টিকটক এর মতো ভিডিও বানানোর অ্যাপ এবং সফটওয়্যার – ৮টি

বর্তমানে নেট দুনিয়াতে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে ভিডিও বানানোর বিভিন্ন সফটওয়্যার/অ্যাপ গুলো। তবে বন্ধুগণ এই অনলাইন ভিডিও বানানোর যাত্রা আরম্ভ হয় ২০১৬ সালে একটি চাইনিজ অ্যাপ্লিকেশনের হাত ধরে।

অ্যাপ্লিকেশনটি আপনাদের সকলের পরিচিত টিকটক। এখন আট থেকে আশি কমবেশি সকলেই মজে আছেন টিকটকের মতো অনলাইন সফটওয়্যারে। অনলাইনে গানের সুরে কিংবা সিনেমার ডায়লগে মুখাভিনয় করছেন অনেকেই এবং বেশ কিছু মুখাভিনয় সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রশংসা অর্জন করছে।

সাধারণ মানুষ থেকে সেলিব্রেটি তারকাদেরকেও মুখাভিনয় করতে দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন অনলাইন ভিডিও অ্যাপ্লিকেশনে।

আর তাই, আজ আমরা আলোচনা করবো তেমনি কিছু অ্যাপ্লিকেশন নিয়ে যেগুলির মাধ্যমে আপনিও পারবেন মজাদার ভিডিও বানিয়ে বন্ধুদের সাথে ভাগ করে নিতে।

অবশই পড়ুন: মোবাইলের সেরা ভয়েস চেঞ্জ করার সফটওয়্যার

টিকটক এর মতো অন্যান্য ভিডিও বানানোর অ্যাপ/সফটওয়্যার গুলো ব্যবহার করেও আপনারা প্রায় সেই একই অনলাইন প্লাটফর্ম এর মজা নিয়ে নিতে পারবেন।  

মোবাইলে ভিডিও বানানোর সেরা অ্যাপ / সফটওয়্যার – ৮টি

ভিডিও বানানোর অ্যাপ
মোবাইলে ভিডিও বানানোর সফটওয়্যার

নিচে আমি মোবাইলে ভিডিও বানানোর যেই অ্যাপস গুলোর বিষয়ে বলতে চেয়েছি সেগুলি Google Play Store থেকে সম্পূর্ণ ফ্রীতে ডাউনলোড করে ব্যবহার করতে পারবেন। এছাড়া, এখানে এমন  ভিডিও বানানোর সফটওয়্যার গুলির কথা ও বলা হয়েছে যেগুলিতে নিজের হিসেবে ভিডিও গুলিকে এডিট করে যেকোনো প্লাটফর্ম এর জন্যে একটি সেরা ভিডিও বানিয়ে নিতে পারবেন।   

১. চিঙ্গারী :- মিট নিউ ফ্রেন্ডস

প্রথমেই যে অ্যাপ্লিকেশনটির কথা বলব, সেটি বর্তমানে অন্যতম জনপ্রিয় একটি ভিডিও মেকিং অ্যাপ্লিকেশন। চিঙ্গারী, মিট নিউ ফ্রেন্ডস। ৫ বিলিয়নেরও বেশি মানুষ এই অ্যাপ্লিকেশনটি ব্যবহার করেছেন।

৯৬ এমবির এই সফটওয়্যারটি আপনার জীবনকে আরো রঙিন করে তুলবে। কেননা, এই অ্যাপ্লিকেশনটির মাধ্যমে আপনারা মুহুর্তের মধ্যে নিজেদের পছন্দের গানে ভিডিও বানাতে পারবেন।

এছাড়া, এখানে আপনি মজাদার অনেক ফিল্টার পেয়ে যাবেন যেগুলি আপনার ভিডিওকে আরো মজাদার করে তুলবে।  সাথেসাথেই আপনি আপনার ভিডিওতে পছন্দের সিনেমার ডায়লগ বসাতে পারবেন।

শুধু অনলাইন ভিডিও বানানোই নয় তবে এই অ্যাপ্লিকেশনটির আরো অনেক বৈশিষ্ট্য আছে। যেমন আপনি আপনার পছন্দের সিনেমা দেখতে পারবেন এই অ্যাপ্লিকেশনে। আপনি চাইলে আপনার পছন্দের ক্রিয়েটারের সাথে কথাও বলতে পারবেন।

আপনি এখানে অনলাইন কয়েন এবং ডায়মন্ড জমা করতে পারবেন। এই ডায়মন্ড আর কয়েনের সাহায্যে আপনি আপনার ভিডিওকে আরো বেশি বেশি মানুষের কাছে পৌছে দিতে পারবেন। এছাড়াও এই অ্যাপ্লিকেশনটির মাধ্যমে আপনি আপনার বন্ধুদের সাথে অনলাইনে গেমও খেলতে পারবেন।

তাই এক কথায় চিঙ্গারী অ্যাপ্লিকেশনটি হল ছোটা প্যাকেট বড়া ধামাকার মতো। একটি অ্যাপ ফিচার অনেক। 

২. স্ন্যাপচ্যাট

বর্তমানে নেট দুনিয়ায় বিপুল জনপ্রিয় একটি ভিডিও বানানোর অ্যাপ্লিকেশন হল স্ন্যাপচ্যাট। ৬৯ এমবির এই অ্যাপ্লিকেশনটি এতই জনপ্রিয় যে ১০০ বিলিয়নের বেশি মানুষ এটি ব্যবহার করছেন।

এখানে আপনি খুব সহজেই নিজের পছন্দমতো ভিডিও বানিয়ে নিতে পারবেন। স্ন্যাপচ্যাটে অনেক মজাদার, নতুন নতুন স্টিকার, ফিল্টার, ইমোজি আছে। আপনি চাইলে নিজের পছন্দের স্টিকার তৈরি করতে পারেন এই অ্যাপ্লিকেশনটির মাধ্যমে।

স্ন্যাপচ্যাটের সাহায্যে আপনি আপনার মজাদার ভিডিও বন্ধুদের সাথে শেয়ার ও করে নিতে পারবেন।

অনলাইনে বন্ধুদের সাথে চ্যাট করতে পারবেন। এছাড়া, গ্রুপ করে একসাথে সর্বোচ্চ ১৬ জন বন্ধু কনফারেন্স কল করতে পারবেন, ভিডিও কল করতে পারবেন।

আপনি আপনার বন্ধুদের জন্য আলাদা আলাদা স্পেশাল স্টিকার বানাতে পারবেন। আপনি আপনার অবস্থান জানাতে পারবেন। পছন্দের পুরানো ছবি, ভিডিও জমিয়ে রাখতে পারবেন।

৩. Hipi :- Indian short video app

এরপরে যে অ্যাপ্লিকেশনটি নিয়ে আলোচনা করবো সেটি প্রায় ১ বিলিয়নের বেশি মানুষ ব্যবহার করেছেন। ৩২ এমবির এই অ্যাপ্লিকেশনটি যেকোনো অ্যানড্রয়েড ফোনে সহজেই ব্যবহার করা যাবে।

ভারতে তৈরি এই অ্যাপ্লিকেশনটি ইতিমধ্যেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এর সাহায্যে আপনি আপনার পছন্দের গানে ভিডিও বানাতে পারবেন। আপনি চাইলে আপনার পছন্দের টিউনে নাচ করতে পারবেন। পছন্দের গান শুনতে পারবেন।

আপনার ইচ্ছা অনুযায়ী রিলস, স্ট্যাটাস, সর্ট ভিডিও বানাতে পারবেন এবং বন্ধুদের সাথে শেয়ার ও করে নিতে পারবেন। 

৪. Josh

অন্যতম জনপ্রিয় এই ভিডিও মেকিং অ্যাপ্লিকেশনটি ১ বিলিয়নের বেশি মানুষ ব্যবহার করে ফেলেছেন। ৫২ এমবির এই সফটওয়্যারটির একাধিক সুবিধা আছে। এর মাধ্যমে আপনি মজাদার ভিডিও গুলো বানাতে পারবেন।

এর দ্বারা আপনার ভিডিও গুলো নানান ব্যক্তিদের কাছে ছড়িয়ে দিতে পারবেন। আপনার একাকিত্ব, মানসিক অবসাদ কাটিয়ে উঠতে পারবেন মজার মজার ভিডিওর তৈরি করার এবং দেখার মাধ্যমে।

আপনি চাইলে মজাদার সব ভিডিও ডাউনলোড করতে পারবেন, সাথে সাথেই সেগুলো হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাস, ফেসবুক রিলস হিসাবে ব্যবহার করতে পারবেন। 

৫. Filmora

৯০ এমবির এই অ্যাপ্লিকেশনটি যেকোনো স্মার্টফোনে সহজেই ডাউনলোড করা যাবে। এখনো পর্যন্ত ৫ বিলিয়নের বেশি মানুষ এই অ্যাপ্লিকেশনটি ব্যবহার করে ফেলেছেন। এই অ্যাপ্লিকেশনটি পরিচালনা করা খুব সহজ এবং এতে করে খুব সহজেই আপনি প্রফেশনালদের মতো ভিডিও বানাতে পারবেন।

তবে এটা কোনো শর্ট ভিডিও মেকার app নয়। অবশই, এই সেরা ভিডিও বানানোর অ্যাপটি ব্যবহার করার মাধ্যমে আম্পনি tiktok-এর মতো নানান শর্ট ভিডিও প্লাটফর্ম গুলোর জন্য ভিডিও এডিট ও তৈরি করতে পারবেন।

আপনি চাইলে নিজের কন্ঠস্বর এডিট করে ভিডিওতে ব্যবহার করতে পারেন। এখানে ২০০ এর বেশি নানারকমের স্টিকার এবং ইমোজি আছে যেগুলির সাহায্যে আপনার ভিডিওটি আরো সুন্দর হয়ে উঠবে।

আপনি আপনার ভিডিওটি এই অ্যাপ্লিকেশনটির মাধ্যমে সহজেই মানুষের কাছে পৌছে দিতে পারবেন।

একাধিক টেক্সট স্টাইল, টেক্সট ডিজাইন পেয়ে যাবেন যার ফলে ভিডিওর ক্যাপশনে ক্যালিগ্রাফিক ডিজাইন যোগ করতে পারেন। 

৬. Video editor & maker

৪৫ এমবিএ এই অ্যাপ্লিকেশনটি এখনো পর্যন্ত ৫০ বিলিয়নের কাছাকাছি লোকজন ব্যবহার করেছেন। প্লে স্টোরে বেশ জনপ্রিয় এই অ্যাপ্লিকেশনটি আপনার পছন্দের ভিডিওটিকে একাধিক ভাগে ভাগ করে আপনার পছন্দের অংশটিকে সম্পূর্ণ একটি ভিডিওতে পরিনত করতে সক্ষম। যা ভিডিও এডিটিং এর আসল ধাপ।

আপনি আপনার ভিডিওর স্পীড নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। আপনি আপনার ভিডিওর সাইজ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। আপনি চাইলে ভিডিও থেকে মূল অডিও আলাদা করে আপনার পছন্দের অডিও ও যোগ করতে পারেন।

আপনি ভিডিও বানানোর সময় আপনার ভয়েস এর স্পীড নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। আপনি চাইলে আপনার কাছে থাকা একাধিক ভিডিও গুলো যোগ করে বা জোড়া লাগানোর মাধ্যমে একটি ভিডিও বানাতে পারবেন।

এছাড়াও আপনি ভিডিওতে রকমারি স্টিকার, ব্যকগ্রাউন্ড, টেক্সট যোগ করতে পারবেন। এখানে আপনি ১০০০ এর বেশি স্টীকার পেয়ে যাবেন। আপনি আপনার ভিডিওটি যেকোনো সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করতে পারবেন।

এর মাধ্যমে আপনি ফটো কোলাজ করে ভিডিও বানাতে পারবেন, স্লাইড শো ভিডিও করতে পারবেন। 

৭. Music Video Editor – Vidshow

বর্তমানে ১ বিলিয়নের বেশি মানুষজন এই অ্যাপ্লিকেশনটি ব্যবহার করছেন। ৬৬ এমবির এই অ্যাপ্লিকেশনে আপনি ১০০ এর বেশি ইউনিক টেমপ্লেট পেয়ে যাবেন।

সাথে সাথেই 3ডি প্যারা লাক্স, ম্যাজিক এফেক্স, হাইকোয়ালিটির ফিল্টার, মজাদার ইমোজি, ম্যাজিকাল এফেক্ট এবং চেঞ্জেবেল ব্যাকগ্রাউন্ড ও পেয়ে যাবেন এই অ্যাপ্লিকেশনে।

এরফলে আপনার ভিডিওটি আরো সুন্দর এবং মনগ্রাহী হয়ে উঠবে। 

৮. Photo Video Maker – Office Tools

এই অ্যাপ্লিকেশনটি বর্তমানে ১ বিলিয়নের বেশি লোকজন ব্যবহার করে ফেলেছেন। সাইজে ছোটো, ২০ এমবির এই অ্যাপ্লিকেশনটিতে আপনি ছবি কোলাজ করে ভিডিও বানাতে পারবেন।

এরসঙ্গে স্লাইড সো তে মিউজিক যোগ করে ভিডিও বানাতে পারবেন। আপনি একসাথে ৬০টি ছবির কোলাজ তৈরি করে ভিডিও বানাতে পারবেন। আপনি আপনার ভিডিওটি সহজেই আপনার বন্ধুদের সাথে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করতে পারবেন।

এখানে আপনি একাধিক গান পেয়ে যাবেন আপনার ভিডিওর জন্য। আপনি এই অ্যাপ্লিকেশনটির সাহায্যে সহজেই এবং কম সময়ে উন্নতমানের ভিডিও, রিলস, স্লাইড শো, স্ট্যাটাস এবং স্টোরিজ বানিয়ে নিতে পারবেন। 

অবশই পড়ুন: মোবাইলের ভাইরাস কাটার সফটওয়্যার

শেষ কথা,,

মহামারীর সময়ে যখন দীর্ঘদিন মানুষ গৃহবন্দী থেকেছে তখন টিকটকের মতো একাধিক অ্যাপ্লিকেশন মানুষের অবসন্নতা কাটাতে সাহায্য করেছে। তাই লক্ষ্য করলে দেখা যাবে বাচ্চা থেকে বয়স্ক, গ্রাম থেকে শহর, অতি সাধারণ থেকে সুপারস্টার সেলিব্রেটি সকলেই মেতে উঠেছিলেন এই সকল অনলাইন ভিডিও মেকিং অ্যাপ্লিকেশনে।

আপনিও পারেন এই অ্যাপ্লিকেশন গুলি ব্যবহার করে আপনার একঘেয়ে জীবন কে আরো রঙিন করে তুলতে। লেখাটি ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করবেন। তাহলে আর দেরি না করে আপনিও মেতে উঠুন ভিডিও মেকিং এর দুনিয়ায়। 

পড়ুন: দোকানের বা ব্যবসার হিসাব রাখার সফটওয়্যার

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top