রেস্টুরেন্ট ব্যবসা কিভাবে শুরু করা যাবে – (সম্পূর্ণ ধাপ)

রেস্টুরেন্ট ব্যবসা কিভাবে শুরু করা যাবে ? রেস্টুরেন্ট ব্যবসার নিয়ম গুলো কি ? ব্যবসার পরিকল্পনা ইত্যাদি, আজকের আর্টিকেলের মাধ্যমে আমরা সম্পূর্ণটা বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে জানবো। (How to start restaurant business).

এখনকার সময়ে উদ্যোগপতিদের কাছে রেস্টুরেন্টের ব্যবসা হল অন্যতম সেরা একটা ব্যবসার আইডিয়া।

এখন পৃথিবীর নানা দেশেই সার্ভিস সেক্টরের এই ব্যবসাটি যথেষ্ট উন্নতি করছে।

এমনকি, এখন অনেক জায়গাতেই স্টাইলিং, প্রাইসিং এবং ফুড প্রিপারেশনের ধরণের উপর নির্ভর করে নানারকমের রেস্তোরাঁও তৈরী হচ্ছে।

যদিও, আমরা রেস্টুরেন্ট বিজনেস বলতে ফাইন ডাইনিং, ক্যাফে, এথনিক, ক্যাজুয়াল ডাইনিং, ফাস্ট ফুড, বার্বিকিউ, টেবিলটপ কুকিং, পাবের মতো আউটলেটকেই বুঝে থাকি।

তবে, সাম্প্রতিককালে ফাইন ডাইনিং, কুইক সার্ভিস রেস্টুরেন্ট, ক্যাফে, বার, লাউঞ্জ, পাব, ও ক্লাব জাতীয় রেস্টুরেন্টের কনসেপ্টগুলোও মার্কেটে সফলভাবে ব্যবসা করছে।

যদিও, যথেষ্ট ঝুঁকি এবং দীর্ঘ পরিশ্রমের পরই রেস্টুরেন্ট ব্যবসাতে সফলতা আসে,

তবে এটি আপনার ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতাকে দারুণভাবে সমৃদ্ধও করে।

ফুড সার্ভিস ইন্ডাস্ট্রির পরিবর্তনের সাথে-সাথে রেস্তোরাঁর বিজনেস ধরে রাখাটাও বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠছে।

আর, সত্যি কথা বলতে বেশিরভাগ রেস্টুরেন্ট এর ব্যবসাই সঠিক প্ল্যানিংয়ের অভাবে বছরখানেকের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায়।

কিন্তু, এর মানে একেবারেই এই নয় যে, আপনার ফুড-সার্ভিস ব্যবসার পরিকল্পনা অনেক জটিল হতে হবে।

বরং, আপনি যতবেশি নিজের ব্যবসাকে সরলভাবে পরিচালনা করবেন, আপনার সাফল্যের সম্ভাবনা ততই বাড়বে।

সুতরাং, আমাদের আজকের এই আর্টিকেল থেকে আপনি জানতে চলেছেন, রেস্টুরেন্ট ব্যবসা কিভাবে শুরু করা যাবে ? এই বিষয়টি সম্পর্কে।

রেস্টুরেন্টের ব্যবসা কিভাবে শুরু করবেন ?

রেস্টুরেন্ট ব্যবসা
How to start restaurant business in Bengali ?

এখানে মূলত আমরা জানবো রেস্টুরেন্ট ব্যবসার নিয়ম (রেস্তোরাঁর ব্যবসা শুরুর করা সেরা ১২টি টিপস).

এখনকারের ফুড অ্যান্ড বেভারেজ ইন্ডাস্ট্রিতে রেস্টুরেন্ট ব্যবসার বর্তমান এবং ভবিষ্যতকে যথেষ্ট সম্ভাবনাময় বলে মনে করা হচ্ছে।

সুতরাং, আপনি যদি নিজের রেস্টুরেন্টের ব্যবসা শুরু করতে চান, তাহলে এটাই হল সঠিক সময়।

চলুন, তাহলে আমরা ধাপে-ধাপে জেনে নিই, যে কিভাবে একটা restaurant business শুরু করা সম্ভব। 

১. রেস্তোরাঁর কনসেপ্ট নির্ধারণ করা:

এই ব্যবসা শুরুর সবথেকে প্রথম ধাপই হল একটা নির্দিষ্ট কনসেপ্ট অনুযায়ী রেস্টুরেন্ট বানানোর পরিকল্পনা নেওয়া।

তবে, যেকোনো ধারণা নির্দিষ্ট করার আগে আপনাকে অনেকগুলো বিষয় বিবেচনা করতে হবে।

বিশেষত, রেস্টুরেন্টের কনসেপ্ট নির্বাচনের ব্যাপারে আপনার বাজেট এবং কাস্টমার পিছু নির্ধারিত মূল্য (Average Price per Customer) যথেষ্টই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।

এই APC বিষয়টি আপনার রেস্টুরেন্টে খাওয়ার জন্যে কাস্টমাররা কতটা পরিমাণ টাকা খরচ করতে পারে, তার একটা হিসেব পেতে সাহায্য করে।   

আপনি ফুড কার্ট, ক্যাফে, বেকারি, ক্যাসুয়াল বা ফাইন ডাইনিং রেস্টুরেন্টের মধ্যে যেকোনো একটা কন্সেপ্ট বেছে নিতে পারেন।

একবার, কনসেপ্ট বাছা হলে আপনাকে খাবারের মেন্যু সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করতে হবে।

এরপর, আপনার রেস্টুরেন্টের খাবারের সাথে যাতে আপনার দোকানের থিম, ডেকোরেশন, মেন্যু এবং সার্ভিস স্টাইল ম্যাচ করে, সে ব্যাপারেও ভাবতে হবে।

আর, আপনি যদি অনলাইন বা ডার্ক কিচেন খুলতে চান, তবে সেখানে থিম বা ডেকোরেশনের সেরকম ভূমিকা থাকে না।

এমনকি, ডার্ক কিচেন তৈরির খরচও তুলনামূলকভাবে কম।  

২. বিসনেস প্ল্যান করা:

রেস্টুরেন্টের কন্সেপ্ট ঠিক করার পর একটা ভালো বিসনেস পরিকল্পনা নিন।

এখানে একজন ব্যবসার মালিক হিসেবে আপনার রেস্তোরাঁর ভবিষত্যের উন্নতির সম্ভাবনাগুলোকে ফোকাস করে, ব্যবসার প্ল্যানগুলো তৈরী করে নেবেন।

এর ফলে, আপনার ব্যবসাতে বিনিয়োগের জন্যে যদি আপনি ইনভেস্টরদের সন্ধান করেন, তাহলে আপনি সহজেই আপনার বিজনেস প্ল্যান সম্পর্কে তাদেরকে বোঝাতে পারবেন।

সবার আগে, এই পর্যায়ে আপনাকে ঠিক করে নিতে হবে, যে আপনি নিজস্ব ব্যবসা শুরু করবেন নাকি ফ্রাঞ্চাইজি ব্যবসা করবেন।

নতুন ব্যানারে রেস্টুরেন্টের ব্যবসার করার তুলনায় ফ্রাঞ্চাইজি ব্যবসা শুরু করাটা তুলনামূলকভাবে সোজা ও কম খরচাসাপেক্ষ।

তবে, ফ্রাঞ্চাইজি ব্যবসাতে আপনাকে ব্যবসার প্রফিট মাদার কোম্পানির সাথে ভাগ করতেই হবে।

অন্যদিকে, এই ধরণের ব্যবসাতে অনেকটা পরিমাণ ফ্রাঞ্চাইজি ফীসও দিতে হয়।

যে কারণে, অনেকেই নিজের রেস্টুরেন্টের ব্যবসা শুরু করতেই পছন্দ করেন।

তবে, বিজনেস প্ল্যান ও আর্থিক বিশ্লেষণ আপনাকে স্বাধীন ব্যবসা বা ফ্রাঞ্চাইজি ব্যবসা বেছে নিতে অনেকটাই সাহায্য করে।   

৩. মূলধনের ব্যবস্থা করা:

পর্যাপ্ত ফান্ডের অভাবে অনেক রেস্টুরেন্ট বানানোর স্বপ্নই অধরা থেকে যায়।

তাই, যখন নিজের রেস্তোরাঁ বানানোর কথা ভাববেন, তখন অবশ্যই ফান্ডিংয়ের ব্যাপারে আগেই ভেবে নেবেন।

যে ধরণের রেস্টুরেন্ট বানানোর পরিকল্পনা নেবেন, সেটা বানানোর খরচটা সবার আগে হিসেব করে নিন।

হিসেব করার পরে, আপনি মূলত তিন রকমভাবে পুঁজির ব্যবস্থা করতে পারেন,

∙ সেল্ফ-ফান্ডিং:

আপনার ব্যাঙ্কে যদি রেস্টুরেন্ট ব্যবসার জন্যে যথেষ্ট অর্থ থাকে, তাহলে তো কোনো সমস্যাই নেই।

তবে, সেরকম অর্থের জোর না থাকলে, আপনি পার্টনারশিপেও এই ব্যবসা করতে পারেন।

কিংবা, আপনার পরিবার-পরিজনের থেকে ঋণ নিয়েও একটা রেস্তোরাঁর আয়োজন করতেই পারেন।

∙ লোন:

রেস্টুরেন্টের ব্যবসাতে অনেকেই ব্যাঙ্ক বা লোনদাতাদের থেকে লোন নেওয়া পছন্দ করেন।

এছাড়াও, উদ্যোক্তা হিসেবে আপনি সরকারের কাছ থেকেও লোনের জন্যে আবেদন করতে পারেন।

∙ ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ডিং:

বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে পুঁজি জোগাড় করা বেশ কঠিন একটা ব্যাপার।

এক্ষেত্রে, যেকোনো বিনিয়োগকারীই আপনার বিজনেস পরিকল্পনা, ব্যবসার বৃদ্ধির সম্ভাবনা এবং বিসনেস মডেলের গুরুত্বের উপর নির্ভর করেই ফান্ডিং করার কথা ভাবেন।

বেশিরভাগ সময়েই আপনার পূর্ববর্তী কাজের নমুনা দেখে, তবেই তারা বিনিয়োগে আগ্রহ দেখান, নাহলে না।

৪. রেস্টুরেন্টের খরচের হিসেব করা:

একটা রেস্টুরেন্ট চালানোর জন্যে যথেষ্ট পরিমাণ টাকা বিনিয়োগ করতেই হয়।

তাই, এই ব্যবসা শুরুর আগে অবশ্যই এর খরচের বিষয়গুলো হিসেব করে নেবেন।

মূলত, নিম্নলিখিত খাতগুলোতে আপনাকে খরচের কথা মাথায় রাখতেই হবে,

✔ খাবার খরচ:

খাবার খরচের মধ্যে মূলত পড়ে কোনো ফুড আইটেম বানানোর জন্যে ব্যবহৃত কাঁচামালের খরচটা।

সাধারণত, এই খাবারের খরচ আপনার মেন্যুতে দেওয়া মূল্যের ৩০% হওয়া উচিত।

খাবার খরচ ঠিক করার আগে আপনাকে এমন ভেন্ডারদের বাছতে হবে, যারা আপনাকে নিয়মিতভাবে কাঁচামালের সাপ্লাই দিতে পারে এবং আপনার স্টক যেন সবসময়েই ভর্তি থাকে।

✔ কর্মী নিয়োগের খরচ:

একটা রেস্টুরেন্টের ব্যবসাকে সমস্যাহীনভাবে পরিচালনা করতে গেলে নির্দিষ্ট সংখ্যক কর্মীর উপস্থিতি একান্তভাবে প্রয়োজনীয়।

সেক্ষেত্রে, এই বিষয়টি খরচের একটা গুরুত্তপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজ করবে।

✔ ওভারহেড কস্ট:  

কর্মী নিয়োগ এবং খাবারের খরচ বাদ দিলে যেসব খরচ পড়ে থাকে, সেগুলোই হল ওভারহেড কস্ট। 

>> ভাড়া:

আপনার রেস্টুরেন্টের ভাড়া খরচের উল্লেখ্যযোগ্য একটা অঙ্গ।

আপনার লোকেশনের উপর এই ভাড়ার কম-বেশি পরিমাণ নির্ভর করবে।

তবে, এই ভাড়া বাবদ খরচ কখনোই যেন আপনার লাভের ১০%-এর বেশি না হয়।

>> ইন্টেরিয়র:

আপনাকে অবশ্যই খাবারের সাথে মানানসই ইন্টেরিয়র তৈরির পিছনে একটা নূন্যতম খরচা করতেই হবে।

>> রান্নার সরঞ্জাম:

যদিও, রেস্টুরেন্টের জন্যে দামি রান্নাপত্রের সরঞ্জামের খরচা অনেকটাই বেশি হয়।

তাহলেও, আপনি যদি বেশি দাম দিয়ে ভালোমানের সরঞ্জাম কেনেন, তবে সেটা দীর্ঘদিন ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।

যার ফলে, এটা আপনার কাছে ওয়ান-টাইম ইনভেস্টমেন্ট হবে।   

✔ লাইসেন্স:

এই ব্যবসাতেও আপনাকে যথাযথ লাইসেন্সের ব্যবস্থা করতেই হবে।

আপনার রেস্টুরেন্টের ধরণের উপর লাইসেন্স ফীয়ের মাত্রা নির্ভর করে থাকে।

✔ POS:

POS বা পয়েন্ট অফ সেলস হল আধুনিক টেকনোলজির অন্যতম সুবিধার মধ্যে একটি।

এর মাধ্যমে আপনি আপনার রেস্টুরেন্টের পেমেন্ট মেথড কাস্টমারদের কাছে একদম সহজ করে দিতে পারবেন।

তবে, এই POS-এরও অনেক ভাগ আছে, আপনি আপনার রেস্টুরেন্টের চাহিদা অনুযায়ী যেকোনো পদ্ধতিকে বেছে নিতে পারেন।

✔ মার্কেটিং:

আপনি আপনার লভ্যাংশের ১-২% টাকা মার্কেটিংয়ের পিছনে খরচ করবেন।

এখানে আপনাকে অনলাইন ও অফলাইন মার্কেটিংয়ের মধ্যে ব্যালান্স করে নিজের ব্যবসার প্রচার করতে হবে।

এক্ষেত্রে, ডাইরেক্ট এবং ডিজিটাল মার্কেটিং দুইই যথেষ্ট ভালো ফল দিতে পারে।  

৫. লোকেশন নির্বাচন:

মূলত, রেস্টুরেন্টের লোকেশন নির্বাচনের বিষয়টা নির্ভর করে আপনার টার্গেট অডিয়েন্সদের উপস্থিতি কোন জায়গাতে বেশি এবং সেই এলাকাতে আপনার প্রতিযোগী রেস্টুরেন্টের ক্ষমতার মতো ব্যাপারগুলোর উপর।

এমনকি, কাস্টমাররা কিরকম ধরণের ডাইনিং অভিজ্ঞতা চাইছেন তার উপরই এলাকা নির্বাচন নির্ভর করবে।

এছাড়াও, একটা রেস্টুরেন্ট এমন জায়গাতেও করা উচিত, যেটাতে চট করে মানুষের চোখে পড়বে এবং যেখানে মানুষের যথেষ্ট যাতায়াত থাকবে।

যে অঞ্চলে আপনি রেস্টুরেন্ট খুলতে চাইছেন, সেখানের আশেপাশে কম করে তিনজন প্রতিবেশীর কাছ থেকে আপনাকে NOC বা নো অব্জেকশান সার্টিফিকেটের ব্যবস্থা করতে হবে।    

৬. কর্মী নিয়োগ:  

একটা রেস্টুরেন্টের প্রধান আকর্ষণ হল তার খাবারের স্বাদ, পরিমাণ এবং মান।

যে কারণে, আপনার রেস্টুরেন্টের সাফল্যের জন্যে অবশ্যই প্রয়োজন পেশাদার কুক বা শেফের।

এর পাশাপাশি আপনাকে ফুড প্রিপারেশন, ফুড সার্ভ করার জন্যেও যথেষ্ট দক্ষ কর্মীদেরই নিয়োগ করতে হবে।

এক্ষেত্রে, আপনার মূলত তিন ধরণের কর্মীর প্রয়োজন হবে,

কিচেন স্টাফ, সার্ভিস স্টাফ এবং ম্যানেজমেন্ট স্টাফদের (হিসাবরক্ষক, স্টোর ম্যানেজার এবং অন্যান্য)।  

৭. লাইসেন্সের ব্যবস্থা করা:

রেস্টুরেন্ট ব্যবসাতে অনেক আগে থেকেই লাইসেন্স পাওয়ার জন্যে আবেদন করলে, সেটা রেজিস্টার হয়ে আপনার হাতে আসতে অনেকটাই সময় নেবে।

নিম্নে উল্লেখিত লাইসেন্সগুলো আপনার ব্যবসার পক্ষে একান্তভাবে প্রয়োজনীয়,

∙ কর্পোরেশনের থেকে পাওয়া ট্রেড লাইসেন্স (বছর বছর রিনিউ করতে হবে).

∙ ফুড সেফটি অথোরিটির থেকে পাওয়া সার্টিফিকেশন (ফীসের পরিমাণ আপনার ব্যবসার সাইজের উপর নির্ভর করে).

∙ ট্যাক্স রেজিস্ট্রেশন।

∙ প্রফেশনাল ট্যাক্স লাইসেন্স (কর্মীদের স্যালারি দেওয়ার জন্যে).

∙ বিসনেস রেজিস্ট্রেশন (প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির জন্যে).

∙ পলিউশন কন্ট্রোল লাইসেন্স।

∙ ফায়ার সেফটি সার্টিফিকেশন।

৮. আকর্ষণীয় মেন্যু বানানো:

নিজের মেন্যুকে স্মার্টভাবে ডিসাইন করুন।

এমনসব খাবারের লিস্টিং করুন যেগুলো বানাতে কম সময় লাগে এবং একই ধরণের ইনগ্রেডিয়েন্টসের ব্যবহার থাকে।

এর ফলে, আপনার খাবার নষ্টের পরিমাণ যেমন কম হবে, তার পাশাপাশি আপনি ফাস্ট সার্ভিস দিয়ে কাস্টমারদের ইমপ্রেস করতেও পারবেন।

এমনকি, চেষ্টা করবেন রেডিমেড ইনগ্রেডিয়েন্ট ব্যবহার করার, যাতে আপনি কাস্টমারদের তাড়াতাড়ি খাবার দেওয়ার বন্দোবস্ত করতে পারেন।  

৯. ভেন্ডার/সাপ্লাইয়ারের ব্যবস্থা করা:

নিজের ভেন্ডার/সাপ্পলাইয়ারদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখুন।

একই ধরণের প্রোডাক্টের জন্যে একাধিক ভেন্ডারের ব্যবস্থা করা ভালো; এতে এমার্জেন্সিতেও আপনি আপনার প্রয়োজনীয় সাপ্লাই পেয়ে যাবেন।

আপনার রেস্টুরেন্টে সবসময়েই ২দিনের মতো কাঁচামাল স্টকের ব্যবস্থা করে রাখবেন।

এবং, প্রতিদিন ক্লোসিংয়ের সময়ে প্রতিটা কাঁচামালের মান ও সংখ্যার ব্যাপারে খোঁজ রাখুন।

সবার প্রথমে, ভেন্ডারদের TIN নম্বর যাচাই করতে ভুলবেন না।  

১০. সঠিক টেকনোলজির ব্যবস্থা করা:

ডিজিটাল যুগের কারণে, রেস্টুরেন্টের পেমেন্ট সিস্টেমে আমূল পরিবর্তন এসেছে।

তাই, আপনার কাস্টমাররা যাতে সহজে পেমেন্ট ক্লিয়ার করতে পারেন, সেই কারণে আধুনিক POS-এর ব্যবহার একান্তভাবে জরুরি।

এক্ষেত্রে, আপনি বিশেষজ্ঞদের সাথে পরামর্শ করে এই টেকনোলজির ব্যবহারকে বেছে নিতে পারেন।

১১. যথাযথ মার্কেটিং করা:

এখনকার সময়ে যেকোনো বিজনেস প্রোমোট করার সোজা উপায় হল অনলাইন মাধ্যমে একসাথে অনেক টার্গেট অডিয়েন্সদের কাছে পৌঁছানো।

ডিজিটাল মার্কেটিং করে অনেক তাড়াতাড়ি প্রচুর গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে যাওয়া সম্ভব।

এছাড়াও, আপনি আপনার লোকাল এরিয়াতে পেপার, রেডিও এবং টিভিতেও বিজ্ঞাপন দিতে পারেন।

প্রয়োজনে, আপনি ব্যানার, প্যামফ্লেট এবং পোস্টারের মাধ্যমেও প্রচারের কাজ চালাতে পারেন।

বর্তমানে কয়েকটি সেরা মার্কেটিংয়ের আইডিয়া হল,

✔ সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং / ব্র্যান্ডিং

✔ Google Business Listing

✔ অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

✔ ওয়েবসাইট বিল্ডিং ও ইত্যাদি

✔ অনলাইন রেভিউয়িং

১২. ট্রায়াল রান করা:

অফিসিয়ালি নিজের রেস্টুরেন্ট শুরু করার আগে অবশ্যই একটা সফ্ট ওপেনিং বা ট্রায়াল রানের ব্যবস্থা করুন।

এর সাহায্যে আপনি আপনার সার্ভিস, খাবারের গুণমান, মূল্য সম্পর্কে এবং অন্য কোনো ধরণের পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে কিনা, তা বুঝতে পারবেন।

এমনকি, নিজের ব্যবসা খোলার আগে, আপনার কাস্টমারদের সাথে আলোচনা করুন এবং তাদের আপনার পরিষেবা সম্পর্কে ফিডব্যাক দিতে বলুন।

এর মাধ্যমে আপনি নিম্নলিখিত ব্যাপারগুলো বুঝতে পারবেন-

∙ কাস্টমাদের চাহিদা

∙ রেস্টুরেন্টের পরিষেবার সমস্যা বোঝা

∙ ভবিষ্যতের ইনকামকে সুরক্ষিত করা

∙ মেন্যুর রিভিউ পাওয়া

 

আমাদের শেষ কথা,,

আমাদের আজকের ‘রেস্টুরেন্ট ব্যবসা কিভাবে শুরু করা যাবে?‘ নিয়ে লেখা আর্টিকেলটি এখানেই শেষ হল।

লেখাটি পছন্দ হলে অবশ্যই কমেন্টে জানাবেন।

এছাড়া, restaurant business ideas নিয়ে যদি কোনো ধরণের প্রশ্ন বা পরামর্শ থাকে, সেটাও আপনারা কমেন্ট করে জানাতে পারবেন।

শেষে, যদি আজকের আর্টিকেলটি আপনাদের কোনো কাজে লেগে থাকে, তাহলে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে ভুলবেননা।

অবশই পড়ুন: 

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top