মোবাইল রিচার্জ ব্যবসা কিভাবে শুরু করব – (Recharge Business)

মোবাইল রিচার্জ ব্যবসা কিভাবে শুরু করা যাবে ? ব্যবসা শুরু করার ধাপ গুলো কি কি ? (How To Start Mobile Recharge Business).

স্মার্টফোনের সহজলভ্যতা এবং একাধিক সিম কার্ডের উপস্থিতির কারণে মানুষের মধ্যে মোবাইলের ব্যবহারের প্রবণতা চরমভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। 

আর, একাধিক সিম কার্ড ব্যবহারের কারণে মানুষ নানান ডেটা প্ল্যান ও কলিং রিচার্জের ব্যাপারে বিশেষ মনোযোগী হয়ে পড়েছে।

এছাড়াও, বিভিন্ন অনলাইন মোবাইল ওয়ালেট সিস্টেম, যথা- MobiKwik বা paytm সাহায্যে বহু মানুষই অনলাইন রিচার্জের দিকে ঝুঁকছে। 

আর, ঠিক এই সুযোগ নিয়েই অনেক উদ্যোগপতিরাই online কিংবা offline mobile recharge business শুরুর দিকে ঝুঁকছে।

এখনকার সময়ে, বিভিন্ন মোবাইল ওয়ালেট সিস্টেমের সহায়তায় আপনি মোবাইলের পাশাপাশি DTH, ইলেক্ট্রিসিটি বিল ও অন্যান্য পেমেন্ট বা রিচার্জও করতে পারবেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে, রিচার্জের ব্যবসা হল এমন একটা স্বল্প বিনিয়োগের ব্যবসা;

যেখানে আপনি মোবাইল রিচার্জের থেকে পাওয়া কমিশনের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে মুনাফা লাভ করতে পারবেন।

আর, আমরা আমাদের আজকের এই আর্টিকেলে আলোচনা করবো যে, আমরা এই মোবাইল রিচার্জ দোকানের ব্যবসা কিভাবে শুরু করব ? 

তবে, সবার আগে জানি, এই মোবাইল রিচার্জের বিজনেস আসলে কি ?

মোবাইল রিচার্জ ব্যবসা কি ?

মোবাইল রিচার্জ ব্যবসা
Mobile recharge business plan in Bengali.

সোজা এবং সরল ভাবে বললে, এই ব্যবসাতে আপনি আপনার গ্রাহকদের মোবাইল রিচার্জ করিয়ে দিতে হয়।

এবং, মোবাইলে রিচার্জ করিয়ে দেওয়ার বিপরীতে আপনি রিচার্জ কোম্পানি গুলোর থেকে কমিশন পেয়ে থাকেন।

শুরুর দিকে এই ধরণের ব্যবসাতে বিভিন্ন মোবাইল অপারেটর কোম্পনিগুলো,

ব্যবসার মালিকদের, গ্রাহকের মোবাইলে রিচার্জ ভরার মাধ্যমে এক্সট্রা আয়ের সুযোগ করে দিতো। 

প্রথমদিকে ব্যবসার মালিকদের, অপারেটরদের থেকে মোবাইল ব্যালান্স কিনতে হলেও,

বর্তমানে আলাদা করে এই সমস্ত অপেরাটরদের থেকে আর ব্যালান্স কিনতে হয় না। 

বরং, মাল্টি-রিচার্জ কোম্পানিগুলোর থেকে এই ব্যবসার মালিকরা সিঙ্গেল ব্যালান্সও কাস্টমারদের রিচার্জ করে দিতে পারে।

এই রিচার্জের ব্যবসা কাদের জন্যে ?    

এই রিচার্জ ব্যবসা শুরু করার জন্যে আপনার একটা দোকান বা বিজনেস লোকেশন থাকতেই হবে। 

এক্ষেত্রে, আপনি যত বেশি ভিড় এলাকাতে আপনার দোকান রাখবেন, আপনার লাভের সম্ভাবনা ততই বাড়বে।

এখন যদি আপনি অনেক কম টাকা বিনিয়োগ করে একটি সাধারণ তবে লাভজনক ব্যবসা শুরু করার কথা ভাবছেন,

তাহলে এই ব্যবসাটি আপনি শুরু করতে পারেন।

কেননা, এখানে আপনাকে একটি ছোট-খাটো দোকান নেওয়া ছাড়া অন্য কোথাও বিশেষ খরচ করতে হয়না।

তাই, যেই ব্যক্তিরা কম টাকায় ব্যবসা করতে চাইছেন, তারা এই মোবাইল রিচার্জ করানোর ব্যবসাটি শুরু করতে পারেন।

এখানে টাকা আয়ের উপায় কি ?

এই ব্যবসার মাধ্যমে আপনি কমিশন স্ট্রাকচার হিসেবে টাকা ইনকাম করার সুযোগ পাবেন।

প্রথমে, আপনি মাল্টি-রিচার্জ ব্যবসার কোম্পানি কিংবা অপারেটরের ডিস্ট্রিবিউটদের থেকে মোবাইল অপারেটর ব্যালান্স কিনলেন।

এইবার, আপনি যখন ক্রেতাদের ফোনে ব্যালান্স ভরাবেন,

তখন সেই ব্যালান্স ভরানোর বিপরীতে আপনি একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা কমিশন হিসেবে পাবেন। 

যদিও এই কমিশনের মাত্রা পরিবর্তনশীল; তবে কম করেও আপনি ৩% থেকে প্রায় ৬% পর্যন্ত কমিশন পেতেই পারেন।

মোবাইল রিচার্জের ব্যবসা কিভাবে শুরু করবেন ?

একটা মোবাইল রিচার্জ ব্যবসা শুরু করার জন্যে বেশ কিছু বেসিক প্রয়োজনীয়তা থাকে; যেগুলো নিচে আলোচনা করা হল,

১. দোকানের লোকেশন:

এই ধরণের ব্যবসাতে সফলতার পিছনে দোকানের লোকেশনের ব্যাপারটা যথেষ্টই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। 

মোবাইল রিচার্জের দোকান যত বেশি মেইন রোড বা ভীড়ভাট্টা যুক্ত এলাকার কাছে হবে, আপনি সারাদিনে তত বেশি কাস্টমার পাবেন। 

মূলত, স্কুল-কলেজ ও অফিসের আশেপাশে থাকা রিচার্জের দোকানগুলো সবথেকে সফলভাবে ব্যবসা করতে পারে। 

আপনি পাড়ার গলিতে দোকান দেওয়ার পরিবর্তে, যদি রেল স্টেশন বা বাস ডিপোর আশেপাশে মোবাইল রিচার্জের দোকান খোলেন,

তাহলে সেখানে আপনার লাভের সম্ভাবনা বেশি হবে। 

বিশেষত, এই ব্যবসা গ্রামীণ ঘনবসতি এলাকাতে সবথেকে বেশি লাভজনক হতে পারে।

এই ব্যবসা করার সবচেয়ে ভালো লোকেশন হলো – 

  • বাজার হাটের মধ্যের কোনো জায়গা।
  • শপিং মল, হাসপাতাল বা কোনো হোটেল এর সামনে।
  • ট্রেন স্টেশন এর সামনে।

ব্যবসার জায়গা নিশ্চিত করার আগেই আপনাকে এটা দেখতে হবে, যাতে আপনার দোকান অনেক সহজেই গ্রাহকের নজর আকর্ষণ করতে পারে।

আর, এমন জায়গাতে দোকান নিতে হবে যেখানে একবার আসার পর গ্রাহকেরা দোকানের লোকেশন সহজেই মনে রাখতে পারে।

এই ধরণের ব্যবসার ক্ষেত্রে ব্যবসার লোকেশন সব থেকে অধিক ভূমিকা পালন করে থাকে।

শুরুতে আপনাকে ছোট একটি দোকান থেকেই শুরু করতে হবে যদিও, ধীরে ধীরে যখন আপনার লাভ হতে শুরু হবে,

আপনি ভবিষ্যতে একটি বড় ও ভালো দোকান অবশই নিতে পারবেন।

২. স্টার্টআপের খরচ:

এই ধরণের লো-কস্ট ব্যবসার ক্ষেত্রে বিনিয়োগের মাত্রা অন্যান্য ব্যবসার তুলনায় অনেকটাই কম হয়। 

আপনি একটি একদম ছোট গুমটি দোকান নিয়েও রিচার্জের ব্যবসা শুরু করতে পারেন। 

সুতরাং, এই ব্যবসাতে ৩৫,০০০-৫০,০০০ টাকা বিনিয়োগ করলেই যথেষ্ট। 

তবে, আপনি যদি জমি কিনে বা বড় দোকান ভাড়া করে ব্যবসা চালানোর কথা ভাবেন,

তাহলে সেক্ষেত্রে আপনার প্রাথমিক বিনিয়োগ অনেকটাই বেশি হবে।

মনে রাখবেন, যেকোনো অন্য ব্যবসার মতোই এখানেও আপনার অন্যান্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে খরচ করতে হয়।

যেমন, chair, table, mobile ইত্যাদি জিনিস গুলোর ওপর।

৩. প্রয়োজনীয় যন্ত্র:

এই ব্যবসা শুরু করার জন্যে বেশি সময় লাগেনা এবং কোনো ভেজাল বা অসুবিধা ছাড়া এই মোবাইল রিচার্জ শপ চালানো সম্ভব।

আজকাল স্মার্টফোন এবং ইন্টারনেট এর ব্যবহারের দ্বারা আমরা বিভিন্ন আধুনিক সফটওয়্যার গুলো ব্যবহার করতে পারি।

আর এরকম অনেক সফটওয়্যার গুলো আছে, যেগুলোর ব্যবহার করে আমরা সহজেই মোবাইল রিচার্জ করতে পারি।

তবে, আগেকার সময়ে মোবাইল রিচার্জ এর ব্যবসাতে আলাদা আলাদা একাধিক মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে হতো।

কিন্তু, এখন আপনাকে এতগুলো মোবাইল ব্যবহার করতে হয়না।

এখন স্মার্ট অ্যাপ্লিকেশান এসে যাওয়ার ফলে,

মোবাইল রিচার্জের জন্যে আপনাকে একটা স্মার্টফোন ও সঠিক ইন্টারনেট সংযোগের ব্যবস্থা রাখতেই হবে।

৪. কাঠামো:

আপনি যদি আনুষ্ঠানিকভাবে রিচার্জ দোকান না শুরু করতে চান,

তবে আপনি এই মোবাইল রিচার্জের বিজনেস বাড়িতে বসেই শুরু করতে পারেন। 

যদি, আপনার কাছে নিয়মিত কাস্টমার বেস থেকে, তাহলে পরবর্তীতে আপনি চাইলে একটা মোবাইল রিচার্জ শপ বানিয়ে নিতেও পারেন।

তবে, এই ধরণের ব্যবসা ঘরে বসে করার মতো একেবারেই না, কেননা ঘরে বসে বসে নিয়মিত নতুন নতুন গ্রাহক পাওয়া সম্ভব না।

৫. ডিস্ট্রিবিউটর বা ডিলার খুজুন

মোবাইল রিচার্জ বিজনেস এর ক্ষেত্রে সব থেকে জরুরি বিষয়টি হলো, ডিস্ট্রিবিউটর বা ডিলার খুঁজে বের করা।

যদি নিজের ব্যবসার জন্যে আপনি কোনো ডিলার খুঁজে পাচ্ছেননা, তাহলে এই ব্যবসা আপনি করতেই পারবেননা।

এই ব্যবসা শুরু করার জন্যে আপনাকে মোবাইল অপারেটর কোম্পানি গুলোর dealer বা distributor-দের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Dealer বা distributor-এর সাথে আলাপ আলোচনা করে নিয়ম গুলো অনুসরণ করে আপনি নিজের ব্যবসা শুরু করতে পারবেন।

আপনি শুরুতে কেবল একটি mobile operator company-র সাথে এই ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

তবে অধিক লাভ আয় করার ক্ষেত্রে এবং নিজের ব্যবসার মান বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে,

আপনাকে প্রায় প্রত্যেক কোম্পানি গুলোর রিচার্জ নিজের দোকানে উপলব্ধ রাখতে হবে।

এভাবে, আপনি প্রচুর গ্রাহকদের রিচার্জ বিক্রি করতে পারবেন এবং লাভের সংখ্যা অধিক থাকবে।

৬. মার্কেটিং ও বিজ্ঞাপন:

নতুন করে চালু করা নিজের ব্যবসাটিকে গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্যে, নিজের ব্যবসাকে প্রচার করাটা জরুরি।

সবচে আগেই আপনাকে নিজের ব্যবসার জন্যে একটি banner / poster print করাতে হবে।

দোকানের banner / poster দেখেই গ্রাহকেরা বুঝতে পারবেন যে আপনার দোকানে রিচার্জ করানোর সুবিধা রয়েছে।

এমনিতে এই ব্যবসাতে সেরকমভাবে কোনো মার্কেটিং বা বিজ্ঞাপনের প্রয়োজন হয় না। 

তবে, আপনি চাইলে আপনার দোকানের আশেপাশে রঙিন পোস্টার বা বিলবোর্ড টাঙিয়ে কাস্টমারদের নজর আকৃষ্ট করতে পারেন। 

বিশেষ করে, ক্রেতাদের উদ্দেশ্যে রিচার্জের উপর স্পেশ্যাল অফারের প্রচার করতে ভুলবেন না।

৭. ফাইন্যান্স:

যদি, আপনার মোবাইল রিচার্জ শপ খোলার জন্যে লোনের প্রয়োজন হয়,

তাহলে আপনি ঋণদাতা কিংবা ব্যাঙ্ক থেকে লোন পাওয়ার জন্যে আবেদন করতে পারেন।

উপরের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো সম্পর্কে সঠিকভাবে পরিকল্পনা নিলে আপনি সহজেই একটা মোবাইল রিচার্জের ব্যবস্থা দাঁড় করাতে পারবেন।

যেহেতু, এখনকার সময়ে অনলাইন মাধ্যমেই বেশিরভাগ ফোন রিচার্জ করা হয়ে থাকে,

সেই কারণে মোবাইল রিচার্জ পোর্টালের ব্যবসাও উদ্যোক্তা বা স্টার্টআপ গুলোর কাছে বেশি জনপ্রিয় একটা বিজনেস আইডিয়া হয়ে গেছে। 

সুতরাং, আপনার যদি এই ধরণের পোর্টাল খোলার ইচ্ছে থাকে, তাহলে জেনে নিন, কিভাবে সেটা শুরু করা সম্ভব হবে।

মোবাইল রিচার্জ পোর্টাল ও ব্যবসা শুরুর পদ্ধতি:

নতুন মোবাইল রিচার্জ পোর্টাল শুরু করার সমস্ত আইনি ও প্রযুক্তিগত ধাপগুলো সম্পর্কে নিচে জানানো হল,

✔ নিজের কোম্পানি রেজিস্টার করুন:

একটা মোবাইল রিচার্জ পোর্টাল শুরু করার আগে আপনার ব্যবসার একটা বৈধ উপস্থিতি থাকাটা একান্তভাবে প্রয়োজনীয়। 

যেকোনো ধরণের রিচার্জ পোর্টাল বা ওয়ালেট সিস্টেমের একটা প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির অধীনে রেজিস্ট্রেশন থাকে। 

তবে, স্টার্টআপ শুরুর ক্ষেত্রে আপনি নিম্নলিখিত যেকোনো ধরণের মালিকানার অধীনে কোম্পানিকে রেজিস্টার করতে পারেন।

ক. সোল প্রোপ্রাইটারশিপ ফার্ম:

কম বাজেটের পাশাপাশি আপনি যদি পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবসা শুরু করতে চান,

সেক্ষেত্রে একক মালিকানাতে নিজের ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

তবে, এখানে আপনার দায় (liability) কিন্তু সীমাহীন।

খ. পার্টনারশীপ ফার্ম:

আপনি যখন কারোর সাথে অংশীদারে বা পার্টনারশিপে ব্যবসা শুরু করেন, তখনও কিন্তু আপনার দায় বা লায়াবিলিটি অপরিসীমই থাকে।

গ. LLP বা প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি:

মোবাইল রিচার্জের ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির মালিকানাই সবথেকে বেশি সুবিধাজনক। 

কারণ, এখানে দায় সীমাবদ্ধ থাকে এবং কম রিচার্জ অনুপাতের কারণে ব্যবসা ব্যর্থ হলেও ক্ষতির পরিমাণ সকল অংশীদারদের মধ্যে সমান ভাগে ভাগ হয়ে যায়। 

যার ফলে, ব্যবসার মালিকের উপর আর্থিক ক্ষতির চাপ অনেকটাই কম পড়ে। 

এমনকি, এই ধরণের ব্যবসাতে মানুষ ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের উপরও অনেকটাই নির্ভর করে থাকে।

✔ লিগ্যাল ডকুমেন্টের ব্যবস্থা করুন:

এই ধরণের অনলাইন মোবাইল রিচার্জ পোর্টাল খোলার জন্যে আপনাকে লিগাল ডকুমেন্টেশনের ব্যবস্থা করতে হবে।

যেহেতু, এই ব্যবসা যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ, তাই এখানে আপনাকে সঠিকভাবে রিফান্ড পলিসি এবং ওয়েবসাইট টার্মসগুলো বানিয়ে নিতে হবে। 

এমনকি, আপনাকে যথেষ্ট ভালোভাবে লিগাল এগ্রিমেন্টেরও ব্যবস্থা করতে হবে। 

এছাড়াও, আপনার ওয়েবসাইট বানানোর সময় প্রি-টেমপ্লেট বা কাস্টমাইজড টেম্পলেটও ব্যবহার করতে পারেন। 

লিগ্যাল এগ্রিমেন্ট তৈরি করার জন্যে অবশ্যই আপনি একজন দক্ষ উকিলের সাহায্য নেবেন।   

✔ ডোমেইন, হোস্টিং ও ওয়েব ডেভেলপারদের বুক করুন:

অনলাইন ওয়েব রিচার্জ পোর্টাল বানানোর জন্যে আপনাকে একটা ডোমেইন নেম কিনতে হবে। 

এক্ষেত্রে, আপনি .com, .net-এর মতো জনপ্রিয় ডোমেইন বাছতে পারেন। 

এখানেও, আপনাকে নিজের ব্যবসার জন্যে একটা ট্রেডমার্কের আবেদন করতে হবে, যাতে আপনি নিজের একটি ব্র্যান্ড নেম রাখতে পারেন।

আপনি Hostinger বা GoDaddy-এর মতো হোস্টিং প্ল্যাটফর্ম থেকেই ডোমেইন নাম কিনতে পারেন।

এমনকি, বিভিন্ন থার্ড পার্টি কোম্পানি আপনাকে রেডিমেড রিচার্জ ওয়েবসাইট প্যাকেজের ব্যবস্থাও করে দিতে পারে। 

আপনি সুরক্ষিত API সিস্টেম ও রিচার্জ স্ক্রিপ্ট তৈরির জন্যে একজন পেশাদার ওয়েব ডেভেলপার বা ওয়েব ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির সাহায্য নিতে পারেন।  

✔ API ও পেমেন্ট গেটওয়ে বুক করুন:

আপনি যদি পোর্টাল বা ওয়েবসাইট তৈরী জন্যে কোনো ফ্রিল্যান্স ওয়েব ডেভেলপারের সাহায্য নেন,

তাহলে আপনাকে নিজে থেকে আপনার কোম্পানির জন্যে থার্ড পার্টির কাছ থেকে API (এপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস) সিস্টেম কিনতে হবে। 

অন্যদিকে, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির সাহায্য নিলে, সেই কোম্পানি নিজে থেকেই আপনার API ও পেমেন্ট গেটওয়ের ব্যবস্থা করে দেবে।  

✔ DSS কম্পিলিয়ান্সসহ পেমেন্ট গেটওয়ে সেটআপ করুন:

বেশিরভাগ বিখ্যাত রিচার্জ পোর্টালের নিজস্ব পেমেন্ট গেটওয়ে থাকে, যথা- পেটিএম, ফ্রীচার্জ ও অন্যান্য।

তা সত্ত্বেও, এই সমস্ত পোর্টালগুলোকে DSS (ডিসিশান সাপোর্ট সিস্টেম) কম্পিলিয়ান্স বা সম্মতির উপর নির্ভর করতে হয়।

তাই, বেশিরভাগ স্টার্টআপগুলোই তাদের পেমেন্ট গেটওয়ে আউটসোর্স করে থাকে। 

তবে, আপনার যদি নিজস্ব মোবাইল ওয়ালেট পরিষেবা থাকে, তাহলে আপনি সেটা API সিস্টেমের সাথে যুক্ত করে নিতে পারেন।

 

আমাদের শেষ কথা,,

তাহলে বন্ধুরা, মোবাইল রিচার্জ ব্যবসা কিভাবে শুরু করব ? কোন কোন বিষয়ে নজর দিতে হবে ? এই প্রত্যেক বিষয়েই আমরা জানলাম।

যদি আপনারা সঠিক ব্যবসার পরিকল্পনা (business plan) তৈরি করে সেই হিসেবে চলে থাকেন,

তাহলে অবশই এই ছোট একটি ব্যবসার থেকেও প্রচুর ইনকাম সম্ভব।

এছাড়া, ব্যবসা শুরু করার আগে market research এবং competition research করার কথা ভুলবেননা।

আমাদের আজকের আর্টিকেল আপনাদের ভালো লেগে থাকলে আর্টিকেলটি সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার অবশই করবেন।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top