ভালোবাসার মানুষ অবহেলা করলে কি করা উচিত ?

ভালোবাসার মানুষ অবহেলা করলে কি করা উচিত: কম বেশি প্রেমে পড়েনি এমন লোক খুব কমই দেখা যায়, জীবনের কখনো না কখনো প্রেমে পড়ে, ভালোবাসার মানুষটাকে নিয়ে কতজন কত স্বপ্ন দেখে।

ভালোবাসার মানুষ অবহেলা করলে কি করা উচিত
ভালোবাসার মানুষ আপনাকে অবহেলা করছেন ? কি করবেন ?

কত স্বপ্ন সত্যি হয়, কত স্বপ্ন ভেঙে যায় কিংবা হারিয়ে যায়, সময়ের চোরা স্রোতে।

কেউ কেউ তার ভালোবাসার মানুষ কে পায়, কেউ পায়না। আবার কিছুজন আছে যারা তার ভালোবাসার মানুষকে জানাতেই পারে না, সে তাকে ভালোবাসে। সব সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হয় না।

অনেকের ক্ষেত্রেই দেখা যায় হয়তো আপনার ভালোবাসার মানুষটি কাল বা পরশু পর্যন্ত আপনার সঙ্গে দিব্যি কথা বলেছে, সোশ্যাল মিডিয়াতে আপনার সঙ্গে চ্যাট করেছে কিন্তু হঠাৎই আজ থেকে আপনার ফোন ধরছে না, আপনার চ্যাটের উত্তর দিচ্ছে না।

খুব সহজ করে বলতে গেলে আপনাকে অবহেলা করছে।

আজকেই এই লেখার বিষয় বস্তু হল আপনার ভালোবাসার মানুষ যদি আপনাকে অবহেলা করে, তাহলে কি করবেন।

বন্ধুরা লেখাটি সম্পূর্ণ পড়বেন। আশা করছি আপনাদের মনের সব উত্তর এই লেখায় পেয়ে যাবেন।

এই পৃথিবীতে যা কিছু ঘটে, সব কিছুর একটি নির্দিষ্ট কারণ থাকে।

আমরা আজকে প্রিয়জন অবহেলা করার কি কি সম্ভাব্য কারণ থাকতে পারে, অবহেলার পর কি করা উচিত, এই সমস্ত কিছু নিয়েই আলোচনা করব।

ভালোবাসা কী ?

আমরা ভালোবাসা নিয়ে অনেক কিছুই ভাবি, কত কিছু লিখি, তবে যদি কেউ জিজ্ঞাসা করে,”ভালোবাসা মানে কি ?” তাহলে অনেকেই হয়তো উত্তর দিতে পারব না।

তাহলে দেখে নেওয়া যাক, ভালোবাসা কী ? 

খুব সহজ করে বলতে গেলে ভালোবাসা হল একপ্রকার অনুভূতি, যা কোনো একজন বিশেষ মানুষের প্রতি আমাদের মনের স্নেহ, আবেগ, এবং অনুভূতির শক্তিশালী বহিঃপ্রকাশ।

আর যে মানুষটার প্রতি মনের বিশেষ এই অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ ঘটবে, সেই ভালোবাসার মানুষ।

প্রত্যেকের কাছেই তার ভালোবাসার মানুষটা খুব স্পেশাল হয়, সেই মানুষ যদি অবহেলা করে, তাহলে মনে  আঘাত লাগে। 

তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কারনের অনুসন্ধান কেউ করে না।

কী কারনে তার এই আচরণ, এর কারণ খুঁজে পেলে অনেকাংশে দুঃখ ভোলা যায়, তাই প্রথমে জানতে হবে, আপনার ভালোবাসার মানুষ যদি আপনাকে অবহেলা করে, তাহলে কেন করছে ?

ভালোবাসার মানুষ অবহেলা কেন করছেন ?

যদি আপনাকেও আপনার ভালোবাসার মানুষটি অবহেলা করছেন, তাহলে তার বিভিন্ন কারণ থাকতেই পারে।

তবে কিছু এরকম কমন বা সাধারণ কারণ গুলো রয়েছে যেগুলোর জন্য হয়তো আপনার প্রিয় মানুষটি আপনাকে অবহেলা করছেন।

মানসিক আঘাত এবং মানসিক দুশ্চিন্তার কারনে অবহেলা

 আপনার ভালোবাসার মানুষের কাছের বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলে জানার চেষ্টা করুন, তার আচরন কি সবার ক্ষেত্রেই বদলে গিয়েছে নাকি কেবল আপনার ক্ষেত্রেই বদলে গিয়েছে? 

অনেকসময় পারিবারিক অশান্তি, নিকট আত্মীয়ের অসুখ বা মৃত্যু, পড়াশোনা বা চাকরির চিন্তা মানুষের মনের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে, তখন মানুষ দুশ্চিন্তার শিকার হয় এবং কাছের মানুষদের প্রতি রূঢ় ব্যবহার, এবং অবহেলা করতে শুরু করে।

যদি আপনার ভালোবাসার মানুষটি মানসিক দুশ্চিন্তার জন্য আপনাকে অবহেলা করতে আরম্ভ করে তাহলে হয়তো দুশ্চিন্তা মুক্ত হলেই সে আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করবে, এইক্ষেত্রে আপনাকেও তার পাশে দাঁড়াতে হবে।

▪ বিকল্প ভালোবাসার মানুষ খুঁজে পাওয়া

আপনার ভালোবাসার মানুষটি আপনাকে যদি অবহেলা করছে এর আর একটি কারন হতে পারে, সে বিকল্প কাউকে পেয়ে গিয়েছে।

আমাদের মন এবং মানসিকতা পরিবর্তন সময়ে সময়ে হয়েই থাকে।

হয়তো আপনার সঙ্গে তার মনোমালিন্য হচ্ছে, মতের মিল হচ্ছে না, কথা কাটাকাটি, অশান্তি, এইসবের মধ্যেই হয়তো সে বিকল্প কাউকে খুঁজে পেয়েছে, যে আপনার থেকে ভালো বা শিক্ষিত/ শিক্ষিতা বা সুন্দর/ সুন্দরী। 

তাই হয়তো আপনার সঙ্গে আর যোগাযোগ রাখতে চাইছে না, আপনার ফোন কলের উত্তর দিচ্ছে না বা আপনার ম্যাসেজের রিপ্লাই দিচ্ছে না। 

মানুষ বিকল্প হিসাবে সবসময় ভালো জিনিস কে পছন্দ করে।

আর ভালোবাসার ক্ষেত্রেও তেমন অনেকেই আছে যারা ভেবে চিন্তে, হিসাব করে প্রেম করতে যায়, তারা যদি বিকল্প হিসাবে ভালোর থেকে আরো ভালো কাউকে পেয়ে যায়, তখন আগের প্রেমিক বা প্রেমিকাকে পাত্তা দেয় না। সম্পর্ক ছিন্ন করে দেয়।

▪ পারিবারিক অশান্তির কারনে অবহেলা

অনেক ক্ষেত্রেই কি ঘটে আপনি এবং আপনার ভালোবাসার মানুষটি একে অপরকে খুব ভালোবাসেন কিন্তু পারিবারিক অমতের কারনে সম্পর্ক রক্ষা করা যাচ্ছে না।

এই কথাটি হয়তো সে আপনাকে মুখের ওপর বলতে পারছে না, তাই তার আচরণের মাধ্যমে বুঝিয়ে দিচ্ছে।

আপনাকে অবহেলা করার কারন, হয়তো  সে আর আপনার সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে ইচ্ছুক নয়।

আপনি যদি অবহেলা করার সম্ভাব্য কারন জেনে জান, তাহলে নিজেকে সামলে নিতে আপনার খুব একটা অসুবিধা হবে না।

যদিও কথাটি  যত সহজে বলতে পারা যাচ্ছে, মন থেকে মেনে নেওয়া বেশ কষ্টকর। 

যে কোনো বিরহ বেদনাদায়ক তা কয়েক দিনের হোক বা কয়েক বছরের। 

ভালোবাসার মানুষ অবহেলা করলে কি করা উচিত ?

যদি আপনিও এরকম পরিস্থিতির সাথে লড়াই করছেন বা মুখোমুখি হয়েছেন, তাহলে অবশই কিছু উপায় রয়েছে যেগুলো আপনার করা উচিত।

১) নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করুন

এই ধরনের পরিস্থিতিতে সবথেকে কঠিন এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল নিজেকে শান্ত রাখা।

অনেকেই অস্থির হয়ে পড়ে, কাছের বন্ধুদের ফোন করে, অনেকে বিহ্বল হয়ে পড়ে। 

আপনি নিজের জীবনের যত ঘটনা অপরকে জানাবেন, কখনো না কখনো তারা আপনার এই দুর্বলতা গুলোর সুযোগ নিয়ে আপনাকে আঘাত করবে।

আপনাকেই নিজের মনকে সামলাতে হবে। আশ্বাস দিতে হবে, সব ঠিক হয়ে যাবে।

২) একে অপরের ওপর বিশ্বাস রাখার চেষ্টা করুন

এই জাতীয় ঘটনা ঘটলে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, কোনো একটি ছোটো ঘটনা বা ভুল ঘটেছে যা আপনাদের মধ্যে একে অপরের প্রতি অবিশ্বাসের সৃষ্টি করছে, যদি অবিশ্বাসের থেকে অবহেলা আসে তাহলে তা ক্ষণস্থায়ী হবে।

নিজেদের মধ্যে কোনো অবিশ্বাস রাখবেন না।

ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করুন, এক্ষেত্রে খুব বিশ্বস্ত বন্ধুদের সাহায্য নিতে পারেন।

নিজেদের মধ্যে যে অবিশ্বাস ছিল তা কাটিয়ে নিন।

এই সময় অনেক ক্ষেত্রে ইগো চলে আসে, ভালোবাসায় ইগো আনবেন না।

ইগো তীব্র বিষ যে ধীরে ধীরে একে অপরকে অনেক দূরে সরিয়ে দেবে শুধু তাই নয় একে অপরের মধ্যে পাঁচিল হয়ে দাঁড়াবে এই ইগো।

তখন একে অপরের প্রতি ভালোবাসা থাকলেও অনুভূতি থাকবে না।

তাই সম্পর্কের মধ্যে যদি ইগো এসেও থাকে তাহলে তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করুন।

৩) জীবনে তৃতীয় ব্যক্তির প্রবেশ বন্ধ করুন

অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় একটি সম্পর্ক ভেঙে যায় কোনো এক পক্ষে তৃতীয় কারোর প্রবেশের কারনে।

সব মানুষ আপনার ভালো বা সুখ সহ্য করতে পারে না।

কেউ কেউ আছে যারা বাইরে আপনার খুব কাছের মানুষ সাজার চেষ্টা করবে, যেন আপনার কত ভালো চায়, আপনার সুখে কত আনন্দ কিন্তু মনে মনে তখন চিন্তা করছে কি করে আপনার ক্ষতি করবে। 

আপনার ভালোবাসার মানুষটি আপনাকে পাত্তা দিচ্ছে না, এই তথ্য তাদের জানালে, তারা আপনার দুর্বলতার সুযোগ নেবে, আপনাকে ভুল বোঝাবে, তার সম্পর্কে আপনাকে আরো খারাপ কথা বলতে পারে। 

এবং আপনার এই দুর্বল পরিস্থিতিতে আপনার পাশে থেকে আপনার কত উপকার করেছে এই মনোভাব আপনার মনে সৃষ্টি করবে। 

তাই সম্পর্কের মধ্যে তৃতীয় ব্যক্তির উপস্থিতি না রাখাই ভালো।

মনে রাখবেন আপনার সমস্যা, এর সমাধান আপনাকেই করতে হবে, সাহায্যকারীরা কেবল আপনাকে সমস্যা সমাধানের পথ বলে দিতে পারে, আপনাকে চিয়ার-আপ করতে পারে, আপনার হয়ে সমস্যার সমাধান করে দেবে না।

৪) বিশ্বস্ত বন্ধুদের কাছে নিজের দুঃখ শেয়ার করতে পারেন

দুঃখের কথা ভাগ করে নিলে দুঃখ কমে না। তার প্রভাব অনেকটা কমে।

তাই দুঃখের কথা, সেই সব লোকেদের কাছেই বলা উচিত যারা আপনার দুঃখ বা কষ্ট নিয়ে হাসি-মজা-ঠাট্টা করবে না।

দুঃখের দিনে আপনার পাশে এসে দাঁড়াবে, আপনাকে সাহস যোগাবে, আপনার মনোবল বৃদ্ধি করবে।

একটি প্রবাদ আছে, “দুঃখের দিনেই প্রকৃত বন্ধু চেনা যায়“।

তাই আপনার কষ্ট আপনার খুব বিশ্বস্ত কারোর সঙ্গে শেয়ার করুন।

হয়তো দেখলেন সেই আপনার আজীবনের সব দুঃখ কষ্ট সমান ভাগে ভাগ করে নিতে পারে অথবা দেখলেন তার মধ্যস্থতাতেই আপনাদের ভেঙে যাওয়া সম্পর্কটা আবার জোড়া লেগে গেল।

৫) নিজেকে ছোটো ভাববেন না

সে যদি বারবার আপনার ম্যাসেজের উত্তর না দেয় কিংবা আপনাকে ফেসবুকে আনফ্রেন্ড করে দেয় বা আপনার কল ব্লক করে দেয়, তাহলে ভেঙে পড়বেন না এবং নিজের মানসন্মান নষ্ট করে তাকে অনুরোধ বা বন্ধুদের দিয়ে তাকে অনুরোধ করাতে যাবেন না, বা জানতে যাবেননা কেন সে আপনাকে অবহেলা করছে।

সে হয়তো আর আপনাকে ভালোবাসে না। এটা সত্যি হলে মেনে নিতে শিখুন।

আপনি যদি নিজেকে সম্মান না দেন কেউ আপনাকে সম্মান দেবে না।

তাই নিজেকে সম্মান দিতে শিখুন। এই পৃথিবীতে কোনো কিছুই চিরন্তন নয়।

আপনার জীবনের দীর্ঘ সফরে কত লোক আপনার সঙ্গে যাত্রী হবে কত লোক আবার ছেড়ে চলে যাবে এই নিয়ে ভাববেন না।

জীবনের প্রতিটা মুহুর্তকে উপভোগ করার চেষ্টা করুন।

আমাদের শেষ কথা,,

তাহলে বন্ধুরা, যদি আপনিও প্রেমে পড়েছেন, তাহলে আপনার সামনেও এরকম পরিস্থিতি ভবিষ্যতে চলে আসতেই পারে।

এক্ষেত্রে, ভালোবাসার মানুষটি অবহেলা কেন করছে এবং ভালোবাসার মানুষ অবহেলা করলে কি করা উচিত, এই দুটো বিষয়ে আপনার জেনে রাখাটা সত্যি জরুরি। 

আশা করছি আমাদের আজকের আর্টিকেল আপনাদের অবশই পছন্দ হয়েছে।

আমাদের আজকের আর্টিকেল যদি সত্যি আপনাদের ভালো লেগে থাকে, তাহলে অবশই আর্টিকেলটি সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করবেন।

এছাড়া, আর্টিকেলের সাথে জড়িত কোনো ধরণের প্রশ্ন বা পরামর্শ থাকলে নিচে কমেন্ট করে অবশই জানিয়ে দিবেন।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error:
Scroll to Top
Copy link