বিশ্বের / পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট দেশ কোনটি – (১০টি ছোট দেশের তালিকা)

পৃথিবীর / বিশ্বের সবচেয়ে ছোট দেশ কোনটি ? যখন এই প্রশ্নটি করা হচ্ছে, তখন প্রায় অনেক ছোট দেশ গুলো রয়েছে যেগুলোর বিষয়ে আপনার জানা দরকার।

বিশ্বের সবচেয়ে ছোট দেশ কোনটি
সবচেয়ে কম জনসংখ্যা থাকা ছোট দেশ গুলোর তালিকা।

বিশ্বের ছোট দেশগুলোকে নির্ণয় করা হয়ে থাকে, তাদের সবচেয়ে কম জনসংখ্যা বা সবথেকে কম মোট ভূমির পরিমাণের উপর নির্ভর করে। 

তবে, সেই হিসেবে দেখতে গেলে, কম জনসংখ্যার ভিত্তিতে নির্ণয় করা দেশগুলোর ক্রমিক সংখ্যা, মোট সর্বনিম্ন ভূমির দিক থেকে নির্ণয় করা দেশগুলোর ক্রমিক সংখ্যা আলাদা হওয়াটাই স্বাভাবিক। 

কোনো দেশের মোট আয়তন কতটা, সেটা তার এলাকা (জমি ও জল উভয়ই) ও তার সীমানা ক্ষেত্রের উপর নির্ভর করে। 

এই আয়তন মাপা হয় মাইল বর্গ বা বর্গ কিলোমিটারের অনুসারে।

আর, এই আয়তন আসলেই হল কোনো দেশের ভৌগোলিক সীমানার মোট ক্ষেত্রফলের একটি সংখ্যাসূচক মান।

মোট এলাকা এবং জনসংখ্যার আকার প্রায়শই প্রত্যক্ষভাবে সংযুক্ত থাকে। 

তবে, যত বড় এলাকা হবে তত বেশি সংখ্যক মানুষ বাস করতে পারবে, এটাই স্বাভাবিক ব্যাপার। 

কিন্তু, জমির ধরন, জলবায়ু (পাহাড় বনাম সমভূমি, জলাভূমি, মরুভূমি, ইত্যাদি), উন্নয়ন স্তর (শহর, মফঃস্বল, গ্রাম) আর জমির কার্যকারিতার (চাষ, বন, উত্পাদন, আবাসিক, ইত্যাদি) উপরও দেশের জনসংখ্যার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভরশীল। 

অতএব, কোনো দেশের আয়তন বিশাল হলেও, সেখানকার জনসংখ্যা ব্যাপক হারে থাকবে, তা একেবারেই নয়। 

কোনো জায়গার ভৌগোলিকভাবে অনুকূল পরিবেশও, খুব কম আয়তনের একটি দেশেও চিত্তাকর্ষক সংখ্যক নাগরিকের বাসস্থান তৈরী করতে পারে।

আজকে আমাদের এই আর্টিকেলে আমরা আলোচনা করবো, পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট দেশ কোনটি, বা বিশ্বের সবচেয়ে ছোট দেশের সেরা তালিকা সম্পর্কে। 

পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট দেশ কোনটি / কোন গুলো ?

চলুন, তাহলে জানা যাক, কম আয়তনের দিক থেকে সবথেকে ছোট দেশ গুলো কি কি ?

১. ভ্যাটিকান সিটি:

  • মোট আয়তন- ০.৪৯ km2
  • জনসংখ্যা- ৭৯৯ জন

ভ্যাটিকান সিটি হল একটি স্বাধীন নগর রাষ্ট্র।

এর অবস্থান হল রোমের কেন্দ্রস্থলে। 

এটি সম্পূর্ণভাবে পোপ (রোমের বিশপ) দ্বারা শাসিত একটি রাষ্ট্র।

এই দেশের সমস্ত শাসনভার রোমান ক্যাথলিক চার্চের হাতে রয়েছে। 

আর. ভ্যাটিকান সিটিই হল ইউরোপের ক্ষুদ্রতম রাষ্ট্র।

১৯২৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পোপ পিয়াস একাদশ ও মুসোলিনির মধ্যে লেটারান চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে, ভ্যাটিকান সিটিকে ইতালির অংশ থেকে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

২. মোনাকো:

  • মোট আয়তন- ২.০২ km2
  • জনসংখ্যা- ৩৯,৭৪৭ জন

মোনাকো একটি সার্বভৌম শহর-রাজ্য, যার পাঁচটি চতুর্থাংশ ও দশটি ওয়ার্ড রয়েছে।

এই দেশ পশ্চিম ইউরোপের ফ্রেঞ্চ রিভেরায় অবস্থিত। 

এটি “বিলিওনিয়ারদের খেলার মাঠ” হিসাবেও বহুল পরিচিত।

সম্ভবত, এটি বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ দেশগুলোর মধ্যে একটি।

এখানে, প্রতি ৭৩ জন বাসিন্দার জন্যে একজন করে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। 

মোনাকোতে দারিদ্র্যের হার একেবারেই শূন্য।

এখানে যারা কাজ করেন, তারা এখানে থাকেন না। 

প্রায় ৩০,০০০-এরও বেশি ফরাসি ও ৫,৮০০ ইতালীয় নাগরিক প্রতিদিন কাজের জন্যে এখানে যাতায়াত করেন। 

এই দেশে জুয়া খেলা আইনত নিষিদ্ধ। বিশ্বের দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ হলেও এখানে মাথা পিছু আয় সবথেকে বেশি। 

৩. জিব্রাল্টার:

  • মোট আয়তন- ৬.৭ km2
  • জনসংখ্যা- ৩৩,৬৭৩ জন

জিব্রাল্টার হল একটি ব্রিটিশ ওভারসিজ অঞ্চল।

অর্থাৎ, এটি যুক্তরাজ্যের এখতিয়ারের অধীনে হলেও আসলে এটি এর সরাসরি অংশ নয়। 

এখানকার রাষ্ট্রীয় ভাষা ইংরেজি হলেও, এখানকার অনেক মানুষই স্প্যানিশ ও স্থানীয় ভাষা, লানিটো-তে কথা বলে।

লানিটো-তে ভূমধ্যসাগরীয় শব্দের মিশ্রণ আছে।

এই অঞ্চল স্পেনের টাইমজোন অনুযায়ী চলে।

এখানে সরকারী মুদ্রা পাউন্ড প্রচলিত রয়েছে।

আর, যুক্তরাজ্যের নোট ও কয়েনও এখানে ব্যবহার করা যায়। 

জিব্রাল্টারের নিজস্ব রাজনৈতিক ব্যবস্থা আছে।

নিজের ভূখণ্ডের মধ্যে অনেক সিদ্ধান্ত এই দেশ স্বাধীভাবে নিয়ে থাকলেও, প্রতিরক্ষা ও বৈদেশিক বিষয়গুলো লন্ডনে যুক্তরাজ্য সরকারের উপর নির্ভর করে। 

৪. টোকেলাউ:

  • মোট আয়তন- ১০ km2 
  • জনসংখ্যা- ১৩৮৮ জন 

নিউজিল্যান্ডের একটি অ-স্ব-শাসিত অঞ্চল হল এই টোকেলাউ দ্বীপ। 

এই অঞ্চলটি তিনটি প্রবাল প্রবালপ্রাচীর, যথাক্রমে- আতাফু, নুকুনোনু ও ফাকাওফো নিয়ে গঠিত। 

এই দেশের প্রায় ৯৪% মানুষ জনসংখ্যার টোকেলাউয়ান ভাষায় কথা বলে।

বিশ্বের চতুর্থ ক্ষুদ্রতম জনসংখ্যা এই দেশে রয়েছে। 

এখানকার মানুষেরা নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরের বিভিন্ন অংশে বাস করে।

যেকোনো সার্বভৌম দেশের মধ্যে এটি হল ক্ষুদ্রতম অর্থনীতির অধিকারী।

তবে, টোকেলাউ হল নবায়নযোগ্য শক্তির ক্ষেত্রে পৃথিবীর মধ্যে শীর্ষস্থানীয়। 

কারণ, এটি হল বিশ্বের প্রথম ১০০% সৌরশক্তি চালিত দেশ।

৫. নাউরু:

  • মোট আয়তন- ২০.৮ km2
  • জনসংখ্যা- ১০,৯৪৭ জন

নাউরু আনুষ্ঠানিকভাবে, নাউরু প্রজাতন্ত্র ও অতীতে প্লিজান্ট আইল্যান্ড নামে পরিচিত। 

এটি একটি দ্বীপ দেশ ও ওশেনিয়ার মাইক্রোস্টে হিসেবে পরিচিত। 

এই দেশের অর্থনীতি অতীতে এর বিশাল ফসফেট খনির উপর নির্ভর করলেও, বর্তমানে তাদের অর্থনীতি মাছ চাষ ও অন্যান্য জীবিকা নির্ভর হয়ে পড়েছে।

এই দ্বীপের বেশিরভাগ বাসিন্দাই হল আদিবাসী নাউরুয়ান। 

আর, নাউরুয়ান হল এখানকার জাতীয় ভাষা।

৬. সেইন্ট বার্থেলেমি:

  • মোট আয়তন- ২১ km2
  • জনসংখ্যা- ৯৯৩২ জন 

সেন্ট-বার্থেলেমি হল একটি ফরাসি-ভাষী ক্যারিবিয়ান দ্বীপ। 

এই এলাকার অত্যাশ্চর্য সমুদ্র সৈকত, ডিজাইনার বুটিক, বিলাসবহুল ইয়ট ও সুস্বাদু রেস্তোরাঁ, একে একটি আকর্ষণীয় ভ্রমণের স্থানে পরিণত করেছে।

এই কারণেই এই দ্বীপ রাষ্ট্রটি ধনী ও বিখ্যাত মানুষদের মধ্যে অতিমাত্রায় জনপ্রিয়। 

গুস্তাভিয়া হল এই রাষ্ট্রের রাজধানী। 

এই দেশে ফরাসি ও ক্রেওল ভাষাভাষি মানুষের মিশ্রণ রয়েছে।

এই দ্বীপটিতে পাহাড়, উপত্যকা ও পর্বতমালার একটি চমৎকার নৈসর্গিক সৌন্দর্য রয়েছে। 

এখানের উপকূলরেখায় অসংখ্য সমুদ্র সৈকতও আছে। 

৭. টুভালু:

  • মোট আয়তন- ২৫.৯ km2
  • জনসংখ্যা- ১২০৫৬ জন

প্রশান্ত মহাসাগরের ওশেনিয়ার পলিনেশিয়ান উপ-অঞ্চলের একটি দ্বীপ দেশ হল এই টুভাল। 

এর দ্বীপগুলো মূলত হাওয়াই ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যস্থলে অবস্থিত। 

এই দেশটি প্রায় উত্তর-পশ্চিম থেকে দক্ষিণ-পূর্বে, শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ছোট নয়টি প্রবাল দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত। 

টুভালুয়ানরা মূলত পলিনেশিয়ান আর তাদের ভাষা, টুভালুয়ানের সাথে সামোয়ানের যথেষ্ট মিল রয়েছে।

৮. সিন্ট মার্টিন: 

  • মোট আয়তন- ৩৪ km2
  • জনসংখ্যা- ৪৩,৭৬০ জন

নেদারল্যান্ডস রাজ্যের অংশ হিসেবে সিন্ট মার্টেন হল ক্যারিবিয়ান দ্বীপের দক্ষিণ অংশে অবস্থিত একটি দেশ। 

যেটিকে সেন্ট মার্টিনের (একটি ফরাসী বিদেশী সমষ্টি) থেকে পৃথক করা হয়েছে। 

এই দ্বীপরাষ্ট্রের রাজধানী হল ফিলিপসবার্গ।

এর সুন্দরতম প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে এর উপহ্রদ, ও সৈকত অতিমাত্রায় প্রসংশার দাবী রাখে। 

সেন্ট মার্টিনের ডাচ এলাকা তার উৎসবমুখর রাত্রিযাপন, সৈকত, গহনা, দেশীয় রাম-ভিত্তিক পেয়ারাবেরি লিকার দিয়ে তৈরি পানীয় ও ক্যাসিনোর জন্য ব্যাপকভাবে পরিচিত।

৯. সেইন্ট মার্টেন:

  • মোট আয়তন- ৯৫.৮৩ km2
  • জনসংখ্যা- ৩৯,৮৬০ জন

সেন্ট মার্টিন হল ক্যারিবিয়ান সাগরের লিওয়ার্ড দ্বীপপুঞ্জের অংশবিশেষ। 

এই সমগ্র দ্বীপটি দুটি আলাদা দেশ নিয়ে গঠিত। 

যার উত্তরভাগটি হল  ফরাসি অংশ, যেটা সেন্ট-মার্টিন নামে পরিচিত। 

আর, দক্ষিণের ডাচ অংশটি সিন্ট মার্টেনের নাম পরিচিত। 

ফরাসি ভাগের এই দ্বীপটি ব্যস্ত রিসর্ট সৈকত এবং নির্জন উপসাগর নিয়ে তৈরী। 

এই দেশটি তার ফিউশন রন্ধনশৈলী, উজ্জ্বল নাইটলাইফ এবং গয়না ও লিকারের বিক্রির শুল্কমুক্ত দোকানের জন্য বিখ্যাত।

সেইন্ট মার্টিনের এই ফরাসি দিকটি এর উন্মুক্ত সৈকত, জামাকাপড়, কেনাকাটা ও ফরাসি, ভারতীয় ক্যারিবিয়ান খাবারের জন্য ব্যাপক জনপ্রিয়।

১০. ম্যাকাউ:

  • মোট আয়তন- ১২৮ km2
  • জনসংখ্যা- ৬৬৫,৩১১ জন

চীনের হংকং থেকে পার্ল নদীর বদ্বীপ জুড়ে চীনের দক্ষিণ উপকূলের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হল এই ম্যাকাও। 

১৯৯৯ সাল পর্যন্ত ম্যাকাও পর্তুগিজদের অংশ ছিল।

এখানে পর্তুগিজ ও চৈনিক সাংস্কৃতিক প্রভাবের মিশ্রণ সরাসরি লক্ষ্য করা যায়। 

কোটাই স্ট্রিপে, এই দেশের বিশাল ক্যাসিনো ও মল রয়েছে। 

যা তাইপা ও কোলোন দ্বীপের সাথে মিলিত হয়েছে। 

এখানকার গ্যাম্বলিং ও ট্যুরিজম ইন্ডাস্ট্রি ম্যাকাওকে “এশিয়ার লাস ভেগাস” হিসেবে বিখ্যাত করে তুলেছে।

 

আমাদের শেষ কথা,,

আমাদের আজকের, “বিশ্বের সবচেয়ে ছোট দেশ কোনটি” বা বিশ্বের ক্ষুদ্রতম দেশ নিয়ে লেখা আর্টিকেলটি এখানেই শেষ হল। 

লেখাটি পছন্দ হলে অবশ্যই তা সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করবেন। 

এছাড়া, আর্টিকেলের সাথে জড়িত কোনো ধরণের প্রশ্ন বা পরামর্শ থাকলে, সেটা কমেন্ট করে অবশই জানাবেন।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top