ঘরে বসে প্রফেশনাল মেকআপ করার নিয়ম গুলো

আজকের আমাদের আর্টিকেলের মূল বিষয় হলো, ঘরে বসে মেকআপ করার নিয়ম বা মেকআপ করার সহজ নিয়ম গুলোর তালিকা কি কি এবং মেকআপ করতে কি কি জিনিস লাগবে ?

ঘরে বসে মেকআপ করার নিয়ম
মেকআপ করতে কি কি জিনিস লাগবে ?

এখন আর কেউ ‘ছোট টিপ্ আর হালকা লিপস্টিক’ নিয়েই সাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে নেই। 

এখনকার দিন হল, হয় ফুল-কাভারেজ নাহলে ন্যাচারাল মেকাপের জমানা। 

যুগ বদলানোর পাশাপাশি, মেকাপ বা সাজগোজ হয়ে উঠেছে জেন্ডার-নিউট্রাল বা লিঙ্গ-নিরপেক্ষ বেসিক কনসেপ্ট। 

বর্তমানে, ইয়াং জেনারেশনের মধ্যে মেকাপে রয়েছে কোরিয়ান মেকাপের সরাসরি প্রভাব। 

এছাড়াও, আছে ওয়েস্টার্ন ও ক্লাসিক মেকাপেরও নানা প্রভাব। 

এইচডি মেকাপ, আলট্রা-হেইচডি মেকাপের পাশাপাশি বিভিন্ন অকেশানের জন্যেও রয়েছে নানা বিভাগের মেকাপ। 

তবে, সব ধরণের মেকাপের ক্ষেত্রেই রয়েছে, বেশ কিছু সাধারণ বা কমন স্টেপস বা ধাপ। 

আর, এই জমানায় আপনি মেকাপ করার দিক থেকে আপনার গ্রূপের অন্যদের থেকে পিছিয়ে আছেন ?

অথবা,

বিউটি পার্লরে না গিয়ে, মেকাপ কেমনভাবে বাড়িতে করবেন, সেই নিয়ে চিন্তিত আছেন ?

কিংবা আপনি কি মেকাপের নিউবি ? 

বা, সবে সবে মেকাপ করা শুরু করেছেন ?

তবে, আপনাদের মেকাপ নিয়ে কনফিউশন বা মুস্কিলগুলো আসন করার জন্যেই, আমাদের আজকের এই বিশেষ আর্টিকেল, মেকআপ করার সহজ নিয়ম 

এই টিপসগুলো আপনাদের মেকাপ-রিলেটেড ভুলভ্রান্তিগুলো শুধরে দিতে সাহায্য করবে, আর এই ভুলগুলো শুধরে নিলেই, মেকাপ আপনার ব্যক্তিত্বে নিয়ে আসবে এক আলাদা রকমের জেল্লা ও দীপ্তি।

ঘরে বসে মেকআপ করার নিয়ম গুলো

আসুন জেনে নেওয়া যাক, স্টেপ-বাই-স্টেপ ঘরে বসে মেকআপ কিভাবে করা যাবে সেই বিষয় গুলোর  সম্পর্কে।

আপনার মেকআপ প্রোডাক্টস অর্গানিক হোক কিংবা কেমিকাল-বেসড, সবকিছুই আপনার ফেসিয়াল স্কিনের উপর একটা প্রভাব ফেলবেই।

কারণ, আমাদের মুখের চামড়া খুবই সেনসিটিভ। 

আর, যাদের অয়েলি, ড্রাই কিংবা সেনসিটিভ স্কিন, বিশেষ করে তাদের জন্যে মুখে মেইকআপ করার আগে স্কিনের যত্ন নেওয়া একান্তই জরুরি। 

যেহেতু, মেকআপ বা সাজগোজের জন্যে কতগুলো সাধারণ স্টেপস ফলো করতেই হয়, তাই আমরা স্টেপগুলোকে সিম্পল কতগুলো ভাগে ভাগ করে নেবো, যাতে আপনারা সহজেই স্টেপ্সগুলো বুঝতে পারেন, আর সেই অনুযায়ী ফলো করতে পারেন।

মেকআপ এর প্রক্রিয়ার নিয়মের ভাগ

আসলে, আমরা পুরো মেকাপের নিয়মটাকে ৪টে মেইন ভাগে ভাগ করেছি, সেগুলো হল –

১. ফেসিয়াল স্কিনের পরিচর্যা

২. মুখ বা ফেস মেকাপ

৩. চোখ বা আই মেকাপ    

৪. ঠোঁট বা লিপ মেকাপ

প্রথমেই আসা যাক, প্রথম ধাপে-

১. ফেসিয়াল বা মুখের ত্বকের পরিচর্যা:

এই স্টেপে মূলত আপনার মুখকে মেকাপ আপ্লাই করার আগে প্রস্তুত করে নিতে হয়। 

আর, এই ধাপে আপনার যা যা প্রোডাক্ট লাগবে –

  • স্ক্রাবার,
  • ফেসওয়াশ,
  • তোয়ালে,
  • টোনার,
  • তুলো ও ময়েশ্চারাজার

নিচে প্রত্যেকটি বিষয়ে বিস্তারিত ভাবে জেনেনেই।

স্ক্রাবার:

মুখে মেকাপ লাগানোর আগেই চেষ্টা করবেন, মুখে কোনো ভালো স্ক্র্যাবার দিয়ে স্ক্রাব করে নেওয়ার। 

তাতে, আপনার মুখের ডেড স্কিন সেলস কিংবা বুঝে যাওয়া পোর্সগুলোও ক্লিন হয়ে যাবে। 

আর, এতে করে আপনার মুখে লেগে থাকা জার্ম্স, ধুলো আর অতিরিক্ত তেলও চলে যাবে। 

তবে, মনে রাখবেন, খুব চেপে বা জোরে মুখের উপর স্ক্রাব করবেন না, এতে আপনার স্কিন টিসু ড্যামেজের চান্স বেড়ে যায়। 

স্ক্রাবিং করলে আপনার মুখে মেকাপ ভালোভাবে বসবে আর তাতে আপনার লুকটাও ফ্ললেস দেখাবে।

ফেসওয়াশ:

পরবর্তী ধাপে, আপনার রেগুলার ব্যবহারের ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ, ঘাড় ও গলা জলের সাহায্যে ক্লিন করে নিন আর কোনো পরিষ্কার কটন তোয়াল দিয়ে আলতো হাতে অতিরিক্ত জল মুছে নেবেন। 

যার ফলে, আপনার স্কিন একদম পরিষ্কার আর জীবাণুমুক্ত হয়ে যাবে। 

এর ফলে, আপনার ফেসের উপর মেকাপ প্রোডাক্ট ভালোভাবে কাজ করতে পারবে। 

স্কিন ড্রাই হলে ক্রিম-বেসড ফেসওয়াশ বেশ উপকারী আর অয়েলি স্কিনে ফোম-বেসড ক্লিন্সার কিন্তু অতিরিক্ত তেল বের করে দিতে সাহায্য করে।

টোনার:

এরপরের ধাপটি হল টোনার ব্যবহার করে ফেসিয়াল স্কিন থেকে অবশিষ্ট ময়লা টেনে বের করে দেওয়া। 

একটি ভালো টোনার আপনার সম্পূর্ণ মুখের স্কিনের যত্নের জন্যে খুবই প্রয়োজনীয়। 

মেকাপের আগে টোনিং করলে তা আপনার মুখের উপর থাকা সূক্ষ রোমছিদ্রগুলোকে সংকুচিত করে দেয়, যাতে আপনার ত্বকে অতিরিক্ত ময়লা প্রবেশ করতে না পারে। 

এছাড়া, টোনারের মূল কাজ হল আপনার ত্বকের আদর্শ পিএইচ ব্যালেন্স মেইনটেইন করে স্কিনের ইলাস্টিসিটি বজায় রাখা।

তাই, বলতে পারেন, যে টোনার হল মেকাপের আগে ফেসের রক্ষাকবচ, যা মেকাপের সাইড এফেক্টস থেকে আপনাকে বাঁচতে সাহায্য করে। 

টোনার আপ্লাই করতে গেলে আপনাকে একটা তুলোয় অল্প টোনার নিয়ে আপনার সারা মুখে আলতোভাবে মাখিয়ে নিতে হবে।

আর মনে রাখবেন, প্রোডাক্টটি মুখে শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

ময়েশ্চারাজার বা সানস্ক্রিন ক্রিম:

দিনের বেলার মেকআপ করতে গেলে সবার আগে প্রয়োজন ভালো এসপিএফযুক্ত সানস্ক্রিন ক্রিম বা সিরামের ব্যবহার করা। 

কারণ, উইভি রেইস বা অতি বেগুনী সূর্যরশ্মি আপনার ত্বক ও মেকাপ দুইয়ের জন্যেই খারাপ।

এই ধাপে, আপনি আপনার সুইটেবল কোনো ময়েশ্চারাজারও ব্যবহার করতে পারেন। 

এতে, আপনার ত্বকের হাইড্রেশন বা আদ্রতা বজায় থাকে। 

যাতে, মেকাপ করলে আপনার ত্বক শুকনো না দেখায়।

তাছাড়া, এই ক্রিম আপনার ত্বক ভালো রাখতে ও মেকাপ দীর্ঘ সময় ধরে, ধরে রাখতেও সাহায্য করে। 

সবসময় চেষ্টা করবেন আলতো হাতে, আপনার আঙ্গুল ব্যবহার করে ময়েশ্চারাজার সার্কুলার মোশনে আপনার মুখে এপ্লাই করতে, যতক্ষণ না সেটি আপনার ত্বকের সাথে মিশে যাচ্ছে।

এরপর আমরা আসবো, দ্বিতীয় তথা ফেস মেকাপ ধাপটিতে। 

২. ফেস বা মুখের মেকাপ:

মুখের সম্পূর্ণ পরিচর্যার পর, আমরা আসব ফেস মেকাপ বিষয়ে। 

এই ধাপে যেসব প্রোডাক্ট লাগবে –

  • প্রাইমার,
  • কনসিলার,
  • ফাউন্ডেশন,
  • কন্টোরিং,
  • হাইলাইট,
  • সেটিং পাউডার ও ব্লাশ 

চলুন, প্রত্যেকটি বিষয়ে বিস্তারিত ভাবে জেনেনেই।

প্রাইমার:

বাজারে নানা ধরণের প্রাইমার উপলব্ধ আছে। 

আপনি, দরকারে কালার-কারেক্টিং প্রাইমারও ব্যবহার করতে পারেন। 

তবে, প্রাইমার ছাড়া ফেস মেকাপ কিন্তু বৃথা।

কারণ, এই ক্রিম আপনার মুখের উপর একটা মসৃন আবরণ তৈরী করে। 

যা, আপনার সমস্ত মেকাপ একুয়ালি স্প্রেড করতে সাহায্য করে।

আর, মেকআপ যাতে ডাইরেক্টলি আপনার ত্বকের উপর কোনো ক্ষতি করতে না পারে, তার খেয়াল রাখে। 

এছাড়া, আপনার মুখে কোনো সুস্পষ্ট দাগ থাকলে প্রাইমার তা অনেকটাই হালকা করে। 

খুব সামান্য পরিমাণ প্রাইমার আপনার আঙুলে নিয়ে তা সারা মুখে ম্যাসাজ করুন।

তারপর, ১০-১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন আপনার স্কিনে এই প্রোডাক্টটি সম্পূর্ণ এবসর্ব হয়ে যাওয়া অবধি। 

ড্রাই স্কিনের জন্যে জেল-বেসড প্রাইমার আর অয়েলি স্কিনের জন্যে স্যালিসাইলিক অ্যাসিড-বেসড প্রাইমার ভালো কাজ করে। 

কন্সিলার:

আমাদের অনেকেরই ত্বকে ব্রোনোর দাগ, একনে স্কার, ডার্ক সার্কলেস বা আন্ডার-আই ডার্কনেস থাকে। 

এইসব অসমান স্কিন টোন ঢাকতে আমাদের সেই ডার্ক স্কিন গুলোতে কন্সিলার ব্যবহার করতে হবে। 

এই কনসিলার ক্রিম সব সময় বিউটি স্পঞ্জ বা ব্রাশ দিয়ে স্কিনের সাথে ব্লেন্ড করতে হয়, যাতে তা আমাদের মুখে একটা ইভেন লুক দেয়। 

আর, মুখের কোনো স্পট ঢেকে ফেলতে সেইসব স্পটের উপর কনসিলার ব্যবহার করে স্মল ব্রাশ দিয়ে ব্লেন্ড করে ফেলুন। 

ফাউন্ডেশন:

ফেস মেকাপে ফাউন্ডেশন হল সবথেকে জটিল বিষয়। 

বিশ্বের বেশির ভাগ মেকাপপ্রেমীর কাছে তাদের ত্বকের রঙের আদর্শ ফাউন্ডেশন খুঁজে পাওয়া অনেকটা ভগবান খুঁজে পাওয়ারই মতো। 

তাই, আমাদের উচিত মেকাপের দোকানে গিয়ে বেশ কয়েক ধরণের ফাউন্ডেশন এপ্লাই করে, তারপর স্কিনটোন অনুযায়ী পারফেক্টভাবে ম্যাচ করে যাওয়া ফাউন্ডেশন কেনা। 

এতে, আপনি আপনার মেকাপ গাইড বা বন্ধুর সাহায্য অবশ্যই নিতে পারেন।

এরপর, ফাউন্ডেশন ফোঁটা ফোঁটা করে আঙুলে নিয়ে সারা মুখে সমানভাবে ছড়িয়ে নিন। 

একদম আঙুল দিয়ে ফাউন্ডেশন ব্লেন্ড করতে যাবেন না, এতে আপনার লুক অত্যন্ত কেকি বা মেকী দেখতে পারে। 

চেষ্টা করবেন, এই ভিজে বিউটি ব্লেন্ডার দিয়ে সমানভাবে ফাউন্ডেশন ব্লেন্ড করতে, এতে অতিরিক্ত প্রোডাক্ট বিউটি ব্লেন্ডার শুষে নেবে আর আপনার মেকাপে একটা প্রফেশনাল লুক দেবে।

তা নাহলে, একটা ব্লেন্ডিং ব্রাশ নিয়ে ডাউনওয়ার্ড স্ট্রোকের সাহায্যে ভালোভাবে ফাউন্ডেশন ব্লেন্ড করতে পারেন, তবে এই পদ্ধতি অনেকটা বেশি টাইম নেয়।

সেটিং পাউডার:

আপনার ফাউন্ডেশন ব্লেন্ড হয়ে যাওয়ার পর, প্রয়োজন মতো সেটিং পাউডার একটা ব্রাশে লাগিয়ে আলতো হাতে আপনার মুখের উপর বুলিয়ে নেবেন। 

এতে করে, গরমের মধ্যে কিংবা দীর্ঘ সময়ের জন্যে আপনার মেকাপ একদম টিপটপ থাকবে। 

তবে, অবশ্যই এই পাউডার একগাদা এপ্লাই করবেন না, তাহলে আপনার মুখ অতিরিক্ত সাদা দেখতে পারে, যা কাম্য নয়। 

কন্ট্যুর:

আপনার গাল দুটোকে স্লিম দেখাতে গেলে কন্ট্যুর করতে পারেন। 

এটি, স্টিক, পাউডার বা ক্রিমের আকারে পাওয়া যায়। 

যা আপনি, ব্রাশ ব্যবহার করে আপনার চোয়াল বা চিকবোনের উপর এপ্লাই করতে পারেন। 

যা আপনার চিকবোন দুটোকে একটা শার্প লুক দেবে। 

এছাড়া, কপালের হেয়ার লাইন এরিয়া, নাকের দুইপাশ ও কানের পাশ দুটোতে ব্রোঞ্জার ব্যবহার করতে পারেন, যেটা আপনার মুখটাকে একটা ডিফাইন্ড শেপ দিতে সাহায্য করে।

ব্লাশ:

আপনি যখন হাসেন তো আপনার চোখের তলায়, মুখের যে পেশী দুটো ফুলে ওঠে, ব্লাশ সেই দুটো পেশির উপরই হালকাভাবে ব্যবহার করতে হয়। 

ব্লাশ সাধারণত পাউডার ও লিকুইড, এই দুই ধরণের হয়ে থাকে। 

ব্লাশ ব্যবহার করলে আপনার চিক বা গাল বেশ আকর্ষণীয় দেখতে লাগবে। 

তবে, ব্লাশ কম পরিমাণে এপ্লাই করাই ভালো, নাহলে তা লুক নষ্ট করে দিতে পারে।

হাইলাইট:

এটি একধরণের জেল বা পাউডার-বেসড প্রোডাক্ট। 

যা আপনার মুখের সেরা ফিচারগুলোর প্রতি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সাহায্য করে। 

আপনি, এটি আপনার চোখের তলায় থাকা চিক বোনের উপরের অংশে, কপালের মাঝের হাড়ের উপর, নাকের হারের উপর বা ঠোঁটের উপর লাগাতে পারেন।

এরপর পালা আমাদের আই বা চোখের মেকাপের।

৩. আই বা চোখের মেকাপ:

ফেস মেকাপ সেট হওয়ার পর একটু সময় নিন। তারপর শুরু করুন চোখের মেকাপ। 

এই স্টেপে আপনার যে যে প্রোডাক্ট লাগবে –

  • আইব্রাও বা আইব্রো পেন্সিল,
  • আইশ্যাডো,
  • কাজল বা আইলাইনার
  • মাস্কারা 

আইব্রাও:

আজকালকার দিনে ডিফাইন্ড আইব্রো হল একটা ট্রেন্ড। 

নিজের ভ্রুর রঙের থেকে এক শেড হালকা আইব্রো পেন্সিল ব্যবহার করে, হালকা স্ট্রোকের মাধ্যমে ভ্রু দুটো ফিল করুন।

ওভার-ফিলিং একদম করবেন না, এতে আপনার লুক খারাপ হয়ে যেতে পারে। 

এরপর, একটা কন্সিলার ব্যবহার করে এবড়ো-খেবড়ো বা আনইভেন ব্রাও লাইনগুলো পরিষ্কার করে ফেলুন।

আইশ্যাডো:

এই সময়ে লাখ-লাখ রঙের আইশ্যাডো প্যালেট আছে, আপনার ওকেশান, সময় অর্থাৎ দিন কি রাতের মেকাপ লুক, সেই অনুযায়ী আইশ্যাডো কালার বাছুন। 

তবে, সবার আগে আপনার ত্বকের রং অনুসারে আইশ্যাডো প্যালেট বাছা অত্যন্ত জরুরি। 

যখন প্রাইমার এপ্লাই করবেন, তখন অবশ্যই আপনার আই লিডের উপর তা ব্যবহার করতে ভুলবেন না।

এতে আপনার আইশ্যাডো খুব ভালোভাবে আপলিয়েড হবে আর অনেকক্ষণ টিকে থাকবে।

একটা আইশ্যাডো ব্রাশ ব্যবহার করে, রঙের উপর বুলিয়ে, অতিরিক্ত প্রোডাক্ট তুলি থেকে ঝেড়ে ফেলে তারপর সেটা চোখের পাতার উপর ব্যবহার করুন ও সমানভাবে ব্লেন্ড না হওয়া পর্যন্ত হালকাভাবে ব্রাশ বোলাতে থাকুন।

কাজল বা আইলাইনার:

আইশ্যাডো এপ্লাই করার পর আপনার লুকের প্রয়োজন অনুসারে, চোখের শেপকে ডিফাইন করার জন্যে কাজল বা লাইনের ব্যবহার করুন।

এখন নানা রঙের কাজল ও আইলাইনারও পাওয়া যায়। 

আপনি আপনার পছন্দ অনুসারে যেকোনো রঙের লাইনার ইউস করতে পারেন।

এই লাইনার গুলোতে নানান আকারের সরু ব্রাশ নিয়ে আপনার প্রয়োজনমতো মোটা বা সরু লাইন টানুন। 

কিংবা, কাজলের ক্ষেত্রেও এই একইভাবে এপ্লাই করুন।

মাস্কারা বা ফলস ল্যাশ:

মাস্কারা হচ্ছে যেকোনো আইল্যুককে ডিফাইন করার বেস্ট প্রোডাক্ট। 

এটি মূলত আপনার আপার বা লোয়ার লাশ বা চোখের পাপড়ির ভলিউম বা ঘনত্ব বাড়াতে সাহায্য করে। 

মাসকারার নিজস্ব ব্রাশ আছে, যা আপনাকে আপনার চোখের পাপড়ির উপর নিচ থেকে উপর দিকে বেশ কয়েকবার টানতে হবে ডিজায়ার্ড লুক পাওয়ার জন্যে।

এছাড়াও, আপনি ফসল ল্যাশ ব্যবহার করে তার উপরও মাস্কারা লাগাতে পারেন। 

এখন 4D মাস্কারাও পাওয়া যায়, যা ফলস ল্যাশ ছাড়াই আপনার ল্যাশকে ন্যাচারাল আর ঘন দেখতে সাহায্য করে।

সবশেষে, আমরা চলে যাবো ঠোঁটের মেকাপের দিকে। 

৪. লিপ মেকাপ:

ঠোঁটের মেকাপ আমরা সবার শেষেই করে থাকি।

আর, এই স্টেপে আপনাদের যে যে প্রোডাক্ট লাগবে –

  • লিপ লাইনার,
  • লিপস্টিক বা লিপগ্লস

লিপ লাইনার:

লিপ লাইনার ব্যবহার করার সময় অবশ্যই দেখে নেবেন, যে সেটা আপনার লিপস্টিক শেডের সাথে ম্যাচ করছে কিনা।

নাহলে, লিপ লাইনার স্পষ্টভাবে বোঝা গেলে, তা দেখতে একদমই ভাললাগে না। 

যদিও, অনেকে এই লাইনার ব্যবহার করতে পছন্দ করেন না, কিন্তু এটি আপনার ঠোঁটকে একটা সুন্দর আকার দিতে সাহায্য করে।

এটি সাধারণত পেন্সিলের মতোই হয়, আপনার ঠোঁটের সীমানা ঘেঁষে এটি এপ্লাই করতে হয়।

লিপস্টিক:

লিপস্টিক পরার আগে লিপ বাম বা লিপ প্রাইমার লাগালে এপ্লিকেশন অনেক মসৃণ হয়। 

যদি, আপনার পিগমেন্টেড লিপ বা ঠোঁটের রং দুরকমের হয়, তবে অবশ্যই লিপ প্রাইমার লাগাবেন।

লিপস্টিকের নানা ধরণের টেক্সচারও থাকে,

যেমন-ম্যাট, গ্লস, সেমী-ম্যাট, শিমার, ক্রেয়ন, প্যাস্টেল ও ইত্যাদি। 

আর, লিপস্টিকের শেড তো যে যার নিজের পছন্দেরই হয়ে থাকে। 

তবে, লিপস্টিকের কালার অকেশন, ড্রেস ও সময়ের উপর নির্ভর করে পছন্দ করা উচিত। 

সকালের ইভেন্টে হালকা রঙের লিপস্টিক ভালো, আর রাতে ডিপ শেডের লিপস্টিক বেস্ট লাগে।

ঠোঁটের ভিতর দিক থেকে বাইরের দিকে এপ্লাই করলে লিপস্টিক ঠোঁটের বাইরে ছড়িয়ে যাওয়ার চান্স কম থাকে।

ইনস্ট্যান্ট ম্যাট লিপস্টিকের টেক্সচার পেতে অবশ্যই লুস পাউডার ঠোঁটের উপর বুলিয়ে নিতে পারেন।

অপশনল বা এক্সট্রা স্টেপ:

আমরা প্রফেশনাল মেকাপ আর্টিস্টদের দেখি মেকআপ শেষ করার পর, মুখের উপর একটা বিশেষ কিছু স্প্রে করতে। আসলে, তা হল মেকআপ সেটিং স্প্রে। 

এই স্প্রে ডিউই বা ম্যাট এই দুই ধরণের হয়ে থাকে। 

সেটিং স্প্রে আসলে, মেকাপটাকে লং-টার্ম বা বেশি সময়ের জন্যে ইন্ট্যাক্ট বা ধরে রাখতে সাহায্য করে। 

যাতে, আপনি কম করে ৭-৮ ঘন্টা আপনার মেকাপ লুক পরিছন্নভাবে ধরেন রাখতে পারেন।

এই স্প্রে ৩-৪ বার করে স্প্রে করতে হয়। 

আর, অবশ্যই সেফটির জন্যে মুখের ১০ ইঞ্চি দূর থেকে এটি ইউস করবেন।

এইভাবে স্টেপ-বাই-স্টেপ মেকআপ করার সহজ নিয়মগুলো মেনে চললে, আপনি নিশ্চয়ই ঘরে বসেই দুর্দান্ত একটা প্রফেশনাল মেকাপ লুক পেতে পারেন। 

আমাদের শেষ কথা,

পারফেক্ট মেকাপ করা কারোর পক্ষেই একদিনের কাজ না, তাই সুন্দর মেকাপ করতে গেলে প্রাকটিস রাখাটা একান্ত দরকার। 

আর, সবসময় মনে রাখবেন, মেকাপ করা এক ধরণের শিল্প, আর যেকোনো শিল্পকে রপ্ত করতে গেলে তো চর্চা করতেই হবে।

তাই, মেকাপ করার প্রাকটিস করতে থাকুন।

আজকে, আমাদের ঘরে বসে মেকআপ করার নিয়ম নিয়ে লিখা আর্টিকেলটি এখানেই শেষ হল। 

মেকাপের স্টেপগুলো ভালোলাগলে অবশ্যই ফলো করুন, আর লেখাটা পছন্দ হলে কমেন্ট করে জানান।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Scroll to Top