠিক তখনই আপনার সম্পর্কে ভাঙ্গন ধরে বা ব্রেক আপ হয়।

ইংরেজি ভাষায় ব্রেক আপের মানে খুঁজতে চাইলে, ভালোবাসা ভেঙে যাওয়ার কথাই খুঁজে পাবেন। মূলত, ব্রেক আপ খুবই দুঃখের। 

কারণ যে মানুষটাকে নিয়ে আপনি আপনার জীবনের বাকিটা সময় কাটিয়ে দেবেন বলে ঠিক করেছিলেন, সেই মানুষটাই হঠাৎ কোনো কারণে আপনার থেকে দূরে চলে যায়, তখন তো কষ্ট হওয়াটাই স্বাভাবিক। 

তবে, কি বলুন তো, ব্রেক আপ কিন্তু জীবনের শেষ নয়।

ব্রেক আপ মানে বড়ো জোর জীবনের একটা অধ্যায়ের শেষ হতে পারে, যেই অধ্যায়টার পরের অধ্যায়গুলো আপনার নিজের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করে। 

তাহলে আশা করছি, ব্রেকআপ মানে কি বা ব্রেকআপ বলতে কি বুঝায় বিষয়টা বুঝতেই পেরেছেন। 

ব্রেকআপ এর পর কিরকম লাগে ?

একটা সম্পর্ক শেষ হলে তার রেশ জীবনের অনেকটা সময় জুড়ে থাকে।

মন খারাপ লাগে, জীবনে অনীহা আসে আর নতুন করে মানুষকে বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করে না।

নিজের মধ্যেই মানুষ গুমরে মরে। আবার, মানুষের অনেক রাগ হয়, ইচ্ছে করে সমস্ত কিছু ছাড়খার করে দিতে।

কিন্তু, মানুষ সবসময় যা মনে চিন্তা করে তা কি সবসময় পায়, পায় না তো?

তাহলে, প্রেমে পড়া যেমন আপনার হাতে থাকে না, তেমনই ব্রেক আপের বিষয়টাও পুরোপুরি আপনার হাতে থাকে না।

তাই, সম্পর্কে ইতি টানার পর, বা ব্রেক আপের পর আপনার উচিত মুভ ওন করা বা জীবনের পথে এগিয়ে চলা।     

এই মুভ ওন করতে গেলে আপনার প্রয়োজন নিজের ব্রেক আপের আঘাতটাকে ভুলতে চেষ্টা করা।

আর ব্রেক আপ থেকে রিকভার করাটা একটা গোটা প্রসেসের মতো।

নিজেকে সময় দিয়ে ধীরে ধীরে নিজের মনকে সুস্থ করে তোলার একটা প্রসেস হল এই মুভ ওন করা।

ব্রেকআপ হওয়ার পর কি করা উচিত ? কিভাবে রিকভার হবেন

আসুন আমরা জেনে নিই, ব্রেক আপ হওয়ার পর কি করা উচিত ? নিচে দেওয়া রইলো ব্রেক আপ থেকে চাঙ্গা হওয়ার সেরা ১০টি উপায় গুলো।

১. নিজেকে সময় দিন:

মন ভালো করতে চাইলে নিজেকে বেশি করে সময় দিন। মানুষ নিজেই নিজের মনকে সব থেকে বেশি বুঝতে পারে।

সম্পর্ক শেষ মানে আপনার জীবন শেষ হয়ে যাওয়া নয়।

তাই নিজের শরীর ও মনের প্রতি যত্নবান হন।

আফটার অল, এন্ড অফ দ্য ডে, আপনি নিজেই আপনার কাছে সব।

সেই জন্যেই দুঃখ থেকে বেরোতে গেলে ভালো কোয়ালিটির “মী টাইম” স্পেন্ড করুন। 

ধরুন, আপনি খেতে ভালোবাসলে আপনার পছন্দের খাবারগুলো ঘরে নিজে বানান নাহলে হোম ডেলিভারি করিয়ে আনুন। 

নিজেকে সুন্দর করে সাজিয়ে-গুছিয়ে সেই খাবারগুলো আপনার পছন্দের কোনো মুভি দেখতে দেখতে এনজয় করুন। 

কিংবা, আপনি চাইলে একটা সুন্দর ওয়াক বা লং ড্রাইভেও যেতে পারেন, যেটা আপনার মন চায়, সেটাই করুন।

দেখুন অনেকটা ভালো বোধ করবেন। দরকার বোধ করলে কোনো কাউন্সেলিং সেশনও নিতে পারেন কোনো অভিজ্ঞ সাইকোলজিস্টের কাছ থেকে।

২. নিজের হবিগুলোকে এক্সপ্লোর করুন:

মনকে ব্রেক আপের দুঃখ থেকে ডাইভার্ট করার বেস্ট উপায় হল, নিজের নেশা বা হবিগুলোকে এক্সপ্লোর করা।

আমাদের সবারই কিছু না কিছু হবি থাকেই। কেউ খেতে ভালোবাসে, কেউ বই পড়তে, কেউ সিনেমা দেখতে আবার কেউ বা আঁকতে।

যে যা করতে ভালোবাসেন সেগুলোতে বেশি করে এনগেজ থাকতে চেষ্টা করুন।

কিংবা, আপনি যদি আপনার প্রিয় নেশাগুলোতেও মজা না পান, তবে অবশ্যই নতুন হবি এক্সপ্লোর করুন।

ধরুন, আপনি ব্যাডমিন্টন খেলা শিখতে পারেন, একুয়ারিয়াম রাখতে পারেন, কিংবা ধরুন সাঁতার বা সাইক্লিংও শিখতে পারেন।

নতুন কিছু শিখতে গেলে কন্সেন্ট্রেশনের দরকার হয়, এতে আপনার মন অনেকটাই ভালো থাকবে।

৩. ঘুরে আসুন:

শরীর খারাপ হলে ডাক্তারবাবুরা অনেকসময়ই আমাদের জলবায়ু পরিবর্তনের নির্দেশ দেন।

তেমনই মন খারাপের জন্যেও কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন বেশ কার্যকরী।

তাই, চেষ্টা করুন যেই শহর বা গ্রামে আপনার মন ভেঙেছে সেখান থেকে কয়েকদিনের ছুটি নিয়ে, পাড়ি দিন কোনো টুরিস্ট স্পটে।

সবথেকে ভালো হয়, যদি আপনি ট্রেকিং বা এডভেঞ্চার স্পোর্টসের সাথে নিজেকে যুক্ত করেন। 

নিজেকে চ্যালেঞ্জিং সিচুয়েশনে ফেলে দেখুন, ব্রেক আপের কথা দিব্যি ভুলে থাকতে পারবেন।

আপনি যদি একদমই ট্রেকিং বা এডভেঞ্চার স্পোর্টসের অনুরাগী না হন তাহলে আপনার পছন্দের জায়গাতে সময় কাটিয়ে আসতে পারেন।

এতেও আপনার মন ভালো হয়ে যেতে পারে।

৪. নিজেকে বিনোদনের মধ্যে রাখুন:

কথায় বলে, অলস মস্তিষ্ক হল শয়তানের বাসা। তাই, যখনই একা থাকবেন চেষ্টা করবেন নিজেকে কোনো না কোনো কাজের সঙ্গে যুক্ত রাখতে।

ব্রেক আপের পর রাগ, দুঃখ ও অভিমান বোধ মানুষকে কুরে-কুরে খায়।

এই সব নেগেটিভ ইমোশন থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন।

এই অনুভূতিগুলো মানুষের মনকে বিষিয়ে তোলে আর তার জীবনকে নরকে পরিণত করে। 

তাই সব সময় পজিটিভ মনোভাব রাখবেন আর একদম অলস হয়ে বসে থাকবেন না।

কিছু কাজ না থাকলে বই পড়ুন, টিভি দেখুন কিংবা রাস্তা থেকে প্রয়োজন হলে হেঁটে আসুন।

আর তা নাহলে, আপনার বন্ধু-বান্ধবদের সাথে কথা বলুন, তবে অবশ্যই ব্রেক আপের কথা বাদ দিয়ে অন্য কথা বলবেন। 

আর যেসব মানুষ জোর করে আপনার দুঃখের বিষয় নিয়ে কথা বলতে চাইবে, বলপূর্বক উপদেশ দিতে চাইবে, তাদের স-সম্মানে ইগনোর করার অধিকার আপনার রয়েছে।

আফটার অল, আপনাকে নিজেই নিজেকে ঠিক করতে হবে, কেউ এসে আপনাকে ঠিক করে দেবে, এই আশা না করাই ভালো।

এমনকি, আপনি গল্প, কবিতা, উপন্যাস পড়ে বা লিখেও সময় কাটাতে পারেন।

৫. ফিজিক্যাল ফিটনেসে গুরুত্ব দিন:

মন ভালো না থাকলে শরীরেও তার প্রভাব পড়ে। অনেক মানুষ মনের দুঃখে ব্রেক আপের পর নানা ধরণের খারাপ নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ে।

এই জিনিষটা সাময়িকভাবে দুঃখ ভুলে থাকতে সাহায্য করলেও, মানুষের শরীর ও মনের উপর প্রচন্ড খারাপ প্রভাব ফেলে। 

তাই, ব্রেক আপের পর চেষ্টা করবেন নানান ধরণের ফিজিক্যাল এক্টিভিটির সাথে যুক্ত থাকতে।

নিয়মিত শরীরচর্চা শরীরের পাশাপাশি মনকেও ভালো রাখবে। 

আপনি যদি শরীর চর্চার অনুরাগী না হন, তাহলে দিনে অন্তত ৩০মিনিট হাঁটতে বা দৌড়োতে যেতে পারেন, তাতেও কাজ দেবে।

৬. নতুন মানুষের সাথে পরিচিত হন:

এক-দুজন মানুষ আপনার মন ভেঙেছে বলে, সবাই আপনার মন ভাঙবে তা কিন্তু নয়।

তাই, নতুন নতুন মানুষের সাথে আলাপ পরিচয় করার চেষ্টা করুন।

তবে, একটা রিলেশনশিপ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে অন্য একটা রেলশনশিপে ঢুকতে যাবেন না। 

এতে আপনার নতুন রেলশনশিপে নানান প্রব্লেম দেখা দিতে পারে। আগে প্রথম ধাক্কাটা সামলে যান, তারপর অন্য রিলেশনশিপের চেষ্টা করবেন। 

৭. সোশালাইজ হওয়ার চেষ্টা করুন:

এখন নানা সোশ্যাল মিডিয়া প্লেটফর্ম রয়েছে। সেখানে অনেক অচেনা মানুষও রয়েছে।

তাদের সাথে মনের কথা শেয়ার অবশ্যই করতে পারেন, তবে সবাই সেই বিশ্বাসের যোগ্য নয়। সেক্ষেত্রে, বুঝে-শুনে এগোনোই ভালো। 

তবে, বন্ধু-বান্ধব আড্ডায় ডাকলে যাওয়ার চেষ্টা করবেন।

ফ্যামিলি-গেট-টুগেদারও অংশগ্রহণ করে দেখুন, কারণ জীবন কিন্তু থেমে থাকার নয়, তাই কেন নিজেকে আনন্দ থেকে বঞ্চিত করবেন ?

নিজের দুঃখকেও যাপন করতে শিখুন। 

৮. পোষ্য নিতে পারেন:

এখন অনেক মানুষই ঘরে কুকুর, বেড়াল, খরগোশ, কিংবা পাখি পুষে থাকেন।

পোষ্যেরা কিন্তু মন ভালো রাখতে সাহায্য করে। আবার, এদের নিয়েই কিন্তু সারাদিন সময় ভালোই কাটে।

তাই, ব্রেক আপের পর মন-মেজাজ ভালো না থাকলে একটা পোষ্য নিয়ে দেখতে পারেন।

৯. গার্ডেনিং করতে পারেন:

পোষ্য রাখার হ্যাঁপা যদি আপনি নিতে পছন্দ না করেন, তাহলে আরামসে গার্ডেনিং করতে পারেন।

বর্তমানে গাছপালা রাখাটা একটা ট্রেন্ড হয়ে গেছে।

ইনডোর, আউটডোর, এয়ার ও হাইড্রোপনিক প্লান্ট, এরকম নানা ধরণের কম যত্নের ও কম জায়গাতেই ধরে যাওয়া অনেক গাছ রয়েছে। 

আপনি আপনার পছন্দমতো গাছপালা নিয়েও গার্ডেনিং করতে পারেন।

বিজ্ঞানীরা গবেষণায় পেয়েছেন যে, গার্ডেনিং করলে মানুষের স্ট্রেস কমে, মন ভালো থাকে আর ধৈর্য্য বাড়ে।

তাই ব্রেক আপের নেগেটিভ এফেক্ট কাটাতে গার্ডেনিং করতেই পারেন।

১০. ওভারথিন্কিং বন্ধ করুন:

আপনার ভেঙে যাওয়া সম্পর্ক নিয়ে বেশি রকমের ভাবতে থাকলে যে সম্পর্ক আবার জোড়া লেগে যাবে তা কিন্তু নয়।

তাই, আপনার উচিত এই নিয়ে যত কম ভাবা যায়, তার জন্যে চেষ্টা করা।

ওভারথিন্কিং করলে আপনার শরীর ও মন দুইয়েরই উপর খারাপ প্রভাব পড়তে পারে। 

সবসময় মনে রাখবেন, আপনার উপর নির্ভর করেই কিন্তু আপনার আশপাশে থাকা মানুষজনের ভালো থাকা বা না থাকা কিছুটা হলেও নির্ভর করে।

তাই আপনার উচিত অন্তত তাদের খাতিরে নিজেকে দ্রুত ব্রেকাপের দুঃখ থেকে উদ্ধার করা। 

আজকে আমাদের ব্রেকআপ এর বিষয়ে লিখা আর্টিকেলটি এখানেই শেষ হল।

ব্রেকআপ হওয়ার পর কি করা উচিত, যদি এই উপায়গুলো আপনার জীবনে কোনোভাবে কাজে লাগে, তবে অবশ্যই তা কমেন্ট করে আমাদের জানাবেন।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top