গার্মেন্টস কাপড়ের ব্যবসা শুরু করার নিয়ম গুলো – (রেডিমেড গার্মেন্টস ব্যবসা)

বন্ধুরা আপনারা যদি রেডিমেড গার্মেন্টস কাপড়ের ব্যবসা শুরু করার কথা ভাবছেন বা কাপড়ের ব্যবসা করার নিয়ম (How to start cloth business) জানতে চাইছেন, তাহলে আজকের আর্টিকেলের মাধ্যমে এবিষয়ে সম্পূর্ণটা জেনেনিতে পারবেন। 

কাপড়ের ব্যবসা করার নিয়ম
How to start cloth business ? Steps in Bangla

যদি আপনিও গার্মেন্টস ব্যবসা (Garments Business) শুরু করতে চাইছেন, তাহলে এই আর্টিকেলের মাধ্যমে কাপড়ের ব্যবসা কিভাবে শুরু করতে হয় সেবিষয়ে প্রচুর তথ্য জেনেনিতে পারবেন। 

এমনিতে ব্যবসার মধ্যে কাপড়ের ব্যবসা এমন এক ব্যবসা যেটার মাধ্যমে প্রচুর পরিমানে লাভ করা সম্ভব।

অনেক কাপড়ের দোকান রয়েছেন যারা প্রত্যেক কাপড়ে ২০০% থেকেও অধিক লাভ যায় করে থাকেন।

তাই, readymade garments এর business এর মাধ্যমে আপনারা unlimited income বা profit যায় করতে পারবেন।

তবে, যেকোনো অন্য বড় ব্যবসার মতোই এখানেও আপনাকে প্রচুর investment করতে হবে এবং প্রথমে প্রচুর খাটতে হবে।

বেশিরভাগ সফল কাপড়ের দোকান গুলো শুরুতে কিন্তু সফল ছিলোনা।

শুরুতে, বেশিরভাগ কাপড়ের দোকান গুলোতেই গ্রাহক দের আসা যাওয়া প্রচুর কম থাকবে।

তাই, প্রথম কয়েকমাস যদি আপনার লোকসান (losses) হয়েও থাকে, তাহলে সেক্ষেত্রে হতাশ না হয়ে কিভাবে গ্রাহকদের আকর্ষিত করতে পারবেন সেই বিষয়ে ভাবতে হবে।

কাপড়ের ব্যবসাতে প্রচুর টাকা ইনভেস্ট করতে হয় এবং সাথে সাথে আপনাকে প্রচুর প্রতিযোগিতার (competition) মুখোমুখি হতে হবে।

অনেক লাভদায়ক এবং জনপ্রিয় ব্যবসা হওয়ার কারণে প্রায় অনেক বেশি পরিমানে লোকেরা এই ব্যবসা শুরু করে থাকেন।

এর ফলে, চাহিদার (demand) তুলনায় সরবরাহ (supply) অধিক হয়ে যায় এবং রেডিমেড কাপড়ের ব্যবসা করা ব্যবসায়ী দের মধ্যে প্রচুর প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হয়ে থাকে। 

অধিক প্রতিযোগিতার ফলে, অনেক রেডিমেড ক্লোথ স্টোর (readymade cloth store) গুলো ব্যবসাতে অসফল হয়ে দাঁড়ায়।

তাই, যদি আপনি একটি কাপড়ের দোকান দিতে চাইছেন, তাহলে আপনাকে প্রচুর পরিকল্পনার (planning) সাতে এবং সঠিক নিয়ম গুলো ফলো করে ব্যবসা শুরু করতে হবে।

এমনিতে গার্মেন্টস ব্যবসা করার নিয়ম গুলো জানা থাকলে, এক্ষেত্রে ব্যবসা করতে অনেক সুবিধা পাবেন। 

তাহলে চলুন, নিচে আমরা সরাসরি জেনেনেই, রেডিমেড গার্মেন্টস ব্যবসা বা রেডিমেড গার্মেন্টস এর দোকান দেওয়ার নিয়ম গুলো কি কি। 

কাপড়ের ব্যবসা শুরু করার নিয়ম গুলো – (Steps To Start Garments Shop)

দেখুন আমি আগেই বলেছি যে গার্মেন্টস এর ব্যবসা শুরু করাটা কিন্তু বাচ্চাদের খেলা না।

এই ব্যবসাতে যতটা লাভ করার সম্ভাবনা রয়েছে, ততটাই বেশি টাকা বিনিয়োগ এখানে করতে হয়।

শুরুতেই প্রায় ৬ থেকে ৭ লক্ষ টাকা ব্যবসাতে বিনিয়োগ (invest) করতে লাগতে পারে যদি সঠিক জায়গায় সম্পূর্ণ সঠিক ভাবে দোকান শুরু করতে যাচ্ছেন।

আর, যদি আপনি সঠিক planning এর সাথে readymade garments shop শুরু করছেননা, তাহলে ৭৫% সুযোগ থাকছে যে আপনি আপনার cloth business এর মধ্যে অসফল হতে পারেন।

আপনারা এরকম অনেক কাপড়ের দোকান হয়তো দেখেছেন যেগুলোকে প্রত্যেক দিন এতটা গ্রাহক চলে আসেন যে তাদের সামলানো কষ্ট হয়ে যায়।

আবার, এরকম অনেক গার্মেন্টস এর দোকান রয়েছে যেগুলোতে প্রত্যেক দিন কেবল ২ থেকে ৩ জন গ্রাহক বা তার থেকেও কম গ্রাহক আসেন।

তাই, সবটাই কিন্তু আপনার পরিকল্পনার ওপরেই নির্ভর করছেন।

ব্যবসার ক্ষেত্রে আপনার সঠিক এবং দুর্দান্ত পরিকল্পনা (planning) আপনার ব্যবসাকে সফল (successful) বানিয়ে দিতে পারে।

চলুন, এখন আপনার অধিক সময় না নিয়ে আমি আপনাদের বলে দেই যে, সঠিক পরিকল্পনার সাথে কাপড়ের ব্যবসা কিভাবে শুরু করবেন।

১. ব্যবসার জন্য টাকা প্রস্তুত রাখুন 

আপনি হয়তো ভাবছেন যে, ব্যবসা করার গায়ে প্রত্যেকেই টাকা অবশই প্রস্তুত রাখেন, এখানে বলার কি আছে।

কিন্তু আমাদের আসল ভুল হলো, ব্যবসার জন্য মোট কত টাকা লাগবে সেটা সঠিক ভাবে হিসেব না করেই নিজের আন্দাজ হিসেবে টাকা প্রস্তুত রাখি।

এতে, ব্যবসা শুরু করে ফেলার পর হঠাৎ টাকার প্রয়োজন দেখা দিতে পারে এবং আপনার জন্য এটা অনেক সমস্যার বিষয় হয়ে দাঁড়াতে পারে।

আর যখন কাপড়ের ব্যবসার কথা হচ্ছে তখন এখানে লক্ষ লক্ষ টাকা আপনাকে ইনভেস্ট করতে হয়, সত্যি বললে প্রচুর টাকা কমানোর জন্য এই ব্যবসাতে আপনাকে আগে প্রচুর টাকা লাগাতে হবে।

একটি সাধারণ ছোট খাটো রেডিমেড গার্মেন্টস দোকান শুরু করার জন্যেও আপনাকে প্রায় ৪ থেকে ৫ লক্ষ টাকা খরচ করতেই হয়। 

তাই, শুরুতেই কাপড়ের স্টক (cloth stock), দোকানের ভাড়া, দোকানের অ্যাডভান্স, ফার্নিচার, কর্মচারী ইত্যাদি প্রত্যেকটি বিষয়ে কত টাকা লাগবে সেটা হিসেবে করে রাখতে হবে।

কেবল কাপড়ের স্টক এর মধ্যেই ৪ থেকে ৫ লক্ষ টাকা চলে যাবে এবং দোকানের ভাড়া এবং সেলামির ক্ষেত্রে আরো ১.৫ লক্ষ থেকে ২ লক্ষ টাকার investment ভেবেই রাখুন।

এছাড়া, দোকান যখন নতুন থাকবে, তখন কিন্তু সেখান থেকে কোনো রকমের লাভ আয় করার আশা রাখবেননা।

দোকান শুরু করার পর প্রায় ৬ মাস থেকে ১ বছর সময় লেগে যাবে কিছুটা লাভ আয় করার জন্য, এবং সেই লাভ আপনাকে আবার ব্যবসাতেই বিনিয়োগ (invest) করতে হবে।

তাই, দোকান শুরু করার পর প্রায় ৬ থেকে ৮ মাস খানিক প্রত্যেক খরচ গুলো যেমন, মার্কেটিং, দোকান ভাড়া, ইলেকট্রিক বিল, কর্মচারীর মাইনে, দোকানের জন্য জরুরি সামগ্রী ইত্যাদি আপনাকে নিজের পকেট থেকেই ভরতে হয়।

তবে আপনি চাইলে, কোনো personal বা business loan নিয়েও নিজের ব্যবসা শুরু করতে পারবেন।

কিন্তু, আপনার গার্মেন্টস কাপড়ের দোকান কতটা বড় হবে এবং সেখানে কত টাকা বিনিয়োগ (invest) করতে হবে সেটা ব্যবসা শুরু করার আগেই আপনাকে স্পষ্ট ভাবে জেনে রাখতে হবে এবং সেই ভাবেই টাকা প্রস্তুত করে রাখতে হবে।

২. ব্যবসার / দোকানের লোকেশন ঠিক করুন 

কাপড়ের বিজনেস এর মধ্যে যেটা সব থেকে জরুরি বিষয় সেটা হলো দোকানের সঠিক লোকেশন / জায়গা ঠিক করা।

তাই, যদি আপনি Garments business শুরু করবেন বলে ভেবে নিয়েছেন, তাহলে আপনাকে নিজের দোকানের জন্য একটি ভালো জায়গা দেখে নিতে হবে।

  1. আপনি যেই জায়গাতে দোকান দেওয়ার কথা ভাবছেন সেখানে যাতে লোকেদের যথেষ্ট ভিড়ভাড় থাকে। এতে, সেই ভীড়ের থেকেই আপনি প্রচুর গ্রাহক পাবেন।
  2. যদি আপনার business location এর মধ্যে আগের থেকেই অন্যান্য প্রচুর garments shop রয়েছে, তাহলে তাদের ব্যবসা সেখানে ভালো চলছে কি না সেবিষয়ে যাচাই করতে হবে।
  3. চেষ্টা করুন যাতে আপনি একটি ভালো বাজারে (market) যাতে দোকান নিতে পারেন। গ্রাহকেরা প্রচুর জিনিস কেনার উদ্দেশ্যে বাজারে চলে আসেন, তাই আপনার দোকানের ওপরেও সহজেই অধিক গ্রাহকের নজর পরবে এবং অধিক কাপড় বিক্রির সুযোগ হয়ে দাঁড়াবে।
  4. দোকানের জন্য জায়গা সিলেক্ট করার আগেই আপনাকে নিজের শহরের বা গ্রামের ভালো করে ব্যাপক নিরীক্ষণ (survey) করে নেওয়া দরকার।
  5. শহরের বা গ্রামের ব্যাপক নিরীক্ষণ এর ফলে আপনারা দোকানের জন্য এমন প্রচুর ভালো ভালো এবং লাভজনক জায়গা (location) গুলো খুঁজে পাবেন যেখানে কাপড়ের দোকানের প্রচুর চাহিদা রয়েছে যদিও আগের থেকে কোনো দোকান নেই।
  6. যদি আপনি এরকম একটি লাভজনক shop location খুঁজে নিতে পারেন, তাহলে অবশই লাভ হওয়ার সুযোগ প্রচুর থাকছে।

তাই, একটি ভালো এবং চাহিদা থাকা জায়গাতে (location) দোকান দিতে চেষ্টা করুন যেখানে আগের থেকে ভালো কাপড়ের দোকান তেমন একটি নেই।

দোকানের জন্য একটি সেরা জায়গা খুঁজে পাওয়ার জন্য, আপনাকে প্রায় ১ মাস পর্যন্ত প্রত্যেক মার্কেটে ঘুরতে হবে এবং গ্রাহকের চাহিদার আন্দাজ বুঝতে হবে।

৩. ব্যবসার রেজিস্ট্রেশন করুন 

গার্মেন্টস ব্যবসা করার নিয়ম হোক বা যেকোনো অন্য ব্যবসা, প্রত্যেক ব্যবসার ক্ষেত্রেই আপনাকে নিজের ব্যবসার রেজিস্ট্রেশন (business registration) করানোটা অনেকটাই জরুরি। 

যেকোনো ব্যবসার রেজিস্ট্রেশন করানোর ক্ষেত্রে আপনাকে income tax returns, trade license, trademark registration, business registration ইত্যাদি আলাদা আলাদা রকমের কিছু registration গুলো করতে হয়।

তবে, আলাদা আলাদা দেশে ব্যবসার জন্য আমাদের আলাদা আলাদা রকমের প্রক্রিয়া ও নিয়ম গুলো মেনে রেজিস্ট্রেশন গুলো করতে হয়।

তাই, আপনি আপনার দেশের নিয়ম গুলো মেনে ব্যবসার রেজিস্ট্রেশন করিয়ে নিন।

এবিষয়ে আমি অধিক বলতে পারবোনা, তবে আপনি একজন ভালো CA এবং Lawyer এর সাথে যোগাযোগ করে আলোচনা করে নিতে পারেন।

৪. Manufacturer এবং wholesalers খুজুন 

কাপড়ের ব্যবসার জন্য একটি ভালো জায়গার পরে সব থেকে জরুরি যেই বিষয়ে আপনার ধ্যান রাখতে হবে সেটা হলো একটি ভালো wholesaler বা manufacturer এর সাথে যোগাযোগ করা এমং যতটা সম্ভব কম দামে কাপড়ের স্টক কেনা।

আপনাকে কেবল সেই জায়গার থেকে কাপড় কেনা দরকার যেখান থেকে আপনি সেরা কোয়ালিটির কাপড় কম দামে পাবেন।

  • যদি আপনি সরাসরি manufacturer এর থেকে কাপড় কিনতে পারেন তাহলে অধিক মার্জিন এর সাথে কাপড় বিক্রি করতে পারবেন।
  • কেবল, কম দামে রেডিমেড কাপড় কিনে অধিক দামে বিক্রি করলেই কাজ হবেনা। এই ব্যবসাতে অধিক সময় পর্যন্তই টিকে থাকতে হলে কাপড়ের কোয়ালিটি ভালো রাখার চেষ্টা করতে হবে।
  • বর্তমানের চলন (fashion) এবং trend হিসেবে আপনাকে ৬০% স্টক মেইনটেইন করতে হবে।
  • পরম্পরাগত (Traditional) কাপড়ের চাহিদা বাজারে অবশই থাকে, তাই চেষ্টা করবেন যাতে ৪০% স্টক এই ধরণের পরম্পরাগত কাপড়ের রাখতে পারেন।
  • যখন লোকেরা আপনার দোকানে নতুন এবং বিভিন্ন আলাদা আলাদা ভেরাইটি কাপড় দেখতে পাবেন, তখন তারা বার বার আপনার দোকানেই চলে আসবেন।
  • প্রত্যেকটি product কেবল একি manufacturer বা wholesaler থেকেই নিবেননা, তবে আলাদা আলাদা জায়গার থেকে স্টক রাখার চেষ্টা করুন।
  • এতে আপনি প্রত্যেকের ক্ষেত্রে best price, quality এবং variety গুলো যাচাই করতে পারবেন।

যদি আপনি কম দামে ভালো কোয়ালিটির কাপড় নিজের শহরে বা গ্রামে খুঁজে পাচ্ছেননা, তাহলে অবশই অন্য শহর থেকে স্টক কিনে আনতে হবে।

অনেকেই, অন্যান্য শহর থেকে অনেক কম দামে ভালো ভালো কাপড় গুলো বাল্ক (bulk) হিসেবে কিনে আনেন এবং নিজের দোকানে অধিক মার্জিন সহ বিক্রি করেন।

৫. দোকান সেটআপ করুন 

এখন যখন আপনি একটি দারুন পরিকল্পনার সাথে একটি ভালো জায়গায় দোকান নিবেন এবং নিজের দোকানের জন্য কাপড়ের স্টক রেডি (ready) করে নিবেন, এখন আপনার কাজ হলো নিজের নতুন দোকানটিকে সেটআপ করা।

দোকানে কোনখানে কোন জিনিসটি রাখতে হবে কোন ফার্নিচার কোথায় রাখবেন সবটা ভালো করে মিলিয়ে নিতে হবে।

এছাড়া, দোকানের cash counter কোথায় রাখলে ভালো হবে সেটাও দেখতে হবে।

  • যতটা সম্ভব stocks গুলোকে plastic এর দ্বারা packed করে রাখার চেষ্টা করতে হবে। এতে, cloth stocks গুলো নোংরা হবেনা এবং নতুন থাকবে।
  • প্রত্যেক আলাদা আলাদা রকমের কাপড়ের বান্ডিল থেকে একটি একটি নিয়ে দোকানের ডিসপ্লে এরিয়াতে সাজাতে হবে। এভাবে অধিক গ্রাহক দের আপনি আকর্ষিত করতে পারবেন।
  • দোকানের সামনের পাশে একটি counter area অবশই রাখুন যেখানে computer এর মাধ্যমে billing করার ব্যবস্থা করতে হবে।
  • দোকানটিকে ভেতর থেকে এভাবে মিলিয়ে রাখতে হবে যাতে অধিক customer আসলেও শ্বাসরোধ ভাব না হতে পারে।
  • দোকানের বাইরের ভাগটি যত অধিক lighting এবং আকর্ষণীয় কিছু product display করে রাখতে পারবেন, গ্রাহকেরা ততটাই অধিক আকর্ষিত হবেন।
  • দোকানের ভেতরে প্রয়োজনের বাইরে ফার্নিচার বা চেয়ার ইত্যাদি রাখবেননা।
  • সবটা হয়ে যাওয়ার পর শেষে আপনাকে products এর selling price ঠিক করতে হবে।
  • আপনি কিন্তু কাপড় গুলোকে এমনিতে আন্দাজ হিসেবে বিক্রি করতে পারবেননা।
  • আপনার দোকানের খরচ, কাপড়ের দাম, ইলেকট্রিক বিল, দোকান ভাড়া, কর্মচারীর মেইন ইত্যাদি সব খরচ গুলো প্রত্যেক product এর সাথে যোগ করে সেটাকে সেই মার্জিন এর সাথে বিক্রি করতে হয়।
  • তাই, আমি পরামর্শ দিবো যে আপনি দোকান শুরু করার আগেই কাপড়ের cost price / selling price এবং margin নিয়ে সব চিন্তা ভাবনা করে রাখুন।

৬. প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হওয়ার থেকে বেঁচে থাকুন 

আমি এবং আপনি প্রত্যেকেই জানি যে কাপড়ের দোকান থেকে যেমন অধিক লাভ আয় করা সম্ভব ঠিক সেভাবেই এই ব্যবসাতে কিন্তু রিস্ক (risk) প্রচুর।

তবে এই ব্যবসাতে কিন্তু অধিক রিস্ক (risk) কেবল একটি জিনিসের রয়েছে এবং সেটা হলো “প্রতিযোগিতার (competition)“.

কাপড় কেনার ক্ষেত্রে গ্রাহকের কাছে প্রচুর অপসন, তারা বিভিন্ন দোকানে গিয়ে পছন্দের কাপড় কিনতে পারেন।

কাপড়ের দোকান যেকোনো ছোট-বড় অলি গলি থেকে বড় শপিং মল (shopping mall) গুলোতেও রয়েছে।

তাই, চাহিদার তুলনায় দেখতে গেলে কাপড়ের দোকান অধিক রয়েছে।

আর এটাই কারণ যার জন্য এখনের সময়ে যেকোনো ব্যবসাতে বিশেষ করে কাপড়ের ব্যবসাতে প্রচুর প্রতিযোগিতা রয়েছে।

তবে, ব্যবসার মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকাটা একটি সাধারণ বিষয় এমন এর থেকে নিজের ব্যবসাটিকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে আপনাকে কিছু ছোট ছোট পদখ্যেপ নিয়ে এগিয়ে চলতে হবে।

  • গ্রাহক ১ টাকার জিনিস কিনছেন বা ১০০০ টাকার, প্রত্যেকের সাথেই আপনাকে ভালো ব্যবহার করতে হবে। একজন গ্রাহক যদি আপনাকে পছন্দ করে থাকেন তাহলে সে আরো ৫ জন গ্রাহক আপনার দোকানে পাঠানোর ক্ষমতা রাখে।
  • গ্রাহক কাপড় দেখেও কাপড় কিনলেননা, তাও আপনি মুখে হাসি রেখে ভালো ব্যাবহার করতে হবে।
  • যদি আপনার দোকানে প্রচুর গ্রাহক আসছেন এবং ব্যবসা অনেক ভালো হচ্ছে, তাও কিন্তু নিজের ব্যবহার ভালো রাখবেন এবং ব্যবসাতে অহংকার আসতে দিবেননা। অহংকার এবং খারাপ ব্যবহারের ফলে অনেক ব্যবসা নিমিষে শেষ হয়ে যায়।
  • যদি এক বাজারে আপনার মতোই আরো অনেক দোকান রয়েছে, তাহলে আপনাকে কম থেকে কম মার্জিন রেখে কম লাভে কাপড় বিক্রি করতে হবে। এতে, গ্রাহক দের নিজের কাছে ধরে রাখতে পারবেন।
  • প্রয়োজন হলে মাঝে মাঝে কোনো লাভ (profit) ছাড়াই products বিক্রি করুন। এতে, গ্রাহক আপনার হাতে থাকবে এবং সে আরো ৫ টি গ্রাহককে আপনার বিষয়ে বলবে। এতে, পরে গিয়ে আপনি দুগুণ গ্রাহক পাবেন।
  • গ্রাহকের ভরসা জয় করতে হবে যার জন্য আপনাকে ভালো কোয়ালিটির কাপড় বিক্রি করতে হবে। লোকেরা কিছু বেশি টাকা দিয়ে হলেও ভালোটা পাওয়ার আশা করে থাকেন।

৭. প্রতিযোগীরা কি বিশেষ করছেন ? 

আপনারা হয়তো অনেক সময় দেখবেন যে আপনার দোকানে গ্রাহক অনেক কম আসছে এবং আপনার মতোই থাকা অন্য প্রতিযোগীরা প্রচুর গ্রাহক পাচ্ছেন।

যদি এরম হয়ে থাকে, তাহলে আপনাকে ভালো করে রিসার্চ করে দেখতে হবে যে আপনার প্রতিযোগীরা এমন কি বিশেষ করছেন যার জন্য তারা এতটা গ্রাহক পেয়ে যাচ্ছেন।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখবেন, আপনার প্রতিযোগীরা বিভিন্ন মাধ্যমে গ্রাহক দের আকর্ষিত করে থাকেন।

  • প্রতিযোগীরা কি ধরণের কাপড়ের স্টক দোকানে রাখছেন সেটার ওপরে নজর দিতে হবে।
  • প্রতিযোগীরা কি আধুনিক এবং লেটেস্ট ট্রেন্ড এর সাথে জড়িত স্টক রাখছেন নাকি ট্রেডিশনাল কাপড় রাখছেন সেটা দেখুন।
  • আপনার প্রতিযোগীরা তাদের দোকানের বাইরে গ্রাহক এর আকর্ষণ পাওয়ার জন্য কিভাবে কাপড়ের ডিসপ্লে করেছেন সেটা দেখুন।
  • Product display করার ক্ষেত্রে কোন কোন ধরণের কাপড় গুলো ব্যবহার করেছেন সেটা দেখুন।
  • প্রতিযোগীরা গ্রাহকের সাথে কিভাবে ব্যবহার করে থাকেন, তাদের দোকানের সময় এবং গ্রাহক দের কি কি সার্ভিস দেন সবটা যাচাই করে দেখুন।

৮. গ্রাহকের চাহিদা বুঝতে চেষ্টা করুন 

দেখুন, গার্মেন্টস এর ব্যবসার ক্ষেত্রে আপনাকে গ্রাহকের চাহিদা এবং রুচি বুঝতে চেষ্টা করতেই হবে।

এনাহলে, আপনি অধিক গ্রাহকের আকর্ষণ পাবেননা এবং ব্যবসাতে সফলতা পেতে সমস্যা হতে পারে।

তাই, যখন প্রত্যেক দিন আপনার দোকানে নতুন নতুন গ্রাহকেরা আসবেন, তখন তারা কি ধরণের কাপড় চাইছেন, নতুন ট্রেন্ড হিসেবে কাপড় চাইছেন নাকি কোনো অন্য ধরণের সবটা আপনার ভালো করে মনে রাখতে হবে।

প্রত্যেক area, city, location বা market হিসেবে সেখানে চলে আসা গ্রাহকের চাহিদা আলাদা আলাদা হতে পারে।

তাই, লোকেরা আপনার থেকে কি ধরণের cloth item / garments products চাইছেন, সেটাতে বিশেষ নজর দিতে হবে।

একবার যদি আপনি আপনার দোকানের কাপড়ের স্টকস গুলোকে গ্রাহকের চাহিদা হিসেবে ম্যানেজ করা শিখে নিতে পারেন তাহলে কাপড়ের ব্যবসাতে প্রচুর সফলতা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

৯. অনলাইন মার্কেটিং করুন 

অনলাইনে বিভিন্ন মাধ্যমে পণ্যের প্রচার করে লোকেরা আজ যেকোনো জিনিসের মার্কেটিং ঘরে বসেই ঘরে বসে থাকা গ্রাহকের কাছে করছেন।

যেমন, Facebook, YouTube, Instagram ইত্যাদি বিভিন্ন online social media প্লাটফর্ম গুলোতে নিজের দোকানের কাপড় গুলোর ফটো আপলোড করার ফলে অনেকেই অনলাইনেই কাপড়ের অর্ডার পেয়ে যাচ্ছেন।

তাই, আপনি যদি ইন্টারনেট এর ব্যবহার করে সঠিক মার্কেটিং কৌশল এর সাথে নিজের ব্যবসার প্রচার করতে পারেন, তাহলে সরাসরি গ্রাহক না আসলেও ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রচুর গ্রাহক পেয়ে যেতে পারবেন।

আমি কোনো নতুন কথা কিন্তু বলছিনা, আজ প্রচুর ব্যবসা গুলো রয়েছেন যারা কেবল ইন্টারনেটের মাধ্যমে পণ্যের প্রচার করে জাগায় বসে বসে গ্রাহক পেয়ে যাচ্ছেন।

তাই, নিজের ব্যবসার ক্ষেত্রে যদি ডিজিটাল মার্কেটিং এর কৌশল শিখতে পারেন, তাহলে অনেক লাভে থাকবেন।

 

আমাদের শেষ কথা,,

তাহলে বন্ধুরা, আজকের আর্টিকেলের মাধ্যমে আমরা কাপড়ের ব্যবসা করার নিয়ম গুলো জানলাম যেগুলো নতুন করে গার্মেন্টস কাপড়ের ব্যবসা শুরু করার জন্য অনেকটাই জরুরি। 

কাপড়ের ব্যবসা শুরু করার জন্য আপনাদের কি কি করতে হবে সেটা স্টেপ বাই স্টেপ আমি আপনাদের বুঝিয়ে দিলাম।

আশা করছি, কাপড়ের দোকান খোলার জন্য কি কি করতে হবে সেটা আপনারা ভালো করেই বুঝতে পেরেছেন।

আমাদের আজকের আর্টিকেল যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে, তাহলে অবশই আর্টিকেলটি সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করবেন।

এছাড়া, গার্মেন্টস ব্যবসা (cloth business / garments business) নিয়ে যদি আপনাদের মনে কোনো ধরণের প্রশ্ন বা পরামর্শ থাকে, তাহলে নিচে কমেন্ট করে অবশই জানিয়ে দিবেন। 

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error:
Scroll to Top
Copy link