সফল উদ্যোক্তা হওয়ার মূলমন্ত্র গুলো । Entrepreneur success tips in Bangla

আপনারাও কি একজন সফল উদ্যোক্তা হওয়ার উপায় খুঁজছেন বা সফল উদ্যোক্তা হওয়ার মূলমন্ত্র গুলো যেনেনিতে চাইছেন ? যদি একজন উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে সফল করতে চাইছেন, তাহলে কিছু বিশেষ বিষয় গুলো নিয়ে আপনাকে ধ্যান অবশই রাখতে হবে (Entrepreneur success tips in Bangla)। 

সফল উদ্যোক্তা হওয়ার মূলমন্ত্র
উদ্যোক্তারা সফল হওয়ার জন্য কি করবেন ?

সফল উদ্যোক্তা হতে হলে কি করবেন, সেবিষয়ে আজকের এই আর্টিকেলে আপনারা সম্পূর্ণটা জানতে পারবেন। 

এখনের সময়ে বিদেশের সাথে সাথে আমাদের নিজের দেশেও প্রায় প্রচুর ব্যক্তিরা নতুন উদ্যোক্তা হয়ে স্বাধীন ভাবে নিজের মতো করে কাজ করতে চাইছেন। 

কারণ আমরা প্রত্যেকেই জানি, চাকরি করে আমরা নিজের জীবনে কেবল সীমিত পরিমানের ইনকাম করতে পারি।

এছাড়া, চাকরিতে আমরা অন্যের সফলতার জন্য নিজের সময় দিয়ে কাজ করে থাকি এবং আমরা আমাদের জীবনে স্বাধীন ভাবে এগিয়ে যেতে পারিনা।

কিন্তু এখনের সময় প্রচুর বদলে গেছে এবং এখনের যুবকরা (youngsters) তাদের আর্থিক স্বাধীনতার ক্ষেত্রে কেবল চাকরির ওপরেই ভরসা করে বসে নেই।

এখনের সময়ে বিশ্বজুড়ে প্রায় প্রত্যেক ব্যক্তি একজন নতুন উদ্যোক্তা (entrepreneur) হিসেবে নিজের জীবনে এগিয়ে যেতে চাইছেন। 

আপনারা ভালো করে research করলে জানতে পারবেন যে, প্রায় প্রচুর উদ্যোক্তারা (entrepreneurs) রয়েছেন যারা নিজের কৌশল এবং সাহস এর সাথে নিজের ব্যবসা শুরু করেছিলেন এবং এখন তারা প্রচুর সফল হওয়ার সাথে সাথে আর্থিক ভাবে অনেক শক্তিশালী। 

তবে entrepreneur হিসেবে প্রত্যেকেই কিন্তু সফল হতে পারবেন বলে কথা নেই।

তাই, যদি আপনিও একজন উদ্যোক্তা এবং ভাবছেন, কিভাবে সফল উদ্যোক্তা হওয়া যায়, (how to become a successful entrepreneur) তাহলে নিচের তথ্য গুলো আপনার কাজে আসবে। 

সফল উদ্যোক্তা হওয়ার মূলমন্ত্র । কিভাবে সফল উদ্যোক্তা হওয়া যায়

একজন successful entrepreneur হওয়ার জন্য আপনাকে অবশই কিছু নিয়ম ও শৃঙ্খলা মেনে এগিয়ে যেতে হবে।

নিচে আমি এমন কিছু entrepreneur success tips গুলো বলবো যেগুলো আপনার সফলতার ক্ষেত্রে প্রচুর কাজে আসবে।

আমি নিজেও একজন entrepreneur এবং আমার সফলতার ক্ষেত্রে এই প্রত্যেকটি মূলমন্ত্র অনেক কাজে এসেছে।

আর তাই একজন সমৃদ্ধিপূর্ণ উদ্যোক্তা হতে হলে নিচে বলা tips গুলো মেনে কাজ করাটা অনেক জরুরি। 

১. লিডার (leader) হতে হবে

বন্ধুরা, একজন সফল entrepreneur হতে হলে সব থেকে আগেই আপনাকে নিজেকে একজন ভালো leader হিসেবে তৈরি করতে হবে।

প্রত্যেক উদ্যোক্তার মধ্যে leadership quality থাকাটা অনেক জরুরি।

কারণ, যখন আপনি উদ্যোক্তা সিহেবে একটি business শুরু করবেন, তখন প্রচুর কর্মচারীরা আপনার জন্য কাজ করবেন।

আপনার নির্দেশ মেনে কাজ করা সেই কর্মচারীদের ভালো করে পরিচালনা এবং নিয়ন্ত্রণ করার কৌশল আপনার মধ্যে থাকতেই হবে।

আর যদি আপনি একজন ভালো নেতা (leader) হতে পারছেননা, তাহলে অবশই আপনি কর্মচারীদের দিয়ে সঠিক ভাবে কাজ করাতে পারছেননা।

তাই, সফলতা পাওয়ার জন্য প্রত্যেক উদ্যোক্তার মধ্যে leadership qualities থাকাটা অনেক জরুরি।

২. Problem solver হতে হবে

প্রত্যেক উদ্যোক্তার তার পথে প্রচুর সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।

এরম কোনো ব্যক্তি নেই যে জীবনে কোনো রকমের সমস্যার সাথে লড়াই না করেই সফলতার মুখ দেখতে পেরেছেন।

তাই, আপনাকে আগের থেকেই তৈরি হয়ে নিজেকে বুঝিয়ে রাখতে হবে যে, “আমার রাস্তায় প্রচুর বাধা, সমস্যা এবং প্রব্লেম গুলো আসবেই”.

তবে, যেকোনো সমস্যা নিয়ে ভয় করে বা হতাশ না হয়ে আপনাকে যেকোনো সমস্যার সমাধান খুঁজতে হবে।

সফল entrepreneur হওয়ার এটাই মূল মন্ত্র যে আপনাকে যেকোনো problem এর জন্য নিজেকে তৈরি করে রাখতে হবে।

ছোট-বড় যেকোনো সমস্যার সমাধান নিয়ে চিন্তা করাটাই হলো successful entrepreneur দের একটি ভালো অভ্যাস।

৩. সম্পূর্ণ তৈরি হয়ে কাজে নামুন

Entrepreneurship কোনো মুখের কথা নয় এবং করবো বলেই শুরু করতে পারবেননা।

তাই, যদি এক্ষেত্রে সফল হতে চাইছেন, তাহলে আগেই সম্পূর্ণ ভাবে তৈরি হয়ে কাজ শুরু করতে হবে।

আপনি যেই বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করতে চাইছেন সেবিষয়ে সম্পূর্ণ জ্ঞান আপনার থাকতে হবে।

এর জন্যে, আপনি ইন্টারনেট, YouTube বা Google এর সাহায্য নিয়ে কাজের সাথে জড়িত সম্পূর্ণ জরুরি প্রক্রিয়া গুলো জেনেনিতে পারবেন।

কিভাবে কাজ শুরু করবেন, কর্মচারী রাখবেন কি না, কোন কাজ কিভাবে করবেন সেই সব বিষয় গুলোর উপরে আগের থেকেই ভেবে রাখতে হবে।

এতে, একবার কাজ শুরু হয়ে যাওয়ার পর আপনাকে working process এবং structure নিয়ে ভাবতে হবে।

আপনার কাজের সময়সূচী (schedule) আগের থেকেই বানিয়ে রাখলে আপনি আত্মবিশ্বাসের সাথে সঠিক কাজ করতে পারবেন।

৪. নিজের লক্ষ্য সেট করুন

আমরা প্রত্যেকেই জানি যে ব্যবসা হোক বা অন্য কিছু, যেকোনো ক্ষেত্রেই লক্ষ্য (target) সেট করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হয়।

তাই, যদি সফল হতে চাইছেন তাহলে ছোট ছোট টার্গেট সেট করে এগিয়ে যেতে হবে।

একটি খাতায় লিখে রাখুন যে আপনি আসছে ১ বা ২ বছরের মধ্যে ব্যবসাতে কতটা বিকাশ (growth) করতে চান, কি কি পরিবর্তন গুলো করবেন এবং লাভ কতটা বাড়াতে চেষ্টা করবেন।

এভাবে যখন আপনি ছোট ছোট টার্গেট সেট করে রাখবেন, তখন আপনার সম্পূর্ণ ধ্যান সেগুলোকে পাওয়ার মধ্যে লেগে থাকবে এবং আপনি সেই ভাবেই আগ্রহী হয়ে কাজ করবেন।

আর এভাবে ছোট ছোট লক্ষ্য গুলোকে অর্জন করতে করতে এক সময় দেখবেন আপনি সফলতার রাস্তায় অনেক টুকু এগিয়ে এসেছেন।

৫. সঠিক মার্কেটিং এর কৌশল

একজন উদ্যোক্তার কাজ হলো নতুন কিছু ধারণার (idea) সাথে এমন কিছু goods, services বা business তৈরি করা যেগুলো জনসাধারণ এর কাজে এসে থাকে।

তবে, উদ্যোক্তা হিসেবে আপনি যেই goods, services বা business এর শুরু করলেন সেবিষয়ে যদি জনসাধারণেরা ভালো করে জানতেই না পারে, তাহলে সেগুলো ব্যবহার করবে কে ?

তাই, নিজের ব্যবসার জন্য আপনাকে একটি সঠিক marketing strategy নিয়ে ব্যবসার প্রচার করতে হবে।

যেকোনো নতুন product, service বা brand এর বিষয়ে কেবল সঠিক মার্কেটিং কৌশল এর মাধ্যমেই অধিক তাড়াতাড়ি লোকেদের জানানো সম্ভব।

তাই, আপনাকে offline marketing এর সাথে সাথে digital marketing বা online marketing দ্বারা brand বা product এর প্রচার চালানো দরকার।

ডিজিটাল মার্কেটিং এর মধ্যে অনেক শক্তি রয়েছে এবং যেকোনো নতুন ব্যবসাকে রাতের মধ্যে জনপ্রিয় এবং বিখ্যাত করা সম্ভব ডিজিটাল মার্কেটিং এর কৌশল এর মাধ্যমে।

তাই, আপনার মধ্যে সঠিক মার্কেটিং এর কৌশল থাকাটা সাংঘাতিক জরুরি একটি বিষয় যদি ব্যবসাতে সফলতা চাইছেন।

৬. রিস্ক (risk) নিতে শিখতে হবে

যদি আপনি ভাবছেন কোনো রিস্ক না নিয়ে সেফ (safe) থেকে কাজ করে সফল হতে পারবেন, তাহলে আপনি ভুল ভাবছেন।

যেই ব্যক্তি জীবনে রিস্ক নিতে ভয় করে থাকেন সেই ব্যক্তি কখনোই বড় সফলতা পেতে পারেনা।

তাই, যদি আপনি দেখছেন যে অল্প রিস্ক নিলে এর পরিনাম অনেক ভালো হতে পারে, তাহলে নিয়েই দেখুন না।

আপনি যদি প্রত্যেক বিষয়ে ভয় পেয়ে পেয়ে থাকেন এবং যেকোনো লাভজনক সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে রিস্ক নিয়ে ভয় করেন, তাহলে উদ্যোক্তা হিসেবে সফল হওয়ার সুযোগ অনেক কম থাকছে।

কারণ, উদ্যোক্তারা সুযোগ (opportunity) দেখলেই সেটাকে নিজের মনের জোর এবং বিশ্বাসের সাথে গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিতে ভয় করেননা।

আপনার ব্যবসার সফলতার জন্য যদি কোনো রকমের সুযোগ দেখতে পারছেন, তাহলে কেবল রিস্ক এর ভয় এর জন্য সেটাকে হাতছাড়া করবেননা।

নিজেকে অবশই জিজ্ঞেস করুন যে এই সুযোগের ফলে লাভ কতটুকু হতে পারে এবং ক্ষতি হলে সেটা কতটুকু হতে পারে।

এবং, ক্ষতির তুলনায় যদি লাভের সম্ভাবনা অধিক দেখছেন, তাহলে সেটাকে হাতছাড়া করবেননা।

৭. আত্মবিশ্বাস থাকাটা অনেক জরুরি

আত্মবিশ্বাস থাকলে অনেক অসম্ভব কাজ গুলো হয়ে যায় এবং আত্মবিশ্বাস এর অভাবের ফলে অনেক সাধারণ এবং সোজা কাজ গুলোকেও লোকেরা করতে পারেননা।

তাই, যেই কাজ আপনি করছেন, আপনার ব্যবসা যেটাই হোক না কেন সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাস এর সাথে আপনাকে এগিয়ে যেতে হবে।

অনেক সময় হতাশ হয়ে পড়বেন, মনে হবে আমার দ্বারা আর হবেনা, কিন্তু আত্মবিশ্বাস এর শক্তির দ্বারা আপনি নিজেকে সামলিয়ে নিতে পারবেন।

আত্মবিশ্বাস থাকলে আপনার নিজের ওপরে বিশ্বাস (trust) সবসময় থাকবে যার ফলে আপনি বার বার চেষ্টা করতে বিছিয়ে থাকবেননা।

আর এই positive energy আপনাকে সফল করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

যখন আপনি অন্যের থেকে আলাদা কিছু করবেন তখন অনেকেই আপনাকে বাধা দিতে চেষ্টা করবেন, আপনাকে নিয়ে রসিকতা ও ঠাট্টা করবেন।

কিন্তু মনে রাখবেন, আপনাকে লোকের কথায় পাত্তা না দিয়ে আত্মবিশ্বাস এর সাথে নিজের কাজ করতে থাকতে হবে।

একবার সফল হওয়ার পর, যারা আপনাকে নিয়ে ঠাট্টা করছিলেন তারা তাদের জায়গায় থেকে যাবেন কিন্তু আপনি তাদের থেকে প্রচুর এগিয়ে একজন উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের পরিচয় তৈরি করে নিবেন।

৮. Failure থেকে ভয় করবেননা

অবশই, যেকোনো বড় কাজ, ব্যবসা ইত্যাদি করতে গেলে ফেইল (fail) হওয়াটা কোনো বড় ব্যাপার না।

আপনি যদি একবার fail হয়েই হতাশ হয়ে সব ছেড়ে চলে যাচ্ছেন, তাহলে একজন উদ্যোক্তার কোয়ালিটি আপনার মধ্যে অবশই নেই।

কারণ, একজন entrepreneur যেকোনো failure থেকে কখনো ভয় করেননা তবে নিজের ভুল থেকে শিখে আবার আত্মবিশ্বাস এর সাথে কাজ করেন।

আপনি সফল ব্যক্তি দের জীবনী বা তাদের সফলতার কাহিনী গুলো পড়ে দেখলে বুঝতে পারবেন যে একবার দুবার নয় তারা প্রায় অনেক বার ব্যর্থতার (failure) সম্মুখীন হয়েছেন।

তবে তারা নিজের ব্যর্থতা (failure) গুলোর ফলে হতাশ হয়ে বসে থাকলে আজকে তারা সফল কখনোই হতে পারতেননা।

তাই, নিজের ব্যর্থতার থেকে শিখুন এবং কি কি ভুল করেছেন সেগুলোর বিষয়ে জানুন এবং নিজের ভুল গুলোকে স্বীকার করুন এবং সেগুলোকে শুধরিয়ে এগিয়ে যেতে থাকুন।

সফল উদ্যোক্তা হওয়ার এটা সত্যি একটি দারুন মূলমন্ত্র। 

 

আমাদের শেষ কথা,,

তাহলে বন্ধুরা, আজকের আর্টিকেলের মাধ্যমে আমরা জানলাম সফল উদ্যোক্তা হওয়ার উপায় গুলোর বিষয়ে। 

একজন সফল উদ্যোক্তা হতে হলে কি করবেন আশা করছি সেগুলো আপনারা ভালো করেই বুঝতে পেরেছেন। 

জীবনের যেকোনো ক্ষেত্রে সফলতা পাওয়ার জন্য আমাদের কিছু সাধারণ নিয়ম গুলো মেনেই কাজ করতে হয়।

আর, কিভাবে একজন সফল উদ্যোক্তা হওয়া যায় ? এই প্রশ্নের উত্তর এর বিপরীতে এমনি কিছু সাধারণ নিয়ম বা উপায় গুলো রয়েছে। 

আশা করছি আজকের আর্টিকেল আপনাদের ভালো লেগেছে।

আর্টিকেল ভালো লেগে থাকলে আর্টিকেলটি অবশই শেয়ার করবেন।

এছাড়া, আর্টিকেলের সাথে জড়িত কোনো ধরণের প্রশ্ন বা পরামর্শ থাকলে আমাকে নিচে কমেন্ট করে জানিয়ে দিন।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error:
Scroll to Top
Copy link