শরীর সুস্থ এবং ফিট রাখার ৭টি কার্যকর উপায় – (সুস্থ থাকার উপায়)

আপনি কি সুস্থ থাকার উপায় খুঁজছেন ? যদি হে, তাহলে আমাদের আজকের আর্টিকেলের মাধ্যমে শরীর সুস্থ রাখার সেরা উপায় গুলো জেনেনিতে পারবেন। আমাদের বলা শরীর ফিট রাখার উপায় গুলো আপনাদের অবশই কাজে আসবে। 

শরীর সুস্থ রাখার উপায়
How to stay fit and healthy in Bengali

আমাদের রোজদিনকার দৌড়ঝাঁপের জীবনে সবথেকে অবহেলিত থেকে যায় আমাদের শরীর ও স্বাস্থ্য। 

জীবনের প্রথমে আমরা ছুটি অর্থ রোজগারের পিছনে, আর বয়সকালে গিয়ে আমাদের সেই কষ্টের টাকা জলের মতো খরচ করি শরীর সুস্থ রাখতে। 

এই গল্পটা যেন আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কম-বেশি অংশ হয়ে উঠছে!

তাই, জীবনের কষ্টে রোজগার করা টাকা ভবিষ্যতে, শরীরের পিছনে ব্যয় করতে না চাইলে, আজকে থেকেই শুরু করুন শরীরের যত্ন নেওয়া।

আর, আমাদের আজকের এই আর্টিকেলে আমরা আলোচনা করবো, আমাদের শরীর ফিট রাখার উপায় গুলোর সম্পর্কে, যাতে আমরা আজ থেকেই একটা সুস্থ জীবনের সূচনা করতে পারি। 

রোমান কবি ভার্জিলের সেই বিখ্যাত উক্তিটি আপনার মনে আছে ? যে, আমাদের জীবনের ‘সবচেয়ে বড় সম্পদ হল স্বাস্থ্য’

সেই কারণেই, আমাদের উচিত প্রতিদিন নিজের সবথেকে বড় সম্পদ স্বাস্থ্যকে  ভালো রাখতে সাধারণ কিছু উপায় অবলম্বন করা। 

চলুন, তাহলে জেনে নেওয়া যাক, শরীর ভালো রাখার সেরা উপায়গুলোর ব্যাপারে

শরীর সুস্থ রাখার সেরা ৭টি উপায় – (সুস্থ থাকার উপায়)

ফিট ও সুস্থ থাকা আমাদের জীবনের একটা গুরুত্বপূর্ণ দ্বায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। 

দৈনন্দিন ব্যস্ত সময়সূচীর কারণে, আমরা আমাদের স্বাস্থ্যকে অবহেলা করে থাকলেও, এমন কিছু গ্রাউন্ড রুলস রয়েছে; যেগুলো মেনে চললেই আমরা একটা স্বাস্থ্যকর ও ফিট জীবন যাপন করতে পারি। 

এই দরকারি উপায়গুলো হল –

১. নিয়মিত মেডিক্যাল চেক-আপ করুন:

আমরা যতই নিয়মানুবর্তী জীবন যাপন করি না কেন, আমাদের শরীরে কখন কি রোগ বাসা বাঁধছে, তা অনেক সময় আমরা টেরই পাই না। 

তাই, আমাদের শরীর ও মন দুইয়ের ক্ষেত্রেই বছরে একবার কিংবা দুবার সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা মেডিক্যাল চেক-আপ করানো কিন্তু একান্তই জরুরি।

এই চেক-আপ আমাদের শরীরের পক্ষে কিন্তু মোটেই খারাপ নয়। 

আর, প্রয়োজন পড়লে অবশ্যই আপনার জেনারেল ফিজিসিয়ানের সাথে পরামর্শ করতে ভুলবেন না। 

২. পুষ্টিকর খাবার খান:

আমাদের শরীরের কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে গেলে পরিমিত খাবার বা ব্যালান্সড ডায়েট মেনে চলাটা কিন্তু একান্তই গুরুত্বপূর্ণ। 

কারণ, খাদ্যই হল আমাদের শক্তির প্রধান উৎস।

তাই, সবসময় খেয়াল রাখবেন, শরীরকে ফিট ও সুস্থ রাখার জন্যে আপনার খাদ্যে যথাযথ কার্বোহাইড্রেট, প্রোটেইন, ফ্যাট থাকার পাশাপাশি যেন সঠিক পরিমাণে ভিটামিন ও মিনারেলসও থাকে। 

যেখানে, কার্বোহাইড্রেটের মতো খাদ্য আপনার শরীরকে শক্তি যোগায়; সেখানে, মিনারেলস ও ভিটামিন আপনার শরীরে থাকা ঘাটতিগুলোকে পূরণ করে শরীরকে ফিট ও সবল করে তোলে। 

এছাড়াও, চেষ্টা করবেন, সারাদিনে ২-৩ ঘন্টা অন্তর অন্তর অল্প পরিমাণে পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার।

সারাদিনে, ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ বা ডিনার- কোনোটাই স্কিপ একেবারেই করবেন না।

এতে, আপনার শরীরের এনার্জির অভাব তো হবেই; উল্টে আপনি দুর্বল হয়ে পড়ার পাশাপাশি অসুস্থও হয়ে যেতে পারেন। 

আপনার রোজকার খাদ্য তালিকায় যেকোনো ধরণের টাটকা ফল, সবজি, ডিম, মাংস, ডাল বা প্রয়োজনীয় প্রোটিন ও ফাইবার জাতীয় খাদ্য রাখার চেষ্টা করবেন। 

আর দেখবেন যে, সঠিক খাদ্যতালিকা মেনে চললে আপনার শরীর ও মন দুইই তরতাজা থাকছে। 

এছাড়াও, অ্যালকোহল, রাস্তার খাবার ও জাঙ্ক ফুড একেবারেই কম খাওয়ার চেষ্টা করুন, কারণ এগুলো স্বাস্থ্যের পক্ষে সবথেকে বেশি ক্ষতিকর।

৩. নিয়মিত শরীরচর্চা করুন:

শরীরের পাশাপাশি মানসিক শান্তিও আমাদের জীবনে সুস্থ থাকার জন্যে একটা অতি প্রয়োজনীয় চাবিকাঠি। 

শরীর যতই সুস্থ থাকুক, মন যদি ঠিক না থাকে, তাহলে আমাদের কোনো কাজেই মন বসে না, আর জীবনটাও কেমন বেরঙিন হয়ে পড়ে। 

তাই, নিজেকে সুস্থ রাখতে চাইলে অবশ্যই নিয়মিত শরীরচর্চাকে রোজকার জীবনের একটি অঙ্গ বানিয়ে নিন।

কারণ, মেডিকেল সাইন্স বলে যে, নিয়মিত শরীরচর্চা আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি শরীরকেও মজবুত করে তোলে। 

দৈনন্দিন যোগাভ্যাস আপনার মেজাজকে ভালো ও শরীরকে চাঙ্গা রাখতে পারে। 

যদি, আপনি নিজেকে রোজ এক্সারসাইজের সাথে যুক্ত রাখেন, তাহলে আপনার শারীরিক সুস্থতা যেমন বজায় থাকবে, তেমনই আপনার হজমশক্তিও ভালো থাকবে।

যার ফলে, আপনি দীর্ঘদিন নিজের সুস্থতা বজায় রাখতে পারেন। 

আপনি কি মাঝে মাঝেই বিষণ্ণ বোধ করছেন? কিংবা, চাকরির ব্যাপারে উদ্বীগ্ন হয়ে আছেন? 

তবে, অবশ্যই শরীরচর্চা, মেডিটেশন, জিম বা যেকোনো ফিজিক্যাল আক্টিভিটির সাথে নিজেকে যুক্ত করে নিন। 

দেখবেন, এতে আপনার ঘুমও ভালো হচ্ছে আর দুশ্চিন্তাও অনেকটা নিয়ন্ত্রণে থাকছে।

৪. নিয়মিত ৭-৮ ঘন্টা ঘুমোন:

সারা জীবনভর সুস্থ থাকতে পর্যাপ্ত ঘুম কিন্তু খুবই আবশ্যক। 

মগজ যদি ঠিকমতো রেস্ট না পায়, তাহলেই কিন্তু বিপদ! 

সুস্থ থাকতে চাইলে দিনে ৭-৮ ঘন্টা নিশ্চিন্তে ঘুম দিন।

এতে, আপনার মন-মস্তিষ্ক-শরীর সবটাই ভালো থাকবে। 

কারণ, যথাযথ ঘুম আমাদের শরীরকে নিরাময়, মেরামত ও পুনরুজ্জীবিত করতে ব্যাপকভাবে সাহায্য করে।

আর, অন্যদিকে অনিদ্রা আপনার জীবনে ডেকে আনতে পারে দুশ্চিন্তা, হতাশা, মাথাব্যথা, হজমের গোলমাল, অপুষ্টি, দুর্বল হার্ট, ব্লাড সুগার, প্রেসার ও নানান ধরণের জটিল শারীরিক সমস্যা।      

৫. প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করুন:

প্রতিটা মানুষের কম করেও সারাদিনে ২-৩ লিটার জল পান করা উচিত।

আমাদের শরীরের যেহেতু ৬০%-ই জল; সেই কারণেই, আমাদের নিজেদের শরীরকে হাইড্রেটেড ও রক্তকে সঠিক মাত্রায় তরল রাখতে আর হার্ট ও কিডনির ফাঙ্কশনগুলোকে ঠিক রাখতে সঠিকভাবে জল খাওয়া উচিত। 

জল ঠিকমতো না খেলে আমাদের শরীর থেকে জলের মাত্রা তো কমে যাবেই, উল্টে এইভাবে দিনের-পর-দিন চলতে থাকলে, হার্ট  ও কিডনির সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

আর, জল আমাদের শরীর থেকে সমস্ত বর্জ্য পদার্থগুলো মল-মূত্রের আকারে বের করে দেয়। 

তাই, জলের অভাবে যদি শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ ঠিকমতো না বেরোয়, তাহলে রোগব্যাধির হওয়ার সম্ভাবনা খুবই বেড়ে যেতে পারে। 

৬. স্ট্রেস থেকে দূরে থাকুন:

জীবনে স্ট্রেস হল আমাদের সবথেকে বড় শত্রু, আর আমরা চাইলেও এটাকে এড়িয়ে যেতে পারি না। 

আর, এর থেকেই আমাদের মনে ও শরীরে হতাশা, হার্ট এট্যাকের মতো ক্ষতিকারক রোগের সৃষ্টি হয়। 

তবে, সম্পূর্ণভাবে স্ট্রেসকে এড়ানো না গেলেও, আপনি এর থেকে নিজের মনকে সরিয়ে রাখতে পারেন।

যেমন – শরীরচর্চা করে, বই পড়ে, সিনেমা দেখে, গান শুনে বা গেয়ে, ছবি এঁকে ও আরও নানান পদ্ধতি ব্যবহার করে আপনি স্ট্রেসকে দূরে রাখতে পারেন।

কিংবা, ভালো মানুষজনের সাথে মিশুন, যাদের সাথে কথা বললে আপনার মন ভালোলাগে তাদের সাথে বেশি করে কথা বলুন। 

এছাড়াও, আপনি আপনার পছন্দমতো রাস্তা অবলম্বন করে দুশ্চিন্তা থেকে নিজেকে দূরে রাখতে পারেন। 

যারা গঠনমূলক আলোচনা করতে ভালোবাসে ও আপনার কৌতুহলকে পূরণ করে, সেইসব মানুষের সাথে মিশলে কিন্তু মন নিজে থেকেই ভালো হয়ে যায়।

৭. ইতিবাচক চিন্তাভাবনা করুন:

নেতিবাচক চিন্তাই হল আমাদের জীবনের অন্যতম প্রধান সমস্যা।

অন্যের ব্যাপারে জাজ করতে আমরা যে পরিমাণ শক্তি খরচ করি, সেই পরিমাণ শক্তি আমরা নিজের ভালোর ব্যাপারে চিন্তা করলে, আমাদের শরীর-মনটা আপসেই ভালো থাকবে। 

নিজের চিন্তভাবনাকে সবসময় ইতিবাচক দিকে নিয়ে যেতে হবে।

অর্থাৎ, এমন কিছু কাজ করতে হবে, যেটা করলে আমরা মনের দিক থেকে ভালো থাকবো। 

উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, আপনি যদি ভালো গিটার বাজান, তাহলে গিটার বাজানোটা আপনার প্রতিদিনকার জীবনের একটা অঙ্গ করে নিন।

এতে, আপনি যে কাজটি করে মনে সবথেকে বেশি শান্তি পাচ্ছেন, সেটা আপনার মনে একটা পসিটিভ মনোভাব তৈরী করবে। 

যেটা আপনার শরীর ও মন দুইয়ের পক্ষেই ভালো। 

পরিশেষে:

জীবনে সুস্থ বা ফিট থাকার ব্যাপারটা কিন্তু পুরোটা একটা অভ্যাসের মতো- যা হঠাৎ করে কখনোই তৈরী হয় না।

তাই, একটা সুস্থ জীবন পেতে হলে আপনাকে নিয়মিতভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণতা রেখে জীবনটাকে পরিচালনা করতে হবে। 

আপনি যদি প্রতিদিন স্বাস্থ্যকর ও সঠিক খাবার খাওয়ার পাশাপাশি রুটিন অনুসারে শরীরচর্চা করতে থাকেন, তবে আপনি অবশ্যই একটা সুস্থ শরীরের অধিকারী হবেন।

আর, আপনি যদি উপরের আলোচিত সুস্থ থাকার উপায় গুলো সঠিকভাবে মেনে চলেন, তাহলে আপনি দীর্ঘদিন সুস্থভাবে জীবন যাপন করতে পারবেন বলে আশা রাখছি।

আমাদের আজকের ‘শরীর সুস্থ রাখার উপায়’ নিয়ে লেখা আর্টিকেলটি এখানেই শেষ হল। 

লেখাটি পছন্দ হলে অবশ্যই তা কমেন্টের মাধ্যমে জানাবেন। 

 

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Scroll to Top