কিভাবে লাইফস্টাইল পরিবর্তন করা যায় – (সেরা টিপস)

কিভাবে লাইফস্টাইল পরিবর্তন করা যায় ? বা কি কি করলে আপনার জীবনধারা (lifestyle) পরিবর্তন ও ভালো হতে পারে, সেই বিষয় ও টিপস (tips) গুলো আজকের আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনারা জানতে পারবেন। 

কিভাবে লাইফস্টাইল পরিবর্তন করা যায়
কিভাবে লাইফস্টাইল ভালো করা যায় ?

সবসময় সুস্থ জীবন যাপন কাটাতে চাইলে আমাদের নিজের লাইফস্টাইলে কিচু বিশেষ পরিবর্তন করা আবশ্যক হয়ে থাকে। 

বর্তমান সময়ে প্রতিটি ব্যাক্তি স্বাস্থ্যবান থাকতে পছন্দ করেন, কিন্তু ব্যস্ততাভরা জীবনে এইগুলো সহজভাবে করা সম্বভ হয়ে ওঠেনা। 

তবে, তার জন্য আমাদের লাইফস্টাইলে কিছু পরিবর্তন করা দরকার। 

আপনি আপনার জীবনে যেকোনো পরিবর্তন কখনো একদিনে আনতে পারবেননা।

এর জন্য আপনাকে প্রতিদিন অল্প অল্প করে অভ্যাস করতে হবে এবং আপনি যদি একটি সুস্থ-স্বাভাবিক জীবন পেতে চান তাহলে আপনাকে নিজের লাইফস্টাইলে পরিবর্তন আনতেই হবে। 

উদাহরণ হিসাবে, আপনার যদি সকালে দেরিতে ঘুমথেকে ওঠার অভ্যাস থাকে তাহলে আপনার অফিস যেতে বা কলেজ যেতে প্রতিদিন দেরি হবে,

এবং যার ফলে সকালে উঠে আপনি নিজের জন্য সময় একেবারেই পাবেননা ও আপনাকে তাড়াহুড়ো করে বের হতে হবে। 

কিন্তু আপনি যদি সকালে জলদি ওঠার অভ্যেস করতে পারেন, তাহলে আপনাকে আর তাড়াহুড়ো করে বের হতে হবেনা এবং আপনি নিজের জন্য কিছুটা সময় অবশই পেয়ে যাবেন। 

আজকের এই আর্টকেলটির মাধ্যমে আমি আপনাদের লাইফস্টাইল পরিবর্তন করার এই ধরণের কিছু ছোটোখাটো তবে কাজের কিছু উপায় বলতে যাচ্ছি। 

তাহলে চলুন বন্ধুরা প্রত্যেকটি উপায়ের বিষয়ে বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক। 

কিভাবে লাইফস্টাইল পরিবর্তন করা যায় ?

লাইফস্টাইল পরিবর্তন করতে হলে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন গুলো নিয়ে আনা অবশই দরকার। এবং সেগুলো হলো:-

১. সকালে জলদি উঠার অভ্যাস করুন

আপনার যদি দেরিতে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস থাকে তাহলে প্রথমেই এই অভ্যাসটি পরিবর্তন করার চেষ্টা করুন। 

আপনি একবার এই জলদি ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাসটি যদি করে ফেলতে পারেন তাহলে আপনি আপনার জীবনে অনেক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হতে পারবেন। 

কারণ আমরা সকলেই জানি সকালে জলদি ওঠার অভ্যাস আমাদের সবসময় সুস্থ থাকতে সাহায্য করে। 

এছাড়া, এই সকালে জলদি উঠার অভ্যেস, সারাদিন আমাদের মন ঝরঝরে এবং খুশি খুশি ভাব করে রাখতে সাহায্য করে।

সকালে জলদি উঠলে আমাদের দিন ভালো কাটে এবং পুরোদিনটি আমরা তরতাজা অনুভব করে থাকি। 

আর মন খুশি থাকার কারণে আপনি সারাদিন যেই কাজ করবেন সেটা ভালো এবং কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা অবশই থেকে থাকে।

দিনের সব কাজ সময় মতে হয়ে যায় এবং আমাদের হাথে ভরপুর সময় থেকে যায় এবং আমরা নিজেদের জন্য কিছু সময় পেয়ে থাকি। 

কিছুদিন ঘুম থেকে প্রায় সকাল ৫.৩০ থেকে ৬ টার মধ্যে উঠেই দেখুননা, দেখবেন আপনার জীবনে অনেক ভালো প্রবর্তন গুলো হতে শুরু হবে।

তাই রাতে দেরি করে ঘুমানোর বদলে জলদি ঘুমিয়ে পড়ুন এবং সকালে জলদি ঘুম থেকে উঠে পড়ুন। 

২. প্রচুর জলপান করার অভ্যাস করুন

আপনাকে সারাদিন প্রচুর পরিমাণে জল পান করার অভ্যাস করতে হবে।

প্রচুর পরিমাণে জলপান করে আপনি আপনার ত্বক এবং শরীরকে সবসময় হাইড্রেট রাখতে পারবেন। 

যদি আমাদের শরীর সঠিক মাত্রায় জল পেতে থাকে তাহলে আমাদের ত্বক সবসময় হাইড্রেট থাকবে এবং বিভিন্ন রোগ থেকে আমাদের দূরে রাখতে সাহায্য করবে। 

এরফলে শরীরে কোনোরকম কমজোরি আসবেনা এবং আপনি সুস্থ ও তরতাজা অনুভব করতে পারবেন।

তাই জলের তৃষ্ণা পেলে কোলড্রিংকস, আইস্ক্রিম খেয়ে তৃষ্ণা না মিটিয়ে তার বদলে জলপান করার অভ্যাস করুন। 

৩. প্রতিদিন ব্যায়াম অবশ্যই করুন

সকালে ওঠার পর আপনি আপনার মূল্যবান সময়টুকু মোবাইল ফোনে বা ল্যাপটপে না লাগিয়ে সেই সময়টুকু ব্যায়াম করতে ব্যবহার করুন। 

প্রায় অনেকেরই অভ্যাস থাকে সকালে ঘুম থেকে উঠেই ফোনের নোটিফিকেশন, মেইল ইত্যাদি চেক করার। 

তাই এই অভ্যাসটি যদি আপনারও থাকে, তাহলে আপনি যত জলদি পারেন বদলে ফেলুন।

 সকালে উঠে হাটতে বের হন, ব্যায়াম করুন, খোলা আকাশের নিচে যোগা করুন।

এরফলে আপনি পুরোদিন এক্টিভ থাকবেন এবং আপনার শরীর ও মন শক্তিশালী হবে।

নিয়মিত ব্যায়াম করলে আপনি অনেক রোগ থেকে নিজেকে দূরে রাখতে পারবেন এবং মনে উৎসাহ, প্রেরণা ও সক্রিয়তা বৃদ্ধি পাবে। 

৪. পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমানোর অভ্যাস করুন

সুস্থ শরীর এবং সুস্থ মন রাখতে হলে আপনার পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমানো জরুরি।

ঘুম কম হলে বা সঠিক পরিমাণে না হলে আমাদের অনেক সমস্যা হয়ে থাকে।

যেমন, সারাদিন ঘুম ঘুম ভাব লাগে, কোনো কাজে মন বসেনা, শরীরে ক্লান্ত ভাব মনে হবে, চোঁখের নিচে কালো পড়ে যায় ইত্যাদি অনেক রকম সমস্যা দেখা দিতে পাড়ে।  

তাই আপনাকে চেষ্টা করতে হবে প্রতিদিন যাতে  ৮ ঘন্টা ঘুমাতে পারেন।

যদি আপনি কোনো কারণবশত দেরিতে ঘুমান তাহলে ৮ ঘন্টার ঘুম পুরো করেই ওঠার চেষ্টা করবেন।

যাতে আপনার কম ঘুমের কারণে হওয়া বিভিন্ন সমস্যার সমুক্ষিন হতে না লাগে। 

৫. জাঙ্ক ফুড থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন

সুস্থ থাকার জন্য আপনাকে বাইরের তৈলাক্ত জাঙ্ক ফুড খাবারের থেকে বাঁচতে হবে। 

আপনার যদি সচরাচর বাইরের জাঙ্ক ফুড খাওয়ার অভ্যাস থাকে, তাহলে এই অভ্যাস আপনাকে পরিবর্তন করতেই হবে। 

কারণ এধরণের খাবার থেকে আমাদের গ্যাস, অম্বল, কোষ্ঠ কাঠিন্য, ওবিসিটি ইত্যাদি সমস্যা হয়ে থাকে। 

তাই আপনি জাঙ্ক ফুড খাওয়ার বদলে, নিজের খাদ্যে সবুজ শাক সব্জি, ফলমূল ও ঘরের বানানো খাবার খান। 

আর এরফলে আমাদের ইমিউনি সিষ্টেমও মজবুত হবে সাহায্য পেয়ে থাকে। 

৬. স্মার্ট ফোনের ব্যবহার কম করুন

মোবাইল ফোন যতটুক জরুরি ততটাই ব্যবহার করুন। 

এর মানে হলো অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহার করে আপনার মূল্যবান সময়গুলো নষ্ট না করা। 

আজকাল দেখা যায় কোনো দরকারি কাজ না থাকলেও প্রায় বেশিরভাগ লোকেরাই মোবাইল ফোনে ফেসবুক, ইউটিউব ব্যবহার করে বা ইন্সট্রাগ্রামে স্ক্রল করে দিনের আধা সময় এমনেই কাটিয়ে দেয়। 

এর ফলে আমাদের চোঁখের উপর এবং শরীরের উপর এর খারাপ প্রভাব পরে থাকে। 

তাই আপনারও যদি কোনো দরকার ছাড়া বার বার ফোন ব্যবহার করার অভ্যাস থাকে, তাহলে সেটা বদলে ফেলার চেষ্টা করুন এবং যতটুক জরুরি ঠিক ততোটাই মোবাইল ব্যবহার করুন। 

৭. ধূম্ৰপান এবং মদ্যপান থেকে দূরে থাকুন

আপনি যদি একটি সুস্থ জীবন কাটাতে চান তাহলে ধুম্রপান এবং মদ্যপান থেকে নিজেকে অনেক দূরে রাখতে হবে। 

কারণ আমরা সকলেই জানি মদ্যপান এবং ধুম্র পান করলে আমাদের শরীরে অনেক রকম রোগ হয়ে থাকে এবং আমাদের অসুস্থ বানিয়ে তোলে।

আর যারফলে আমরা চাইলেও একটি সুস্থ জীবন কাটাতে সক্ষম হতে পারিনা। 

এছাড়াও অতিরিক্ত মদ্যপান আমাদের ব্যাক্তিগত জীবনে এবং পেশাগত জীবনেও যথেষ্ট খারাপ প্রভাব ফেলে।

তাই একটি সুস্থ্য এবং আনন্দময় জীবন কাটাতে চাইলে, এগুলোর থেকে নিজেকে দূরে রাখাই উচিত। 

৮. প্রতিদিনের কাজের সূচি তৈরী করা

আপনি যদি নিজের লাইফস্টাইল পরিবর্তন করতে চান তাহলে প্রতিদিনের কাজের একটি সূচি বানানোর অভ্যাস করে ফেলুন। 

আপনাকে প্রতিদিন সকালে উঠেই বা আগেরদিন রাতে সারাদিনের কাজের একটি সূচি তৈরী করে নিতে হবে  এবং যে কাজগুলো বেশি গুরুত্বপূর্ণ সেগুলো প্রথমে রাখতে হবে। 

এই অভ্যাসটি  প্রতিটি সফল ব্যক্তিরাই নিজেদের ব্যাক্তিগত জীবনে এবং পেশাগত জীবনে উপয়োগ করে থাকে। 

তাই আপনার কাছে যদি সারাদিনের কাজগুলোর সূচি আগে থেকে তৈরী থাকে তাহলে আপনাকে সারাদিন কখন কোন কাজটি করতে হবে তার জন্য ভাবতে হবেনা। 

এই অভ্যাসটি আপনাকে সবসময়ে অনুশাসনে রাখতে সাহায্য করবে।

৯. ভালো ব্যক্তিদের আশে পাশে থাকুন

মনে রাখবেন, “সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস এবং অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ”.

এটা একেবারেই সত্যি যে, আপনি যেই ধরণের ব্যক্তিদের বা তাদের কথা এবং চিন্তাধারার আসে পাশে থাকবে, আপনিও ঠিক তাদের মতোই হয়ে যাবেন।

তাই, আপনি যদি এমন ব্যক্তি বা বন্ধুদের সাথে সময় কাটান যারা মদপান (drinks) করেন, ধূম্ৰপান করেন, নিজের জীবনের সফলতা বা ক্যারিয়ার নিয়ে তাদের কোনো চিন্তা নেই,

তাহলে তাদের সাথে থাকতে থাকতে একদিন আপনিও তাদের এই চিন্তাধারা গ্রহণ করে ফেলবেন, এর সম্ভাবনা অনেকটাই বেশি।

তাই, আপনি এমন বন্ধু-বান্ধব বা ব্যক্তিদের সাথে সময় কাটান যারা খুব পরিশ্রমী, যাদের বাজে অভ্যেস নেই, যারা নিজের ভবিষ্যৎ, ক্যারিয়ার, সফলতা ইত্যাদির কথা বলে থাকেন।

এতে, আপনি তাদের থেকে অনেক নতুন কিছু শিখতে পারবেন এবং আপনার চিন্তাধারা গুলো তাদের মতো হয়ে দাঁড়াবে।

আমাদের শেষ কথা,,

তাহলে বন্ধুরা, নিজের লাইফস্টাইল পরিবর্তন করার উপায় গুলো আপনাদের কেমন লাগলো ?

আশা করছি, আমাদের বলা উপায় গুলো আপনাদের কাজে অবশই আসবে।

আজকের আর্টিকেলের সাথে জড়িত কোনো ধরণের প্রশ্ন বা পরামর্শ থাকলে, নিচে কমেন্ট করে অবশই জানাবেন।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top