10 হাজার টাকায় ব্যবসা শুরু করার জন্য কিছু সেরা ব্যবসার আইডিয়া

আজকের আর্টিকেলের মাধ্যমে আমরা ১০ হাজার টাকায় ব্যবসা শুরু করার কিছু বিজনেস আইডিয়া গুলোর বিষয়ে জেনেনিব। (Business ideas under 10 thousand rupees in Bangla). দশ হাজার টাকা বিনোয়োগ করে বিজনেস, কম খরচে ব্যবসা, ছোট ব্যবসার আইডিয়া

১০ হাজার টাকায় ব্যবসা শুরু
15 Businesses that can be started under 10 thousand

বর্তমান সময়ে সবাই নিজের কিছু ব্যবসা শুরু করতে চায় কিন্তু তবে পুঁজি বেশি লাগার ফলে পিছিয়ে আসেন।

ব্যবসা শুরু করতে যেমন টাকার প্রয়োজন হয়ে থাকে ঠিক ভালো ভাবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠীত করার জন্য ব্যবসা করার নিয়ম ও কৌশল জানাটাও অনেকটা জরুরি। 

আপনার ব্যবসার বিষয়ে থাকা আইডিয়াই আপনাকে উন্নতি করতে সাহায্য করবে।

অনেকেই রয়েছেন যারা চাকরির পাশাপাশি একটি ছোট বা পার্ট-টাইম ব্যবসা করার কথা ভেবে থাকেন।

তবে, পুঁজির (investment) ভয়ে ব্যবসা করার সাহস তারা করতে পারেননা।

যদি আপনিও কেবল অধিক পুঁজি খাটানোর ভয়ে ব্যবসার থেকে দূরে থাকতে চাইছেন, তাহলে চিন্তা করতে হবে।

নিচে আমি আপনাদের সেরা ১৫ টি ব্যবসার ধারণা (business ideas) গুলো বলবো যেগুলো অনেক কম টাকা বিনিয়োগ করে শুরু করা যাবে।

প্রায় ১০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে ব্যবসা গুলো আপনারা শুরু করতে পারবেন।

তাহলে চলুন, দশ হাজার টাকা দিয়ে কি কি ব্যবসা করা যাবে সেটা আমরা এবার সরাসরি জেনেনেই।

১০ হাজার টাকায় ব্যবসা শুরু করুন – সেরা ১৫ টি ব্যবসার আইডিয়া

বন্ধুরা, এমনিতে কম টাকায় ব্যবসা শুরু করার ক্ষেত্রে আমাদের কাছে প্রচুর ব্যবসার আইডিয়া গুলো থেকে থাকে।

তবে, ভালো পার্ট-ব্যবসা (part-time business) হিসেবে আমাদের কাছে কিছুটাই লাভজনক ব্যবসার ধারণা গুলো থাকছে।

কেননা, বেশিরভাগ ব্যবসার ক্ষেত্রে আমাদের প্রচুর সময় দিতে হয় এবং ব্যবসার পাশাপাশি চাকরি করাটা সম্ভব না।

তবে, নিচে আমি ১০ হাজার এর মধ্যে যেগুলো ব্যবসার আইডিয়া বলবো সেগুলো পার্ট-টাইম হিসেবে বা চাকরির পাশাপাশি করা যাবে।

১. মোমবাতি বানানোর ব্যবসা

কম পুঁজিতে ব্যবসা শুরু করার মধ্যে মোমবাতি বানানোর ব্যবসা একটি স্থায়ী ব্যবসা হিসাবে বলা যেতে পারে।

মার্কেটে দিনে দিনে মোমবাতির চাহিদা বেড়েই চলেছে কারণ ঘরে লাইট যাওয়া থেকে শুরু করে জন্মদিন, উৎসব পর্বে  বিভিন্ন ধরণের ডেকোরেটিভ মোমবাতি দিয়ে ঘরটি  সাজানো হয়। 

আপনারা  চাইলে ইন্টারনেট থেকে ডেকোরেটিভ মোমবাতি বানানো শিখতে পারেন বা কোনো candle making class থেকে কোর্স করতে পারেন।

মোমবাতি বানানোর জন্য ব্যবহার হওয়া কাঁচা সামগ্রীর মধ্যে মোম, সাঁচ, সূগন্ধ তেল, ধাগা, বিভিন্ন রং, ইত্যাদির প্রয়োজন হয়ে থাকে যেগুলো অনেক কম টাকা বিনিয়োগ করে কিনা যেতে পারে। 

কাঁচা সামগ্রী ছাড়াও মোমবাতির বানানোর জন্য থার্মোমিটার, মোম গলানোর জন্য পাত্র এবং চূলা (oven), হাতুড়ি ইত্যাদি জিনিস দরকার হয়ে থাকে।

এই ব্যবসা আপনারা ১০ হাজার টাকা দিয়ে শুরু করতে পারেন এবং ভালো করে করতে পারলে এর থেকে প্রচুর মূনাফা আয় করা সম্ভব। 

২. ধূপকাঠি  বানানোর ব্যবসা

ধূপকাঠি  আমরা ঘরে পূজো দেওয়ার ক্ষেত্রে এবং মন্দিরেও প্রতিদিন জ্বালিয়ে থাকি।

ধূপকাঠি ছাড়া পূজো যেনো অসম্পূর্ণ হয়ে থাকে এবং তাই এর চাহিদা বাজারে কোনোদিন কমেনি এবং কমবেনা।

আপনারা যদি ভাবছেন কম টাকার ভেতরে কোনো লাভবান ব্যবসা করতে তাহলে ধূপকাঠি বানানোর ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

এর জন্য বেশি পুঁজির দরকার হয়না এবং ঘর থেকেই আপনারা এই ব্যবসা শুরু করতে পারবেন।

এই ব্যবসার জন্য প্রয়োজন হওয়া সামগ্রী গুলো হলো চন্দন কয়লাগুড়ি, কাঠগুড়ি, রং, সুগন্ধ তেল, বাঁশের কাঠি ইত্যাদি।

এই সামগ্রী গুলোর ব্যবহার করে হাতে ধূপকাঠি বানিয়ে দোকানে দোকানে বিক্রি করতে পারবেন এবং এই ব্যবসা থেকে ভালো টাকা আয় করতে পারবেন।

কিছু অধিক টাকা বিনিয়োগ করতে পারলে আপনারা একটি ধূপকাঠি তৈরি করা মেশিন কিনে মেশিনের মাধ্যমে ধূপকাঠি তৈরি করতে পারবেন।

৩. ব্রেড বানানোর ব্যবসা

ব্রেড এমন একটি মন পছন্দ খাবার যা সকালের জল খাবার হিসাবে বেশিরভাগ লোকের ঘরেই কম বেশি ব্যবহার হয়ে থাকে।

এই ব্যবসা শুরু করার জন্য বিশেষ জায়গা বা দোকানের প্রয়োজন হয়না।

এই ব্যবসা আপনারা ঘর থেকেই শুরু করতে পারেন এবং এর জন্য অনেক বেশী সময়ের দরকার হয় না এবং অনেক কম সময়ের মধ্যে ব্রেড তৈরি করা যায়।

তবে এর জন্য অবশ্যই ব্রেড বানানোর প্রক্রিয়া জানা থাকতে হবে।

এরপর তৈরি করা ব্রেড দোকানে দোকানে বা বেকারীতে বিক্রি করে ভালো টাকা আয় করতে পারেন।

ব্রেড তৈরি করার জন্য দরকারি সামগ্রী গুলো যেমন আটা বা ময়দা, লবন, চিনি, জল, বেকিং পাউডার বা ইস্ট, মিল্ক পাউডার, ওভেন ইত্যাদি বস্তুর প্রয়োজন হয়ে থাকে।

এই ব্যবসা কম খরচে ভালো মুনাফা দিয়ে থাকে ।

৪. অনলাইন মার্কেটপ্লেসে জিনিস বিক্রি করা

Flipkart, Snapdeal, Amazon ইত্যাদি অনেক মার্কেটপ্লেস আছে যেখানে নিজের product একজন বিক্রেতা হিসাবে গ্রাহককে বিক্রি করা যায়।

আজকাল প্রত্যেকটি মানুষই অনলাইন জিনিস কিনতে বেশি পছন্দ করেন তাই এই সুযোগ ব্যবহার করে আপনারা মাসে ভালো টাকা আয় করতে পারেন।

এই ব্যবসাটি শুরু করার জন্য, আপনি যেই মার্কেটপ্লেসে আপনার product বিক্রি করতে চান সেখানে নিজের একটি সেলার একাউন্ট বানাতে হবে।

এছাড়া, নিজের GST নম্বর বের করে নিতে হবে এবং সেটাও দিয়ে দিতে হবে।

এরপর  product এর উপর নিজের মার্জিন রেখে ওয়েবসাইটে প্রোডাক্ট এর তালিকা দিতে হয়, প্রডাক্ট এর ছবি আপলোড করতে হবে এবং প্রোডাক্ট এর সাথে জড়িত কিছু তথ্য দিয়ে দিতে হবে।

অর্ডার আসলে ডেলিভারি বয়ের (delivery boy) সাহায্যে গ্রাহককে product ডেলিভারি বা কুরিয়ার করতে হয়।

প্রথমে কম টাকার জিনিস উঠিয়ে আপনারা এই ব্যবসা শুরু করতে পারেন এবং ভালো টাকা মুনাফা করতে পারেন।

ধীরে ধীরে মুনাফা বাড়তে থাকলে পরে গিয়ে অধিক টাকা ব্যবসাতে বিনিয়োগ অবশই করতে পারবেন।

৫. মোবাইল ফোন রিচার্চ এর ব্যবসা

আজকাল মোবাইল ফোনের রিচার্চ যেনো সকলের জীবনে একটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কেননা, আজকাল মোবাইল ফোন সকলের কাছেই থাকে আর তাই আমাদের প্রত্যেককেই নিজেদের মোবাইলে বিভিন্ন ধরণের প্যাক রিচার্জ অবশই করতে হয়।

এক্ষেত্রে, আপনি একটি ছোট দোকান নিয়ে গ্রাহকের মোবাইল ফোন রিচার্জ করার ব্যবসা শুরু করতে পারবেন।

এই ব্যবসাটি শুরু করার জন্য বিশেষ কিছুর প্রয়োজন হয়না, শুধু ছোটখাটো জায়গা একটি, ছোট দোকান এবং মোবাইল কোম্পানির এজেন্সী নিয়ে রাখতে হবে যাতে গ্রাহকের মোবাইল রিচার্জ কমিশন আয় করা যেতে পারে। 

মোবাইল রিচার্জ করার সাথে সাথে নতুন সিম কার্ড (SIM card) এর যোগান ধরার কাজ অবশই করতে পারবেন।

 তাই যদি ১০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে একটি ভালো ব্যবসা শুরু করার কথা ভাবছেন, তাহলে এই ব্যবসা করে দেখতে পারেন। 

৬. ফলের রস বিক্রি করার ব্যবসা

আমরা সকলেই জানি ফলের রস আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারি আর তাই ফলের রসের চাহিদা সব সময় থেকেই রয়েছে এবং আগেও থাকবে।

আপনারা যদি ভাবছেন কম টাকা বিনিয়োগ করে কি ব্যবসা করা যায় তাহলে কোনো একটি ভালো জায়গায় ফলের রসের স্টল খুলতে পারেন।

এই ব্যবসা শুরু করার জন্য যেগুলো জিনিসের দরকার সেগুলো হলো, রস করার জন্য জুস মেশিন, গ্লাস, রাখার পাত্র এবং বিভিন্ন রকমের ফলমূল।

এবং সবথেকে জরুরি বিষয়টি হলো ফলের কোয়ালিটি ভালো হতে হবে তখনি গ্রাহক আপনার দোকানের জুস খেতে পছন্দ করবে।

আপনারা পাইকারি থেকে ফল কিনতে পারেন তাহলে ভালো টাকা বাঁচাতে পারবেন।

ফলের রসের চাহিদা সব সময়েই থাকবে তাই দশ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে এই ব্যবসা করতে পারেন।

৭. চক বানানোর ব্যবসা

কম টাকা বিনিয়োগ করে চক বানানোর ব্যবসা শুরু করার কথা ভেবে দেখতে পারেন।

এই ব্যবসা শুরু করার জন্য অনেক বেশি টাকার প্রয়োজন হয়না।

প্রত্যেকটি ছোটো বড়ো স্কুল, কলেজে চকের প্রয়োজন হয়ে থাকে।

চকের চাহিদা স্কুল কলেজে বরারব ভাবেই রয়েছে এবং থাকবেই।

চকের ব্যবসা শুরু করার জন্য অপনাকে প্রথমে পাইকারি দামে চকের কাঁচা মাল কিনে নিতে হবে যেমন প্লাস্টার অফ পেরিস (POP), কেরোসিন, জল এবং রং ইত্যাদি।

এই অনেক সাধারণ এবং কম খরচে পাওয়া জিনিসের সযায্যে আপনি চক বানানোর ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

৮. বিকালে সিঙ্গারা/চপের স্টল

আজকাল সবাই বিকালের সময় বাইরে ঘুরতে যেতে পছন্দ করে এবং সাথে বাইরের চটপটা খেতে ভালোবাসেন। 

তাই কম টাকার মধ্যে যদি কোনো ব্যবসা শুরু করবেন ভাবছেন তাহলে বিকালে সিঙ্গারা/চপের ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

এই ব্যবসাটি বিকালের সময়ে করার ফলে দিনের বাকি সময় অন্য কাজে লাগাতে পারেন।

নিজের স্টল যদি কোনো জমজমাট স্থানে খোলা যায় এবং আপনার বানানো সিঙ্গারা, চপ যদি গ্রাহকদের সুস্বাদু লেগে থাকে তাহলে প্রতিদিন নিশ্চই গ্রাহকরা আপনার স্টলে খেতে আসবে।

এই ব্যবসা কম টাকা এবং কম সময় বিনিয়োগ করে অধিক রোজগার দিয়ে থাকে।

৯. ব্লগিং ব্যবসা

বর্তমান সময়ে ব্লগিং ব্যবসা খুবই জনপ্রিয় এবং লাভজনক অনলাইন ব্যবসা হিসেবে আগে বাড়তে দেখা যাচ্ছে।

আপনার মধ্যেও যদি লিখার প্রতিভা থাকে তাহলে এই ব্যবসা আপনার জন্য খুবই লাভবান হবে।

এই ব্লগিং ব্যবসাটি যেকোনো বয়সের মানুষ শুরু করতে পারে।

আজকাল এই ব্যবসাটি মানুষ professional business হিসাবে নিয়ে কাজ করছেন এবং এর থেকে প্রচুর ইনকাম করছেন।

ব্লগিং এর ক্ষেত্রে সাধারণত বিভিন্ন বিষয়ের উপর আর্টিকেল লিখা হয় এবং নিজের ওয়েবসাইটে আর্টিকেলটি published করা হয়ে থাকে।

যখন আপনার ব্লগে লোক আসতে শুরু হবে এবং আপনার published করা আর্টিকেল গুলো অধিক লোকেরা পড়তে শুরু করবেন, তখন Google AdSense এর বিজ্ঞাপন নিজের ব্লগে দেখিয়ে নিজের ব্লগ থেকে টাকা আয় করতে পারবেন। 

ব্লগিং ব্যবসাটি আপনি ঘরে বসে শুরু করতে পারবেন এবং এর জন্য বেশি টাকার বিনিয়োগ দরকার পড়েনা।

শুধু domain এবং হোস্টিং কেনার জন্য ২ থেকে ৩ হাজার টাকা খরচ করতে হবে।

কম খরচে এই ব্যবসাটি করে মাসে হাজার হাজার টাকা অনলাইনে আয় করতে পারবেন।

১০. মাস্ক বানানোর ব্যবসা

করোনা ভাইরাস আসার পর থেকে মাস্ক এর চাহিদা অনকে বেশি পরিমানে বেড়ে গেছে।

বাজারে বিভিন্ন ধরণের দামি কোম্পানির মাস্ক কিনতে পাওয়া যায়।

কিন্তু সবের পক্ষে বেশি দাম দিয়ে মাস্ক কেনা সম্ভব হয়না।

তাই আপনার মধ্যে যদি সেলাই করার প্রতিভা থাকে তাহলে ঘর থেকে মাস্ক বানিয়ে বিক্রি করতে পারেন বা কোনো দোকানের সাথে যোগাযোগ করে এই ব্যবসা শুরু করে ভালো টাকা আয় করতে পারেন।

শুধু আপনাকে মাস্ক বানানোর বস্তু গুলো কেনার জন্য টাকা খরচ করতে হবে যেমন সুই সুতো, কেচি, বিভিন্ন রঙের কোন কাপড় ইত্যাদি।

১১. অনলাইন কেক/পেস্ট্রি ব্যবসা

বর্তমান সময়ে কেক, পেস্ট্রি, মাফিন্স ইত্যাদির খুব চাহিদা রয়েছে।

আজকাল জন্মদিন ছাড়াও বিভিন্ন ধরণের অনুষ্ঠানে যেমন বিবাহবার্ষিক, কোনো বিশেষ দিনের সেলিব্রেশন করার জন্য কেক কাটা হয়ে থাকে।

আপনার যদি কম খরচে অনলাইন ব্যবসা করার ইচ্ছা থাকে তাহলে বিভিন্ন রকমের কেক এর অনলাইনে অর্ডার নিয়ে সেগুলোকে সময় মতো বানিয়ে গ্রাহকদের হোম ডেলিভারী দিতে পারেন।

এই ব্যবসাটি অনলাইন শুরু করার জন্য আপনার নিজের ওয়েবসাইট খুলতে হবে বা নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় পেজ বা প্রোফাইল এর ব্যবহার করতে হবে।

কাজটি অনলাইন হওয়ার ফলে আপনি ঘর থেকেই ব্যবসাটি পরিচালনা করতে পারবেন।

১২. সকালের জলখাবারের ব্যবসা

কম খরচে অত্যন্ত লাভজনক ব্যবসার মধ্যে জলখাবারের স্টল হলো একটি জনপ্রিয় ব্যবসা।

বর্তমান সময়ের ব্যস্ততাভরা জীবনে অনেক মানুষ আছে যাদের অফিসের কাজে ঘর থেকে দূরে থাকতে হয়।

ফলে সময়ের অভাবে সকালের জলখাবার বাইরে খেতে হয় এবং অনেক মানুষ এমনও থাকে যারা দেরি হওয়ার কারণেও বাইরে জলখাবার খেয়ে থাকে।

এছাড়াও কলেজের বা হোস্টেলে থাকা ছাত্র ছাত্রীরাও সকালের জলখাবার বাইরে খেয়ে থাকে।

এই ব্যবসা করার জন্য যে বিষয়ে বিশেষ ধ্যান দিতে হবে সেটি হলো খাওয়া সুস্বাদু হওয়া এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হওয়া।

কারণ খাওয়ার কোয়ালিটি ভালো হলে এবং স্বাদ হলেই গ্রাহক প্রতিদিন আপনার স্টলেই খেতে পছন্দ করবে।

সকালের জলখাবারের মধ্যে রুটি, সব্জি, পুরি, ঘুগনি ইত্যাদি রাখতে পারেন।

এই ব্যবসাটি সকালের সময়ে হওয়ার ফলে আপনাকে বেশি সময় দিতে হয়না ফলে দিনের বাকি সময় অন্য কাজও করতে পারবেন।

১৩. ইনভিটেশন কার্ড ছাপানোর ব্যবসা

বর্তমান সময়ে ইনভিটেশন কার্ড এর চাহিদা অনকে বেড়ে গেছে।

বিভিন্ন অনুষ্ঠান যেমন জন্মদিন, বিবাহ, বিভিন্ন ধরণের ইভেন্টে পরিচিতদের নিমন্ত্রণ করার জন্য কার্ড ব্যবহার করে থাকে।

যেখানে ভালো কোয়ালিটি এবং সুন্দর designer cards বানানো হয় সেখানেই লোকেরা ইনভিটেশন কার্ড বানাতে পছন্দ করে।

তাই আপনাদের মধ্যে যদি কার্ড বানানো এবং কার্ড ডিজাইন করার বিষয়ে জ্ঞান থেকে থাকে তাহলে কম টাকার ভেতরে এই ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

এই ব্যবসা শুরু করার জন্য একটি প্রিন্টিং মেশিনের দরকার পড়বে।

এই ব্যবসাটি আপনারা অনলাইন অফলাইন দুই ভাবেই শুরু করতে পারেন।

অনলাইন বা অফলাইন দুটো ক্ষেত্রে ব্যবসার প্রচার করার জন্য বিভিন্ন জায়গায় ফ্লেক্স লাগিয়ে বিজ্ঞাপন করতে পারেন।

১৪. পুচকা এবং চাটের ব্যবসা

পুচকা বা চাট ছোটো থেকে বড় সকলেই খেতে পছন্দ করে থাকে।

এই ব্যবসাটি ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ করে long-term ব্যবসা হিসাবে শুরু করতে পারেন।

এর জন্য দরকার একটি ভালো জায়গা যেখানে আপনি নিজের স্টল লাগাতে পারেন।

এই ব্যবসার ক্ষেত্রে আপনাকে বিশেষ ধ্যান দিতে হবে যাতে স্টল এর জায়গা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হয়।

কম টাকা বিনিয়োগ করে এই ব্যবসা থেকে আপনি ভালো টাকা মুনাফা লাভ করতে পারবেন। 

১৫. ইউটিউব ব্যবসা

আমরা দিনের বেশিরভাগ সময় YouTube চ্যানেলে ভিডিও দেখে থাকি।

উদাহরণস্বরূপ যেমন রান্নার ভিডিও, বিউটিসিয়ান ভিডিও, পড়ার ভিডিও, কোর্স, টিউটোরিয়াল ইত্যাদি নানা রকমের ভিডিও আমরা ইউটিউবে দেখি।

লোকেরা নিজেদের ইউটিউবের চ্যানেলে আপলোড করা এই ভিডিও গুলোর মাধ্যমে মাসে হাজার হাজার লাখ লাখ টাকা কামিয়ে নিচ্ছে।

তাই, আপনিও যদি ইউটিউব থেকে টাকা কামাতে চান তাহলে আপনাকে একটি ইউটিউব চ্যানেল খুলতে হবে এবং সেখানে নিয়মিত ভালো ভালো ভিডিও বানিয়ে আপলোড দিতে হবে। 

যখন আপনার ভিডিও বেশি পরিমাণে মানুষ পছন্দ করতে শুরু করবে এবং আপনার চ্যানেলে subscribers বাড়বে তখন নিজের ইউটিউব ভিডিও থেকে আপনি প্রচুর টাকা আয় করতে পারবেন।

কিন্তু ধ্যান রাখতে হবে যাতে আপনার আপলোড করা ভিডিও কারো কপি করা না হয়।

ভিডিও বানানোর জন্য আপনাকে কিছু জিনিস কিনতে হবে যেমন ভালো মাইক, লাইটিং, ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার ইত্যাদি।

প্রায় ১০ হাজার টাকার ভিতরে নিজের ষ্টুডিও সেটআপ করতে পারবেন এবং সম্পূর্ণ প্রফেশনাল ভাবে ইউটিউব ব্যবসা শুরু করতে পারবেন। 

এমনিতে আপনি চাইলে, কোনো টাকা ইনভেস্ট না করে কেবল নিজের স্মার্টফোন ব্যবহার করে সম্পূর্ণ ফ্রীতে এই ব্যবসা শুরু করতে পারবেন।

বর্তমান সময়ে, বিশ্বজুড়ে বড় থেকে ছোট অনেকেই নিজের একটি YouTube channel তৈরি করে প্রচুর টাকা প্রত্যেক মাসে আয় করছেন।

 

আমাদের শেষ কথা,,

তাহলে যদি আপনারা মাত্র 10 হাজার টাকায় ব্যবসা শুরু করতে চাইছেন, তাহলে ওপরে বলা ছোট ব্যবসার আইডিয়া গুলো আপনাদের কাজে অবশই আসবে।

এমনিতে দেখতে গেলে কোনো টাকা না লাগিয়েও অনেক ধরণের ব্যবসা শুরু করা যেতে পারে যেগুলোর বিষয়ে আমি পরে আপনাদের বলবো।

তবে, যদি আপনি অনেক কম টাকা লাগিয়ে ব্যবসা করার কথা ভাবছেন তাহলে ওপরে বলা ব্যবসা গুলো সেরা।

যদি আমাদের আজকের আর্টিকেল, “best business ideas under 10 thousand” আপনাদের ভালো লেগে থাকে,

তাহলে অবশই আর্টিকেলটি সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার অবশই করবেন।

এছাড়া, আর্টিকেলের সাথে জড়িত কোনো ধরণের প্রশ্ন বা পরামর্শ থাকলে নিচে কমেন্ট করে অবশই জানিয়ে দিবেন।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error:
Scroll to Top
Copy link