বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি কে ? ১০ ধনী ব্যক্তিদের তালিকা – (২০২২)

বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি কে / পৃথিবীর সবথেকে ধনী ব্যক্তি কে ? (Top 10 richest people in the world) আজকের আর্টিকেলের মাধ্যমে আমরা এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে চলেছি।

বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি কে
সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের তালিকা – (২০২২).

বিশ্ব অর্থনীতি, রাজনীতি ও জনকল্যাণে কোটিপতি অর্থাৎ বিলিয়নেয়াররা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে থাকেন। 

বিলিয়নেয়ারদের মধ্যে অনেকেই প্রযুক্তি জায়ান্টের প্রতিষ্ঠাতা, তাদের অর্জিত সম্পদের অনেকাংশ তাঁরা তাদের শুরু করা কোম্পানিগুলিতে বিনিয়োগ করেছেন। 

এমনকি, তাঁদের মধ্যে অনেকেই আবার আরও অনেক একচেটিয়া ক্লাবের অন্তর্গত ও আরও বেশি ক্ষমতার অধিকারী হয়ে থাকেন।

তবে, তাঁরা এখনও তাঁদের নিজস্ব সম্পদের বিনিময়ে ধার নিতে পারেন, যাতে তাঁদের স্টক বিক্রি করতে না হয়। 

যাতে, তাঁদের আয়ের প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত মূলধন লাভের উপর চাপানো বিশাল পরিমাণের করগুলোকে মুলতুবি করা যায়। 

মাল্টি-বিলিওনিয়াররা রিপোর্ট করা আয় অফসেট করতে ট্যাক্স কমানোর জন্যে নানা ধরণের পদ্ধতি অবলম্বন করে থাকেন। 

তাঁদের প্রকাশ্যে লেনদেন করা স্টকগুলোতে তাঁদের প্রচুর সম্পদ বিনিয়োগ করার ভিত্তিতে সবথেকে ধনী ব্যক্তিদের নেট মূল্য মার্কেটের মূল্যায়নের সাথে ওঠানামা করতে পারে। 

সেই মার্কেট ওঠানামার ভিত্তিতে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি কে সেই সম্পর্কে আলোচনা করবো।

আমরা কম-বেশি সবাই জানি, বর্তমানে সারা পৃথির্বীর সেরা বিলিয়নিয়ারদের মধ্যে প্রথম হলেন ইলন মাস্ক। 

তিনি সাম্প্রতিককালের সবথেকে ধনী ও প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হয়েছেন। 

আজকে আমাদের এই আর্টিকেলে আমরা আলোচনা করবো, বিশ্বের সেরা ১০ জন সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি সম্পর্কে –

বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ১০ জন ব্যক্তি কে ? তাদের তালিকা:

চলুন, তাহলে জেনে নেওয়া যাক, পৃথিবীর সবথেকে ধনী ব্যক্তির মধ্যে শীর্ষে থাকা সেরা ১০ জনের নাম।

১. ইলন মাস্ক:

  • বয়স: ৫০
  • বাসস্থান: টেক্সাস, আমেরিকা
  • সহ- প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও: টেসলা
  • মোট মূল্য: ২৬৯৭০ কোটি/ $২৬৯.৭ বিলিয়ন
  • টেসলা মালিকানার অংশীদারিত্ব: ১৭% ($১৮৭ বিলিয়ন)
  • অন্যান্য সম্পদ: স্পেস এক্সপ্লোরেশন টেকনোলজি ($৪০.৩ বিলিয়ন ব্যক্তিগত সম্পদ), $৫.৭ বিলিয়ন নগদ

ইলন মাস্ক হলেন টেসলা মোটর্সের (২০০৩) সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও কর্ণধার। 

২৬৯.৭ বিলিয়ন সম্পদের অধিকারী মাস্ক হলেন বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি। 

তিনি ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হয়েছেন তাঁর ইলেকট্রনিক পেমেন্ট ফার্ম পে-প্যালের (১৯৯৯) ​​সহ প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে। 

এছাড়াও, তিনি মহাকাশযান কোম্পানি স্পেসএক্স০-এরও (২০০২) প্রতিষ্ঠা করেন। 

আর, মাস্ক ইলেকট্রিক-গাড়ি নির্মাণকারী কোম্পানি টেসলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। 

একজন দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্মগ্রহণকারী আমেরিকান উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী হিসেবে তাঁর প্রথম স্টার্ট-আপ কোম্পানি ছিল Zip2। 

পরবর্তীতে, তিনি এই কোম্পানিটি যদিও বিক্রি করে দেন। 

তাঁর কোম্পানিগুলো তিনি অনেক আগেই প্রতিষ্ঠা করেছেন; ও তাঁর নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোও বর্তমানে ব্যাপকভাবে সফল হয়েছে। 

এই কারণেই তিনি বহু উদ্যোক্তাদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে গেছেন। 

মাস্ক আসলেই একজন দূরদর্শী ও উদ্ভাবনী ব্যক্তি; যিনি নানান বাধা পেরিয়েও তাঁর লক্ষ্য অর্জনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ থেকে ইতিবাচকভাবে বিশ্বকে প্রভাবিত করছেন। 

সম্প্রতি, তিনি ৪৪ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম টুইটার কিনে নিয়েছেন।

২. জেফ বেজোস:

  • বয়স: ৫৮ 
  • বাসস্থান: ওয়াশিংটন, আমেরিকা
  • প্রতিষ্ঠাতা ও এক্সেকিউটিভ চেয়ার: আমাজন
  • মোট মূল্য: ১৮৮০০ কোটি/  $১৮৮ বিলিয়ন
  • আমাজনের মালিকানার অংশীদারিত্ব: ১০% ($১৬৩ বিলিয়ন)
  • অন্যান্য সম্পদ: ব্লু অরিজিন ($৯.১৫ বিলিয়ন প্রাইভেট কোম্পানির শেয়ার), দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট ($২৫০ মিলিয়ন ব্যক্তিগত সম্পদ), ও $১৫.৬ বিলিয়ন নগদ অর্থ

 Jeff Bezos, হলেন একজন আমেরিকান উদ্যোক্তা; যিনি বিখ্যাত Amazon.com; অনলাইন খুচরা বিক্রয়ের ওয়েবসাইটের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। 

জেফরি প্রেস্টন বেজোস পৃথিবীব্যাপী ই-কমার্সের বৃদ্ধিতে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। 

এছাড়াও, তিনি দ্য ওয়াশিংটন পোস্টেরও মালিক। 

আর, মহাকাশ অনুসন্ধান সংস্থা ব্লু অরিজিনের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবেও তিনি যথেষ্ট জনপ্রিয়। 

তাঁর মতে, অ্যামাজন (Amazon) মূলত তিনটি প্রধান স্তম্ভের উপর নির্ভর করে তৈরী হয়েছে,

সেগুলো হল– চরিত্রের শক্তি, একক মনোনিবেশ ও প্রত্যেক মানুষকে সেরা ও সর্বোচ্চ ভোক্তা অভিজ্ঞতা প্রদান করার আশ্বাস।

২০১৯ সালের একটি সম্মেলনে, বেজোস উদ্যোক্তাদের ঝুঁকি নিতে আগ্রহী হতে ও গ্রাহক-কেন্দ্রিক আর ব্যর্থ হতে ইচ্ছুক হতে উত্সাহিত হওয়ার কথা বলেছেন। 

তিনি মাত্র ১০ জন কর্মচারী নিয়ে ১৯৯৫ সালে অ্যামাজন এ-কমার্স কোম্পানির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। 

২০২০ সালের করোনা মহামারীর সময়ে অনলাইন কেনাকাটার বর্ধিত চাহিদার জন্যে আমাজানের শেয়ারের দাম ৭৬% বেড়ে গিয়েছিল। 

২০২১ সালের জুলাই মাসে তিনি এই ই-কমার্স জায়ান্টের সিইও পদ থেকে ছেড়ে এর নির্বাহী চেয়ার পদ গ্রহণ করেন। 

তাঁর সফল ব্যবসায়িক উদ্যোগ তাঁকে বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তিতে রূপান্তরিত করেছে। 

২০২১ সালের তাঁর ব্লু অরিজিনের ত্রু ফ্লাইট বিশ্বে প্রথম সফলভাবে ৬৬ মাইলের উচ্চতায় সফর করতে সফল হয়।

৩. বার্নার্ড আর্নল্ট:

  • বয়স: ৭৩ 
  • বাসস্থান: প্যারিস, ফ্রান্স 
  • প্রতিষ্ঠাতা ও এক্সেকিউটিভ চেয়ার: LVMH
  • মোট মূল্য: ১৬৭০০ কোটি/ $১৬৭ বিলিয়ন 
  • ক্রিশ্চিয়ান ডিওর মালিকানার অংশ:৯৭.৫% ($১২০ বিলিয়ন)
  • অন্যান্য সম্পদ: মোয়েলিস অ্যান্ড কোম্পানি ইক্যুইটি ($২২.৬ বিলিয়ন পাবলিক অ্যাসেট), হার্মেস ইকুইটি (অপ্রকাশিত শেয়ার), ও নগদ $১০.৭ বিলিয়ন

বার্নার্ড আর্নল্ট একজন ফরাসি উদ্যোগপতি, যিনি বিশ্ববিখ্যাত ফরাসি হোল্ডিং মাল্টিন্যাশনাল কর্পোরেশন এবং বিলাস দ্রব্যে বিশেষায়িত মোয়ে হেনেসি লুই ভিটন (LVMH Moët Hennessy Louis Vuitton) কোম্পানি সমষ্টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও কর্ণধার। 

নিঃসন্দেহে এই কোম্পানি বিশ্বের বৃহত্তম বিলাস-পণ্য কোম্পানি নাম পরিচিত। 

LVMH-এর অধীনে লুই ভিটন ও ক্রিশ্চিয়ান ডিওর সহ প্রায় ৭৫টি বিলাসবহুল ব্র্যান্ড রয়েছে। 

২০২১ সালে LVMH বিখ্যাত আমেরিকান জুয়েলার্স টিফানি অ্যান্ড কোংকে ১৫.৮ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে অধিগ্রহণ করে।

যেটি এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বিলাসবহুল ব্র্যান্ড অধিগ্রহণ বলে দাবি করা হয়। 

প্রথমে তাঁর বাবার কনস্ট্রাকশন সংস্থা ফেরেট-সাভিনেলের জন্য কাজ করার সময় তিনি প্রথম তাঁর ব্যবসায়িক দক্ষতার মাধ্যমে কোম্পানির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। 

আর্নল্ট, ফেরেট-সাভিনেলকে ফেরিনেল ইনকর্পোরেটেড নামে একটি রিয়েল এস্টেট কোম্পানিতে রূপান্তর করেন। 

বর্তমানে, এলভিএমএইচ থেকে তাঁর অতিরিক্ত ৬.২% ও ক্রিশ্চিয়ান ডিওর SE-তে ৪১.৩% অংশীদারিত্ব থেকে তাঁর সবথেকে বেশি পরিমাণে সম্পদ আসে।

৪. বিল গেটস:

  • বয়স: ৬৬
  • বাসস্থান: ওয়াশিংটন, আমেরিকা
  • প্রতিষ্ঠাতা: মাইক্রোসফ্ট কর্প  
  • মোট মূল্য: ১২৭০০ কোটি/ $১২৭ বিলিয়ন 
  • মাইক্রোসফ্টের মালিকানার অংশীদারিত্ব: ১.৩% ($৩১.৯ বিলিয়ন)
  • অন্যান্য সম্পদ: ক্যাসকেড ইনভেস্টমেন্ট এলএলসি ($৫৯.২ বিলিয়ন পাবলিক অ্যাসেট), $৫৬.৯ নগদ অর্থ

যখন আলোচনা করা হচ্ছে, বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি কে ? প্রশ্নটি নিয়ে, তখন Bill Gates এর নাম যেকোনো তালিকাতে থাকাটা কিন্তু স্বাভাবিক। 

১৯৭৫ সালে হার্ভার্ড উনিভার্সিটিতে পড়াকালীন বিল গেটস ও তাঁর বন্ধু পল অ্যালেন আসল মাইক্রোকম্পিউটারগুলোর জন্য নতুন সফ্টওয়্যার তৈরি করার কাজ শুরু করেন। 

এই সফটওয়্যার তৈরির সাফল্যে গেটস তাঁর ইউনিভার্সিটি ছেড়ে অ্যালেনের সাথে মাইক্রোসফ্ট-এর প্রতিষ্ঠা করেন। 

বিশ্বের বৃহত্তম সফ্টওয়্যার কোম্পানি মাইক্রোসফ্ট-এর ব্যক্তিগত কম্পিউটার লাইন আছে, তার নিজস্ব এক্সচেঞ্জ সার্ভারের মাধ্যমে ইমেল পরিষেবা সরবরাহ করে, মাইক্রোসফ্ট প্রেসের মাধ্যমে বই প্রকাশ করে এবং ভিডিও গেম সিস্টেম ও তার সংশ্লিষ্ট পেরিফেরাল ডিভাইসও বিক্রি করে। 

তাঁর নিজস্ব জনকল্যাণমূলক দুটি সংস্থা রয়েছে, যথাক্রমে উইলিয়াম এইচ. গেটস ফাউন্ডেশন ও গেটস লার্নিং ফাউন্ডেশন। 

পরে, এই দুটো একসাথে যুক্ত হয়ে বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনে পরিণত হয়েছে। 

বর্তমানে যেখানে গেটস ও তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ সহ-সভাপতিত্ব করেন।

৫. গৌতম আদানি:

  • বয়স: ৫৯
  • বাসস্থান: গুরগাঁও, ভারত  
  • প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান: আদানি গ্রুপ  
  • মোট মূল্য: ১২৩৭০ কোটি/ $১২৩.৭ বিলিয়ন 
  • আদানি এন্টারপ্রাইজ, পাওয়ার ও  ট্রান্সমিশন ওনারশিপ স্টেক: প্রতিটিতে ৭৫% ($৫১.৩ বিলিয়ন)
  • অন্যান্য সম্পদ: আদানি গ্রীন এনার্জির ৬৫% ($২৩.৪ বিলিয়ন পাবলিক অ্যাসেট), আদানি গ্রীন এনার্জির ৬১% ($২৪.৩ বিলিয়ন পাবলিক অ্যাসেট), আদানি টোটাল গ্যাসের ৩৭% ($১২.২ বিলিয়ন পাবলিক অ্যাসেট)

গৌতম আদানি হলেন আদানি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান। 

এই আদানি গ্রুপ হল একটি সমষ্টিগত ব্যবসায়ী গ্রুপ, ভারতে যার ছয়টি পাবলিকলি ট্রেড কোম্পানি রয়েছে। 

এই বছরে এই গ্রুপের প্রতিটি ব্যবসার শেয়ার ১৯% থেকে ১৯৫% পর্যন্ত বেড়েছে।

কারণ, আদানি গ্রুপ এখন পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি, বিমানবন্দর, মিডিয়া ও আরও অনেক কিছুতে একচেটিয়া দখল নেওয়ার জন্যে চেষ্টা চালাচ্ছে ৷ 

২০২২ সালের এপ্রিলের শুরুতে, ইউনাইটেড আরব এমিরেট ক্রাউন প্রিন্সের ভাই দ্বারা পরিচালিত আবুধাবির ইন্টারন্যাশনাল হোল্ডিং কোং, থেকে আদানির তিনটি গ্রীন পাওয়ার-কেন্দ্রিক ফার্মে $২ বিলিয়ন বিনিয়োগ করা হয়েছে। 

২০২০ সালে কোভিড-১৯ মহামারীর সময় মুম্বাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৭৪% শেয়ার কেনার মতো বড় অধিগ্রহণের মাধ্যমে তিনি তাঁর ব্যবসাকে ব্যাপকভাবে প্রসারিত করেন।

এছাড়াও, তিনি ভারতে সফটব্যাঙ্কের নবায়নযোগ্য শক্তি ইউনিটের $৩.৫ বিলিয়নে ক্রয় করেন।

বর্তমানে, আদানি নবায়নযোগ্য শক্তি প্রকল্পগুলোতে $৭০ বিলিয়ন পর্যন্ত বিনিয়োগের লক্ষ্য নিয়ে বিশ্বের বৃহত্তম সবুজ শক্তি উৎপাদনকারী হতে চান৷ 

৬. ল্যারি পেজ:

  • বয়স: ৪৮
  • বাসস্থান: ক্যালিফোর্নিয়া, আমেরিকা
  • প্রতিষ্ঠাতা ও বোর্ড মেম্বার: আলফাবেট (গুগল) 
  • মোট মূল্য: ১২১০০ কোটি/ ১২১ বিলিয়ন ডলার
  • আলফাবেট মালিকানার অংশীদারিত্ব: ৬% (মোট $১০৯ বিলিয়ন)
  • অন্যান্য সম্পদ: $১৪.৯ বিলিয়ন নগদ

লরেন্স এডওয়ার্ড পেজ হলেন একজন আমেরিকান কম্পিউটার বিজ্ঞানী এবং উদ্যোক্তা। 

যিনি তাঁর বন্ধু সের্গেই ব্রিনের সাথে অনলাইন সার্চ ইঞ্জিন গুগল তৈরি করেন। 

এই গুগল সারা বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় সাইটগুলির মধ্যে একটি। 

পেজ এবং ব্রিন গুগল চালু করতে এক মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছিলেন। 

১৯৯৫ সালে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়, পেজ ও সের্গেই ইন্টারনেট ডেটা নিষ্কাশনের উন্নতির ধারণা নিয়ে এসেছিলেন। 

এঁরা একটি নতুন সার্চ ইঞ্জিন প্রযুক্তি তৈরি করেছিলেন। 

যেহেতু এর “ব্যাকিং লিঙ্কগুলি” বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা ছিল, তাই তাঁরা এটার নাম “ব্যাকরাব” দিয়েছিলেন। 

এরপর, পেজ ও ব্রিন ১৯৯৮ সালে গুগল তৈরী করেন ও পেজ ২০০১ সাল পর্যন্ত কোম্পানির সিইও হিসাবে কাজ করেন। 

এরপরও ২০১১ ও ২০১৯ সালে তিনি এই পদে ফেরেন।

২০০৫ সালে এন্ড্রোয়েড, ইংক. অধিগ্রহণ করার পর, গুগল ২০০৮ সালে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন অপারেটিং সিস্টেম লঞ্চ করে।

তারপরে, ২০১৫ সালে গুগল পুনর্গঠিত হলে, এটি ল্যারি পেজ দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হোল্ডিং কোম্পানি আলফাবেটের সহযোগী হয়ে ওঠে।

৭. ওয়ারেন বাফেট:

  • বয়স: ৯১
  • বাসস্থান: নেব্রাস্কা, আমেরিকা
  • সিইও: বার্কশায়ার হ্যাথওয়ে 
  • মোট মূল্য: ১১৮০০ কোটি/ $১১৮ বিলিয়ন
  • বার্কশায়ার হ্যাথওয়ের মালিকানার অংশীদারিত্ব: ১৬% ($১২৬ বিলিয়ন)
  • অন্যান্য সম্পদ: $১.১৫ বিলিয়ন নগদ অর্থ

ব্যাপকভাবে, “ওরাকল অফ ওমাহা” নামে পরিচিত, ওয়ারেন বাফেট হলেন একজন বাই-অ্যান্ড-হোল্ড বিনিয়োগকারী। 

যিনি অবমূল্যায়িত কোম্পানি গুলোতে বিনিয়োগ করে করে তার ভাগ্য গড়ে তোলেন। 

তিনি বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত জীবন্ত অর্থ বিনিয়োগকারী হিসেবে পরিচিত। 

১৯৪৪ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সে তিনি প্রথম তাঁর ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করেন।

তিনি ছেলেবেলায় কাগজ বিক্রি করা থেকে উপার্জন করা শুরু করেন। 

বাফেট প্রথম ১৯৬২ সালে বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে নামের একটি টেক্সটাইল কোম্পানিতে শেয়ার কিনেছিলেন।

আর, ১৯৬৫ সালের মধ্যে তিনি এই কোম্পানির সংখ্যাগরিষ্ঠ শেয়ারহোল্ডার হয়ে ওঠেন। 

এরপর, ১৯৬৭ সালে তিনি কোম্পানিটিকে বীমা ও অন্যান্য বিনিয়োগে কাজে লাগান। 

বর্তমানে, বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে হল $৭০৫ বিলিয়ন ডলারের মার্কেট ক্যাপ কোম্পানি।

যেখানে ১লা এপ্রিল, ২০২২ তারিখ পর্যন্ত স্টকের একক শেয়ার (ক্লাস A শেয়ার) লেনদেন হয়েছিল $৫২৭৭৬০-এরও বেশি অর্থে।

২০০৬ থেকে ২০২০-এর মধ্যে, তিনি $৪১ বিলিয়ন ডলার জনকল্যাণে দান করেছেন। 

২০১০ সালে বিল গেটসের সাথে একত্রিত হয়ে বাফেট গিভিং প্লেজ চালু করেছিলেন৷

৮. স্টিভ ব্যালমার:

  • বয়স: ৬৬
  • বাসস্থান: ওয়াশিংটন, আমেরিকা 
  • মালিক: লস এঞ্জেলেস ক্লিপার্স   
  • মোট মূল্য: ১০৫০০ কোটি/ $১০৫ বিলিয়ন
  • মাইক্রোসফ্টের মালিকানার অংশীদারিত্ব: ৪% (মোট $৯৮.৮ বিলিয়ন) 
  • অন্যান্য সম্পদ: লস এঞ্জেলেস ক্লিপারস ($৩.১৬ বিলিয়ন ব্যক্তিগত সম্পদ), $৫.৯৩ বিলিয়ন নগদ অর্থ

স্টিভেন অ্যান্টনি বলমার হলেন একজন আমেরিকান ব্যবসায়ী এবং বিনিয়োগকারী। 

২০১১ সালে বালমার মাইক্রোসফটের $৮.৫ বিলিয়নের বিনিমিয়ে স্কাইপ কেনার ব্যাপারে তদারকি করেছিলেন।

তিনি ২০০০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত মাইক্রোসফটের সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। 

এরপর, ২০১৪ সালে মাইক্রোসফ্টের সিইও পদ থেকে ইস্তফা নেওয়ার পরপরই, তিনি লস অ্যাঞ্জেলেস ক্লিপারস বাস্কেটবল দলকে $২ বিলিয়নে কিনে নেন। 

ব্যালমার ন্যাশনাল বাস্কেটবল অ্যাসোসিয়েশনের লস অ্যাঞ্জেলেস ক্লিপার্সের বর্তমান মালিক।

তিনি ম্যানেজমেন্ট শৈলীর পাশাপাশি একটি আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব গঠনের কথা বলেন। 

তাঁর মতে, নেতৃত্ব কায়েম করার জন্য অত্যধিক ব্যক্তিগতকরণের প্রয়োজন ও নতুন অবস্থার সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতা থাকা জরুরি। 

৯. সের্গেই ব্রিন:

  • বয়স: ৪৮
  • বাসস্থান: ক্যালিফর্নিয়া, আমেরিকা 
  • সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও বোর্ড মেম্বার: আলফাবেট (গুগল) 
  • মোট মূল্য: ১০৪০০ কোটি/ $১০৪ বিলিয়ন
  • আলফাবেটের মালিকানার অংশীদারিত্ব: ৬% (মোট $১০৪.৪ বিলিয়ন) 
  • অন্যান্য সম্পদ: $১৫ বিলিয়ন নগদ অর্থ

সের্গেই ব্রিন হলেন একজন আমেরিকান কম্পিউটার বিজ্ঞানী ও উদ্যোক্তা। 

তিনি ল্যারি পেজের সাথে ইন্টারনেটের অন্যতম সফল সাইট অর্থাৎ অনলাইন সার্চ ইঞ্জিন গুগল তৈরি করেছেন।

গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ব্রিন এলটিএ নামে একটি গোপন এয়ারশিপ কোম্পানি তৈরি করছেন।

এই এয়ারশিপ জলবায়ু-বান্ধব হবে ও বিশ্বব্যাপী মানবিক সহায়তা প্রদান করবে। 

২০১৯ সালের বেশিরভাগ সময়ই তিনি X, আলফাবেটের গবেষণা ল্যাবরেটরিতে কাটিয়েছেন। 

এই ল্যাবে Waymo সেল্ফ-ড্রাইভিং কার ও গুগল গ্লাস স্মার্ট গ্লাসের মতো উদ্ভাবনী প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করা হয়ে থাকে। 

দ্য মাইকেল জে. ফক্স ফাউন্ডেশনের সঙ্গে অংশীদারিত্ব করে ব্রিন পারকিনসন্স রোগ নিয়ে গবেষণায় মিলিয়ন ডলার দান করেছেন।

১০. ল্যারি এলিসন:

  • বয়স: ৭৭
  • বাসস্থান: হাওয়াই, আমেরিকা 
  • সহ-প্রতিষ্ঠাতা,চেয়ার ও সিটিও: ওরাকল  
  • মোট মূল্য: ৯১০০ কোটি/ $৯১ বিলিয়ন
  • ওরাকলের মালিকানার অংশীদারিত্ব: ৪০% ($৬৮.৪ বিলিয়ন)
  • অন্যান্য সম্পদ: টেসলা ইকুইটি ($১৬.৩ বিলিয়ন পাবলিক অ্যাসেট), $১৭.৬ বিলিয়ন নগদ অর্থ ও রিয়েল এস্টেট

১৯৭৭ সালে এলিসন ওয়াটস ও মাইনারের সাথে ল্যারি এলিসন সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ল্যাবরেটরিজ (SDL) প্রতিষ্ঠা করেন। 

এর দুই বছর পর, SDL কোম্পানি ওরাকল লঞ্চ করে। 

যেটা স্ট্রাকচার্ড কোয়েরি ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করার জন্য প্রথম বাণিজ্যিক রিলেশনাল ডাটাবেস প্রোগ্রাম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। 

এই প্রোগ্রামটি এতটাই জনপ্রিয় হয় যে, ১৯৮২ সালে SDL কোম্পানি তার নাম পরিবর্তন করে ওরাকল সিস্টেমস কর্পোরেশন রাখে।

ওরাকল হল বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সফ্টওয়্যার কোম্পানি; যা বিভিন্ন ধরণের ক্লাউড কম্পিউটিং প্রোগ্রামের সাথে-সাথে জাভা ও লিনাক্স কোড এবং ওরাকল এক্সডাটা কম্পিউটিং প্ল্যাটফর্ম প্রদান করে।

২০১৪ সাল পর্যন্ত এলিসন ওরাকলের সিইও পদে ছিলেন। 

এরপর, ২০১৮-তে তিনি টেসলার বোর্ডে যোগদান করেন।

আমাদের শেষ কথা,,

তাহলে বন্ধুরা, পৃথিবীর সবথেকে ধনী ব্যক্তি কে বা কারা নিয়ে লিখা আমাদের আজকের আর্টিকেলটি এখানেই শেষ হল। 

লেখাটি পছন্দ হলে অবশ্যই সেটা সোশ্যাল মিডিয়া (social media) পেজ গুলোতে শেয়ার করবেন। 

এছাড়া, আর্টিকেলের সাথে জড়িত কোনো ধরণের প্রশ্ন বা পরামর্শ থাকলে, সেটা নিচে কমেন্টের মাধ্যমে অবশই জানিয়ে দিবেন।

(উপরে উল্লেখিত সমস্ত পরিসংখ্যান পরিবর্তন-সাপেক্ষ)

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top